শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

নাৎসি স্যালুটে ট্রাম্পের বিজয় উদযাপন ওয়াশিংটনে!

নাৎসি স্যালুটে ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয় উদযাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নব্য নাৎসীবাদীরা। দেশটির শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যকামী ‘অল রাইট’ গ্রুপের কাছ থেকে এমন স্যালুট পেয়েছেন তিনি। নব্য নাৎসীবাদী এ গ্রুপটি শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য ছাড়াও ইসলামভীতির প্রসার এবং নারীবাদের বিরোধিতায় সরব।
অ্যাডলফ হিটলারকে ‘হের হিটলার’ বলে অভিবাদন জানাতো সমর্থকরা। ১৯ নবেম্বর ২০১৬ শনিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্পের বিজয়োৎসব পালনকালে যেন উঠে এলো এমনই এক চিত্র। অনুষ্ঠানে এক বক্তা ‘হের ট্রাম্প’ বলে জোরালো  আওয়াজ দেন।
প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, অল রাইট মুভমেন্টের একজন নেতা রিচার্ড স্পেন্সার একটি সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন। এতে তিনি বলেন, আমেরিকা শ্বেতাঙ্গদের জন্য। এ সময় তিনি শ্বেতাঙ্গদের ‘সূর্যসন্তান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এ সময় তিনি যারা কখনও গ্রহ-উপগ্রহে পদচারণা করেনি তাদের সবচেয়ে ঘৃণ্য জীব হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
নাৎসি স্যালুটের আদলে উপস্থিত কিছু দর্শক তাদের বাহু প্রসারিত করলে রিচার্ড স্পেন্সার চিৎকার করে বলেন, ‘হের ট্রাম্প, হের আওয়ার পিপল, হের ভিক্টরি!’ বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান।
তবে গ্রুপটির এমন স্যালুট প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। যদিও নির্বাচনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নব্য নাৎসিবাদীদের সমর্থন পেয়েছিলেন তিনি। ট্রাম্পের পেছনে একযোগে কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যকামী গ্রুপগুলো।
নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাদের নিন্দা জানাই। এটা আমি অস্বীকার করছি এবং এর নিন্দা করছি।’
অল রাইট গ্রুপকে সক্রিয় করার কোনো ইচ্ছা তার নেই বলেও জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মধ্যে একটি ডানপন্থী মিডিয়া গ্রুপের প্রধান স্টিভ ব্যানন-এর মতো ব্যক্তিরাও রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রধান কৌশলগত উপদেষ্টা পদে নিয়োগ পেয়েছেন। স্টিভ ব্যানন-এর ওয়েবসাইট ব্রেইবার্ট-এ প্রকাশ্যেই বর্ণবাদী, যৌন বিষয়ক এবং অ্যান্টি সেমিটিক লেখা প্রকাশিত হয়। এসব লেখা পড়তেই লোকজন তার সাইটে প্রবেশ করেন। তার ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গেও সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে ট্রাম্প বলেন, ব্রেইবার্ট একটি প্রকাশনা মাত্র। তারা আপনাদের মতোই বিভিন্ন সংবাদ কাভার করে থাকে। আমার যদি মনে হয় যে, তিনি একজন বর্ণবাদী ছিলেন অথবা অল রাইট সমর্থক তাহলে আমার প্রশাসনে তার নিয়োগের বিষয়ে চিন্তাভাবনারও অবকাশ থাকবে না।’
এদিকে মঙ্গলবার জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেল মেরকেল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ট্রাম্পের জয় শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যকামীদের জন্য ত্রাণকর্তার মতো আবির্ভূত হতে পারে। ‘হের ট্রাম্প’ ভিডিওকে ‘বিভৎস ও ভয়ঙ্কর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্রশাসনে এরইমধ্যে নাম উঠেছে কট্টর ইসলামবিরোধীদের। এ নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগ-আতঙ্ক কাজ করছে মুসলিম বিশ্বে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। এদের মধ্যে রয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য প্রধান কৌশলগত উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন এবং সম্ভাব্য অ্যাটর্নি জেনারেল সিনেটর জেফ সেশন্স। তাদের কট্টর ইসলামবিরোধিতার অতীত নজির থাকায় বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ইসলামের বিরুদ্ধে একটা দীর্ঘ যুদ্ধে জড়িয়ে যাচ্ছে। স্বভাবতই এটা সহজে থামবে না।
মুসলিমদের বিষয়ে স্টিভ ব্যানন থেকে শুরু করে মাইকেল ফ্লিন, জেফ সেশন্সের আক্রমণাত্মক বক্তব্য এমন আতঙ্কের পেছনে কাজ করছে। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুসলিমবিদ্বেষী টুইট করেন মাইকেল ফ্লিন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘মুসলিমদের নিয়ে আতঙ্কিত হওয়াটা যৌক্তিক।’ বেশ কয়েকবার মুসলিমদের ‘ক্যান্সার’ রোগের সঙ্গেও তুলনা করেন তিনি। প্যারিস হামলার পর আমেরিকায় সাময়িকভাবে মুসলিমদের প্রবেশের বিরোধিতা করেন ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য অ্যাটর্নি জেনারেল সিনেটর জেফ সেশন্স। তিনি ইসলামকে ‘বিষাক্ত মতাদর্শ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।
ট্রাম্পকে রুখে দিতে প্রস্তুত নিউ ইয়র্কের মেয়র
নিউ ইয়র্কে বাস করা নাগরিকদের পরিচয় সংক্রান্ত কোনো তথ্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দেয়া হবে না। মুসলিম অভিবাসীদের আলাদাভাবে নিবন্ধনের চেষ্টা করা হলেও তা প্রতিহত করা হবে। আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হওয়ায় আতঙ্কগ্রস্ত অভিবাসীদের এই ভাষাতেই আশ্বস্ত করলেন নিউইয়র্কের মেয়র ডি ব্লাজিও।
আর রাজনৈতিক মহলের মতে, এমন মন্তব্য করে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করে দিলেন মেয়র ডি ব্লাজিও। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রচারের সময় মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য এবং অবৈধ অভিবাসীদের আমেরিকা থেকে বের করে দেয়ার ঘোষণা করে কঠোরভাবে সমালোচিত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে মুসলিম সম্প্রদায় ও অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনে যে অতি রক্ষণশীলরা স্থান পাবেন বলে শোনা যাচ্ছে তারাও ট্রাম্পের ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন চান। সেক্ষেত্রে পরবর্তী পরিস্থিতি কী হবে, তা নিয়ে আতঙ্ক বাড়ছে। এই অবস্থায় নিউ ইয়র্কের মেয়র ডি ব্লাজিওর বক্তব্য আশ্বস্ত করেছে অভিবাসীদের।
মেয়র স্পষ্টই জানিয়েছেন, আমেরিকায় মুসলিমদের নাম তালিকাভুক্তির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করা হবে। নিউ ইয়র্কে ইস্যু করা কোনো পরিচয়পত্রের তথ্য ফেডারেল সরকারকে দেয়ার অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করা হবে।
মেয়র জানিয়ে দেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হওয়াই শেষ কথা নয়। এটাকে শুরু বলা যেতে পারে। অভিবাসী পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য কোনও চেষ্টা চালালে তা মেনে নেবে না নিউ ইয়র্ক। এটাই আমেরিকার ঐতিহ্য-সংস্কৃতি। নিউ ইয়র্কের পুলিশ কমিশনার জেমস ও’নিল বলেন, ৮ নবেম্বর নির্বাচনের পর নিউ ইয়র্কে বিদ্বেষপূর্ণ অপরাধের সংখ্যা বেড়ে গেছে। গত ১৩ দিনে শহরে ২৮টি বিদ্বেষপূর্ণ অপরাধের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ভাবাই যায় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ