শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

প্রত্যাশিত অগ্রগতিতে বাংলাদেশের টেক্সটাইল প্রিন্টিং ইন্ডাস্ট্রি

২০১৬ সালে এসে বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রত্যাশাগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে। এটি সম্ভব হয়েছে রি-ইঞ্জিনিয়ার্ড রফতানি এবং ধারাবাহিক অভ্যন্তরীণ ব্যয়ের ফলে। মুদ্রাস্ফিতিও কম পরিলক্ষিত হয়েছে, এর কারণ অধিক পরিমাণ রফতানি এবং পরিমিত আমদানি, যা বর্তমান অর্থনীতিতে একটি বিশাল উদ্বৃত্ত রেখেছে। বিশ্ব ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ সম্প্রতি নি¤œ আয়ের দেশ থেকে নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার প্রত্যাশা করছে।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের এই প্রত্যাশা পূরণে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতের ওপর দৃঢ়ভাবে নির্ভরশীল। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে বাংলাদেশের রফতানি ইন্ডাস্ট্রি এককভাবে ২৮,০৯৪.১৬ মার্কিন ডালার আয় করে যা, মোট রফতানির ৮২.০১%।  এ খাতে বর্তমানে বাংলাদেশে ৪,৩২৮টি কারখানা এবং ৪০ লাখ কর্মী রয়েছে। নিট গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি রফতানি থেকে প্রতি বছর গড়ে ১২,৭৯৭.২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে। 
রফতানিকৃত নিটওয়্যার প্রিন্টিং খাতে অগ্রগতি ও সাফল্য আনতে খুবই কম চেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানে নিট ওয়্যার গার্মেন্টেস খাতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রফতানিকারক হিসেবে বাংলাদেশের আরও অধিক রাজস্ব অর্জন করতে প্রিন্টিং খাতের সমস্যাগুলোর সমাধান করা প্রয়োজন। প্রিন্টিং টেক্সটাইলের কাঁচামালসমূহ যেমন-পোশাক উপকরণগুলো সরাসরি বিদেশ থেকে আসে। বাংলাদেশের টেক্সটাইল প্রিন্টিং-এর চাহিদা অনুযায়ী প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তির অভাবে প্রতি বছর বাংলাদেশের প্রচুর কার্যাদেশ প্রত্যাখ্যান হয়।
টেক্সটাইল প্রিন্টিং ইন্ডাস্ট্রির এই অভাব পূরণ করতে, বাংলাদেশ এখন এই শিল্পের আঞ্চলিক শীর্ষ দেশ ভারত ও চীন থেকে প্রয়োজনীয় পণ্যসমূহ এবং প্রিন্টিং সল্যুশন আমদানি করে। এমনকি, প্রিন্টিং পণ্যের অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে প্রস্তুতকারকদের সহায়তা করতে বাংলাদেশে কোনো প্রিন্টিং স্টুডিও পর্যন্ত নেই। বিদেশ থেকে প্রিন্টিং উপকরণসমূহ আমদানির কারণে বাংলাদেশকে প্রতি অর্থ বছরে বেশ মোটা অংকের প্রক্রিয়াকরণ ও আমদানি চার্জ গুণতে হয়। সম্প্রতি হাতে গোনা কয়েকটি বাংলাদেশী কোম্পানি প্রিন্টিং সল্যুশন সেবা দিচ্ছে, যেগুলো কি-না বিশ্বমানের দিক থেকে এখনও বেশ নিচে। বাংলাদেশের সবচেয়ে শীর্ষ স্থানীয় নিট গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি যেমন- স্কয়ার গ্রুপ, মেট্রো গ্রুপ, পদ্মা গ্রুপ, ফরটিস গ্রুপ তাদের প্রিন্টিং উপকরণ চাহিদা পূরণে ভারতের ডিসিসি থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ করছে। ওয়ান স্টপ প্রিন্টিং উপকরণ চাহিদা পূরণে ডিসিসি প্রিন্ট ভিশন এলএলপি বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয়। ওয়ান স্টপ টেক্সটাইল প্রিন্টিং সমাধানের ক্ষেত্রে তাদের সুদীর্ঘ ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আঞ্চলিক ব্যবসার ক্ষেত্রে তারা সিংহভাগ মার্কেট শেয়ার দখল করে আছে। ভারতের অন্য মার্কেট শেয়ার রয়েছে- এমএস প্রিন্টিং সল্যুশন, এসপিজি প্রিন্ট, এমটিইএক্স সল্যুশনসহ আরও অনেকের। এই খাতে বৃহৎ সম্ভাবনার কথা চিন্তা করে, শীর্ষ স্থানীয় আঞ্চলিক কিছু প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের প্রিন্টিং খাতের সম্পূর্ণ প্রিন্টিং সমাধান সেবার সাথে বিশ্ব মানের প্রিন্টিং স্টুডিও স্থাপনের আগ্রহ দেখিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশী তৈরি পোশাক খাত এবং প্রিন্টিং সল্যুশন সরবরাহকারী উভয়েই উপকৃত হবে, যা কিনা বাংলাদেশের উদীয়মান তৈরি পোশাক খাতে নতুন এক অধ্যায় যোগ করবে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ