বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল সারাদেশ

স্টাফ রিপোর্টার : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মুসলিম গণহত্যার তীব্র প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল সারাদেশ। জুমার নামাযে মসজিদে মসজিদে খুতবায় এ গণহত্যার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে বাদ জুমা লাখো মানুষের উপস্থিতিতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও রাজধানীর বিজয়নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় ও সিলেট চট্টগ্রামসহ সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে এ হত্যাকাণ্ড বন্ধে আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। আর শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে সীমান্ত খুলে দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেইটের প্রতিবাদ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন মগদস্যু আর সেনাবর্বরতায় কবর রচিত হচ্ছে মানবাধিকারের। রাখাইন রাজ্যে নিরীহ নিরস্ত্র রোহিঙ্গা মুসলিমদের অসংখ্য ঘরবাড়ি জ্বলছে। সেখানে পুড়ছে মানবতা। জ্বলছে মানুষ। জ্বলেছে মুসলিম সভ্যতা-সংস্কৃতি। সন্ত্রাসী আক্রমণে-আগ্রাসনে প্রাণ হারিয়েছে নারী, শিশু এবং বৃদ্ধসহ হাজারো মুসলিম। কোথায় আজ মানবতা? কোথায় মানবিকতা? কোথায় মানবিক বিবেকবোধ? কোথায় মানবাধিকারের ধ্বজাধারী গলাবাজরা? জাতিসংঘ কী করছে? কোথায় ওআইসি?
প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইেট সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আবদুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুরের মুনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।
হেফাজত ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মহানগর কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, প্রধান বক্তা ছিলেন মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী। বক্তব্য রাখেন- ঢাকা মহানগরীর সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আবদুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সহসভাপতি মুফতী ফয়জুল্লাহ, অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের, মুফতি তৈয়্যেব হোসাইন, মাওলানা মুহিউদ্দীন একরাম, মাওলানা যোবায়ের আহমদ, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা জসিমুদ্দীন, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা শেখ লোকমান হোসাইন, মাওলানা আলতাফ হোসাইন, মাওলানা ফখরুল ইসলাম, মাওলানা ফয়সাল আহমদ প্রমুখ। 
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, বার্মায় মুসলমানদের গণহত্যা চলছে, তা দেখে কোন মুসলমান চুপ থাকতে পারে না। আমি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মুসলমানদের রোহিঙ্গা মুসলিমদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি। বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে তাঁদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা।
প্রধান অতিথির বক্তব্য মহানগর কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস বলেন, ওআইসি মুসলমানদের রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। মুসলমানদের রক্ষার জন্য প্রয়োজন পৃথক জাতিসংঘ গঠন করুন। পার্শ্ববর্তী দেশের মুসলমানদের রক্ষার জন্য ইসলামী জিহাদ এখন ফরজে আইন হয়ে পড়ছে।
মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী সরকারের উদ্দেশে বলেন, আপনারা মুসলমানদের জন্য সীমান্ত খুলে দিন। প্রয়োজনে তাদের জন্য প্রাচীর ঘেরা শরণার্থী শিবির করুন। যদি টাকা না থাকে তবে এর খরচের দায়িত্ব হেফাজত বহন করবে। প্রয়োজনে আমার পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে ওদের জন্য কুরবান করে দেবো। আমাদের সর্বস্ব উজাড় করে দেবো।
এমন ভয়াবহ বর্বরতা দেখেও নির্বিকার সন্ত্রাসী সুচিকে শান্তিতে দেওয়া নোবেল পুরস্কার ফেরত নেওয়ার দাবি জানিয়ে মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, সু চি সাম্প্রদায়িক সংঘাতকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। মিয়ানমারের মুসলিমদের সুচির নেতৃত্বাধীন ক্ষমাতসীন দলের নিয়ন্ত্রিত সেনাবাহিনী পাখির মতো খুন করছে। এরপর তিনি শান্তিতে নোবেলজয়ী পরিচয় দিতে পারেন না।
বক্তারা বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন মগদস্যু আর সেনাবর্বরতায় কবর রচিত হচ্ছে মানবাধিকারের। রাখাইন রাজ্যে নিরীহ নিরস্ত্র রোহিঙ্গা মুসলিমদের অসংখ্য ঘরবাড়ি জ্বলছে। সেখানে পুড়ছে মানবতা। জ্বলছে মানুষ। জ্বলছে মুসলিম সভ্যতা-সংস্কৃতি। সন্ত্রাসী আক্রমণে-আগ্রাসনে প্রাণ হারিয়েছে নারী, শিশু এবং বৃদ্ধসহ হাজারো মুসলিম। কোথায় আজ মানবতা? কোথায় মানবিকতা? কোথায় মানবিক বিবেকবোধ? কোথায় মানবাধিকারের ধ্বজাধারী গলাবাজরা? জাতিসংঘ কী করছে? কোথায় ওআইসি?
এদিকে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে ঢাকা মহানগরী সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীল মাওলানা সৈয়দ মজিবুর রহমান, যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন, এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, ড. মেস্তাাফিজুর রহমান ফয়সল, প্রশিক্ষণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল হালিম, মাওলানা নোমান মাযহারী, অর্থ ও আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মো: মিজানুর রহমান, ওলামা বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক মো: আবদুল জলিল, আমিনুর রহমান ফিরোজ, মাওলানা নূরুল আলম আল মামুন প্রমুখ।
খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক বলেছেন, মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাঁচার অধিকার রয়েছে। মিয়ানমারে চলমান নির্মম নিষ্ঠুরতা বন্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাংলাদেশে আশ্রয়ের সুযোগ দিতে হবে। মিয়ানমারের জালিম সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জাতিসংঘ, ওআইসিসহ বিশ্ব সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর বর্বরতা বন্ধ করতে বাধ্য করতে হবে। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর গণহত্যা ও জাতিগত নির্মূল অভিযান বন্ধের দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত প্রতিবাদ দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সমাবেশ শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল বিজয় নগর পানির ট্যাংকির সামনে থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড় হয়ে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে এসে শেষ হয়।
এছাড়াও ইসলামী ছাত্র সমাজ, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ