বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খুলনার হাজী আবদুল মালেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জরাজীর্ণ

খুলনা অফিস : ভবন পরিত্যক্ত হয়েছে চার বছর আগে। স্থানীয় শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে বিকল্প স্থানে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু বিকল্প স্থান না থাকা ও ভবন সংস্কার না হওয়ায় পরিত্যক্ত ভবনেই বাধ্য হয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষের। আর এই চিত্র নগরীর হাজি আবদুল মালেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বলেছেন, বর্তমানে বিকল্প না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ সেই ভবনেই তারা পাঠদান করতে বাধ্য হচ্ছেন। ভবনের চিত্র না পাল্টালে যেন কোন সময় বড়ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, খানজাহান আলী সেতুসংলগ্ন দক্ষিণ লবণচরার মোক্তার হোসেন রোডের পাশে ১৯৮৫ সালে হাজি আবদুল মালেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পাঠদানের জন্য ১৯৯৩ সালে চার কক্ষবিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক ও ৩০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। ২০০৯ সালে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা চালু হওয়ার পর থেকে এই বিদ্যালয়ে পাসের হার শতভাগ। কিন্তু দীর্ঘদিন বিদ্যালয় ভবনটি পরিত্যক্ত হলেও সংস্কার হচ্ছেনা। এ নিয়ে চিঠি চালাচালি করেও কোন লাভ হয়নি। তাই স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা প্রতিদিন শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের পিলারগুলোর পলেস্তারা খসে লোহার রড বেরিয়ে পড়েছে। ভবনের ছাদ থেকে বড় বড় পলেস্তারা খসে পড়ছে। জানালাগুলোর একটিও ভালো নেই। দুটি কক্ষ এতটাই ব্যবহার অনুপযোগী যে সেখানে কোনো কাস নেয়া সম্ভব নয়। শিক্ষকেরা যে কক্ষটি ব্যবহার করছেন, তার ওপর টিনের ছাউনি। টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে। এর মধ্যেই কাজ করছেন শিক্ষকেরা।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাহেবুর রহমান পিটু মোল্লা বলেন, ‘সিটি মেয়র, স্থানীয় সাংসদ, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ভবনটি দেখে গেছেন। নতুন ভবন নির্মাণের ব্যাপারে তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিদ্যালয়টি সদর উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকার প্রথমে থাকলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। ছোট বাচ্চাগুলোকে নিয়ে আমরা বিপদে আছি।’
সহকারী শিক্ষক সঞ্জয় কুমার মন্ডল বলেন, ‘আমরা খুব বিপদে আছি। সব সময় আতঙ্ক কাজ করে। যে কখন না মাথার ওপর হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আখতার উদ্দীন খান বলেন, ২০১১ সালের ১৯ জুন ভবনটিতে পাঠদান না করানোর জন্য টিও স্যার চিঠি দেন। কিছুদিন পাশের এতিমখানায় কাস নিয়েছি। কিন্তু বর্তমানে কোনো বিকল্প নাই। এদিকে স্কুলে প্রচুর উপস্থিতি। বসানোর জায়গা নেই। যেখানে যতভাবে বলা সম্ভব ভবনটির কথা জানিয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার তো আমারও। চাকরির বয়স পাঁচ বছর আছে। শেষ সময়ে না জানি জেল খাটতে হয়।
খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পারভীন জাহান বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা অধিদপ্তরে পাঠাই। সেখান থেকে বিষয়টা তারা দেখে। এতগুলো বাচ্চাকে অন্য জায়গায় শিফট করাতে না পারলে বিপদ হতে পারে। আমি জেলা পরিষদের সঙ্গে আলাপ করে কিছু করা যায় কি না, দেখব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ