বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দেয়ার আহ্বান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের

স্টাফ রিপোর্টার : মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে বাংলাদেশের মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাও করার দাবি জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা। মানবিক কারণে নির্যাতিত উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা। একইসঙ্গে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী ও শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সাং সূচির নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হয়েছে।
গতকাল বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট বার ভবন প্রাঙ্গণে এক মানববন্ধনে আইনজীবীরা এ দাবি জানান। সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন এ মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজন করেন। কর্মসূচি থেকে আগামী রোববার সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেন সমিতির নেতৃবৃন্দরা। মানববন্ধনে অংশ নিয়ে নির্যাতন বন্ধের দাবির প্রতি সংহতি জানান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া। তবে তিনি কোনো বক্তব্য রাখেননি।
মানববন্ধনে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, যারা সব সময় শান্তির কথা বলেন তারা আজ কোথায়? মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের অধিকার আজ ভুলুন্ঠিত হচ্ছে। চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে মানবাধিকার। জাতিসংঘ যদি এ হামলা বন্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিতে পারে তাহলে আমরা মনে করবো জাতিসংঘ একটি কাগুজে বাঘ। 
সাবেক সভাপতি এডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, মিয়ানমারে যা ঘটছে তা মানবাধিকারের চরম লংঘন। পৈশাচিক এ কর্মকা-ের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের একটি প্রতিনিধি বাংলাদেশস্থ জাতিসংঘ অফিসে দেখা করবে বলে আমি আশা করি। এরপরও জাতিসংঘ এই হামলা বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে প্রয়োজনে জাতিসংঘ মিশন ঘেরাও করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আমরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের আর্তনাদ দেখতে পাই। সেখানে সন্তানের লাশ নিয়ে মাকে আহাজারি করতে হচ্ছে। এসব দৃশ্য জাতির বিবেককে নাড়িয়ে দিচ্ছে। সেখানে তারা আর্তনাদ করছে যে, আমাদেরকে বাংলাদেশে কারাগারে হলেও রাখেন। তিনি বলেন, এই কর্মসূচি কোনো দলের নয়। এখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি সব দলের আইনজীবীরাই উপস্থিত হয়েছেন। কারণ মানবতাকে বাঁচাতে হবে।
এ অবস্থায় সাধারণ আইনজীবীদের দাবি অনুযায়ী বাংলাদেশে জাতিসংঘ অফিসের সঙ্গে আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধি দেখা করবে বলেও উল্লেখ করেন মাহবুব উদ্দিন খোকন।
তিনি বলেন, আমরা সমিতির পক্ষ থেকে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা করবো। এ ছাড়াও এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আমরা দেখা করে নির্যাতন বন্ধের দাবি জানাবো। তবে প্রাথমিকভাবে আগামী রোববার সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করছি।
এডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত কোটি উদ্বাস্তু লোককে আশ্রয় দিয়েছিল। অথচ আমরা রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে পারছি না। নির্যাতিত মানুষ প্রাণভয়ে ফিরে আসলেও আমরা তাদেরকে পুশব্যাক করে ফিরিয়ে দিচ্ছি। অথচ চীন ও ফিলিপাইন এসব রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছে। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন তার দেশে এক ইঞ্চি খালি জায়গা থাকা পর্যন্ত তিনি শরণার্থী গ্রহণ করতে থাকবেন।
মানববন্ধনে এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ বি এম নুরুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্ট বারের সহ-সভাপতি এডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, এডভোকেট কেএম সাইফুদ্দিন, এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, এডভোকেট আজহার উল্লাহ ভূঁইয়া, বারের সাবেক সহ-সম্পাদক এডভোকেট মো.সাইফুর রহমান, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, এডভোকেট সালেহউদ্দিন প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ