বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

আমি কখনো অপশক্তির কাছে মাথানত করিনি -আইভী

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের জন্য নিজের জীবন বাজি রেখে কাজ করেছি নারায়ণগঞ্জবাসী তা জানে। আমি সব সময় আমার আদর্শ ও সততার সহিত কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমি কখনো কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করিনি। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় নগর ভবন প্রাঙ্গণে নাসিকের মেয়র পদ হতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠানোর পর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে তিনি এসব কথা বলেন। আইভী বলেন, জবাবদিহিতার মধ্যে গত ৫ বছরে আমি কাজ করেছি। আল্লাহকে হাজির নাজির রেখে আমি জনসেবা করেছি। আমি এক টাকাও দুর্নীতি করি নাই। সিটি করপোরেশনের অনেক উন্নয়ন হয়েছে জনগণের ট্যাক্সের টাকায়। শতভাগ ট্যাক্স আদায় না হওয়াটা আমার ব্যর্থতা। ৬০ ভাগ ট্যাক্স আদায় করা সম্ভব হয়েছে। আর আমি আমার সফলতা বলতে চাই না। আমি কী করেছি সেটা বিচার করবে জনগণ। গত ৫ বছরে ৬শ কোটি টাকার মতো কাজ হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৩শ কোটি টাকার মতো সরকার ও বাকি টাকা বিদেশী সংস্থার অনুদানে হয়েছে। তবে এখনও অনেক কাজ অসমাপ্ত রয়ে গেছে। আবার অনেক কাজ চলমান আছে। ৯ তলাবিশিষ্ট বহুতল নগর ভবন হচ্ছে। ২শ কোটি টাকা ব্যায়ে বাবুরাইলের খাল সৌন্দর্য্যরে কাজ চলমান আছে।
গত ৫ বছর ও এর আগে পৌরসভার ৮ বছর এ ১২ বছরে আমি এক মুহূর্তের জন্যও থেমে থাকি নাই। আমার বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র, অনেক অপপ্রচারের পরেও কাজ করেছি জনগণের কল্যাণে। তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতে ঢাকাতে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠকে তিনি সবাইকে নৌকা প্রতীকে কাজ করতে বলেছেন। আমি আশা করি সবাই এখন নৌকা প্রতীকেই আছেন। তবে আমি যখন এখানে ব্রিফিং করছি তখনো আমি মেয়র সেহেতু এখানে নেতাকর্মী আসাটা বোধগম্য নয়। তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যে যার মতো কাজ করছে। আশা করছি অচিরেই সবাই ঐক্যবদ্ধ হবো। আমি বিগত দিনের কাজের মূল্যায়ন হিসেবে আমার সততা হিসেবে আবারও নারায়ণগঞ্জবাসীর সেবা করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জবাসীকে নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছেন সেহেতু নারায়ণগঞ্জবাসীও সে প্রতীককে জয়ী করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আইভী জানান, তিনি বুধবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। অচিরেই হয়তো এখানে কাউকে নিয়োগ দিতে পারে।
আচরণ বিধি লঙ্ঘনে বিএনপি প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইভী বলেন, ‘আমি কোনো আচরণ বিধি লঙ্ঘন করি নাই। এমন হতো আমি প্রচারণায় সরকারি গাড়ি কিংবা সিটি করপোরেশনের নগর ভবন ব্যবহার করেছি তাহলে সেটা লঙ্ঘন হতো। আর এখনো তো লেভেল প্লেয়িংয়ের সময় আসেনি। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্দের পর এ ব্যাপারে কথা হবে।
২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর ওই বছরের ১ ডিসেম্বর শপথ গ্রহণ করে সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব শুরু করেন। এর আগে ২০০৩ সালের ১৬ জানুয়ারি বিলুপ্ত পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বিগত নির্বাচনের সময় মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশন গত ১৫ নবেম্বর একটি চিঠিতে জানিয়েছে হাইকোর্টে রিট থাকায় মেয়র পদে থেকে কোনো ব্যক্তি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক হলে অবশ্যই তাকে পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে।
প্রসঙ্গত নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২৪ নবেম্বর, বাছাই ২৬ ও ২৭ নবেম্বর আর প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৪ ডিসেম্বর। সবশেষ ২২ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ