রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

এমন সভ্যতাকে কী নাম দেয়া যায়?

বিভিন্ন ঘটনা বিশ্লেষণ করলে মনে হয় বর্তমান সভ্যতায় জুলুম-নিপীড়নের শিকার হওয়াটাই যেন মুসলমানদের জন্য অনিবার্য হয়ে উঠেছে। কৈশোরে কাশ্মীরের মুসলমানদের দুঃখ-দুর্দশার কথা পড়েছি পত্রিকায়। এরপর দেখেছি ফিলিস্তিনে মুসলমানদের উচ্ছেদ ও নিপীড়নের ঘটনা। আর এখন তা হয়ে উঠেছে বহুমাত্রিক। ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া, সিরিয়ায় মারণাস্ত্রের আঘাতে মুসলিম জনপদ বিধ্বস্ত হয়েছে। হত্যাকাণ্ড চলছে অব্যাহতভাবে। আর এখন তো মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে চলছে হত্যা, ধর্ষণ ও জাতিগত নির্মূল অভিযান। সভ্যতাগর্বী পরাশক্তি আমেরিকায়ও মুসলমানদের বসবাস বিপদজনক হয়ে উঠেছে। ২৭ নবেম্বর পার্স টুডে পরিবেশিত খবরে বলা হয়, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে যুক্তরাষ্ট্রকে মুসলিমমুক্ত করার হুমকি দিয়ে মসজিদে মসজিদে উড়ো চিঠি পাঠানো হচ্ছে। ২৬ নবেম্বর মুসলিম কমিউনিটির এক নেতা জানান, এ পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ার ৩টি মসজিদে এমন উড়ো চিঠি এসেছে। চিঠির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মুসলমানদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে এফবিআই’র দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন কেয়ারের পরিচালক হুসাইন আয়ালুস। এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ ধরনের চিঠিকে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতন চালানোর পূর্বাভাস বলে মনে করছে। উল্লেখ্য যে, গত ৮ নবেম্বর ট্রাম্পের জয়ের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে ট্রাম্প সমর্থকদের হাতে দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিমরা নির্যাতিত হচ্ছেন।
মার্কিন মুসলমানদের সংস্থা দ্য কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন (কেয়ার) দেশটির মসজিদগুলোর জন্য বাড়তি নিরাপত্তার দাবি করেছে। ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের তিন মসজিদে মুসলমানদের হুমকি দেয়ার পর এ দাবি করা হয়। কেয়ার বলেছে, চিঠি তিনটি একই হাতের লেখা। ফটোকপি করে চিঠিগুলো ইসলামিক সেন্টার ফর লং বিচ, দ্য ইসলামিক সেন্টার অব ক্লেরেমানন্টো এবং দ্য এভারগ্রিন ইসলামিক সেন্টার ইন সানজোস, লস এ্যাঞ্জেলসে পাঠানো হয়েছে। এতে মুসলমানদের নোংরা ভাষায় হুমকি দেয়া হয়েছে এবং চিঠিটি ‘আমেরিকান ফর বেটার ওয়ের’ নামে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নগরে নতুন শেরিফ বা আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা এসেছেন এবং তিনি হলেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকাকে ট্রাম্প আবার ঝকঝকে তকতকে করে তুলবেন বলে চিঠিতে দাবি করা হয়। এতে আরও বলা হয়েছে, মুসলমানদের হটিয়ে এ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করবেন ট্রাম্প। হিটলার ইহুদিদের যেভাবে নিধন করেছে, একইভাবে ট্রাম্পও মুসলমানদের হটিয়ে দেবেন। কেয়ারের লসঅ্যাঞ্জেলস শাখার নির্বাহী পরিচালক হুসাইন আয়ালুস বলেছেন, চিঠির ঘৃণাপূর্ণ বক্তব্য মুসলমানদের হতাশ করেছে। তিনি আরো বলেছেন, ট্রাম্পের পক্ষে প্রচারণার মাধ্যমে মুসলিম বিরোধী এমন মনোভাব তৈরি হয়েছে। পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার করেনি। অবশ্য এ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সানজোস পুলিশ বিভাগ। এখন দেখার বিষয় হলো, তদন্ত সঠিক পথে এগোয় কিনা। আর এখানে বলার মতো বিষয় হলো, বর্তমান সভ্যতার সেরা দেশ আমেরিকায় যদি সংখ্যালঘু মুসলমানদের জীবনযাপন এমন অবস্থায় এসে দাঁড়ায়, তাহলে এমন সভ্যতাকে আমরা কোন্্ নামে অভিহিত করবো?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ