বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

নির্বিচারে ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা চলছে

স্টাফ রিপোর্টার : রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর বর্বর গণহত্যার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগরীর দুই শাখাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সমাবেশে জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও স্থানীয় সন্ত্রাসীরা পুরা রাখাইন রাজ্যকে নরকে পরিণত করেছে। সেখানে গত প্রায় দেড় মাস ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৪ শতাধিক মুসলামনকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। শতাধিক নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে সাড়ে তিন হাজার ঘরবাড়ি। গৃহহীন হয়ে পড়েছেন ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ। ধর্ষণের পর কাউকে কাউকে হত্যা করার ঘটনাও ঘটেছে। নির্বিচারে ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা চলছে। তারা মিয়ানমারের মুসলমানদের উপর চালানো নির্মম গণহত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং রোহিঙ্গাদের রক্ষায় জাতিসংঘ, ওআইসিসহ বিশ্বসংস্থাগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
ঢাকা মহানগরী উত্তর : জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন বলেছেন, মিয়ানমানমার বর্গীদের রোহিঙ্গাদের উপর চালানো বরর্বতা ও নির্মমতা হালাকুখানের বাগবাদ ধবংসের নির্মমতাকেও হার মানিয়েছে। নির্বিচারে চলছে ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা। সেনাবাহিনীসহ স্থানীয় সন্ত্রাসীরা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার বাড়িঘরে হামলা, লুট-তরাজ, অগ্নিসংযোগ ও নারীদের গণধর্ষণ চালাচ্ছে। তিনি মিয়ানমারের মুসলমানদের উপর চালানো নির্মম গণহত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং রোহিঙ্গাদের রক্ষায় জাতিসংঘ, ওআইসিসহ বিশ্বসংস্থাগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
গতকাল রাজধানীতে কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত এক বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে তিনি একথা বলেন। বিক্ষোভ মিছিলটি মিরপুর ১০নং গোল চত্বর থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য মাহফুজুর রহমান, মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক আনোয়ারুল করিম, মোস্তাফিজুর রহমান, আশরাফুল আলম, নাসির উদ্দীন, ডা. শফিউর রহমান, আবুল ফজল, জসিম উদ্দীন ও একেএম সোলাইমানসহ বিভিন্ন থানার সেক্রেটারিগণ।
তিনি বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও স্থানীয় সন্ত্রাসীরা পুরা রাখাইন রাজ্যকে নরকে পরিণত করেছে। সেখানে গত প্রায় দেড় মাস ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৪ শতাধিক মুসলামনকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। শতাধিক নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে সাড়ে তিন হাজার ঘরবাড়ি। গৃহহীন হয়ে পড়েছেন ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ। ধর্ষণের পর কাউকে কাউকে হত্যাও করার ঘটনাও ঘটেছে। ঘাতকদের নারকীয় তা-ব এখনো অব্যাহত আছে। প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গা মুসলমানরা বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করলে বাংলাদেশ সরকার তাদেরকে বাধা দিচ্ছে। মূলত সরকার রোহিঙ্গাদের রক্ষায় কোনো ভূমিকা তো পালন করছেই না বরং তাদেরকে আবারও ঘাতকের মুখেই ঠেলে দিচ্ছে। তিনি আন্তর্জাতিকভাবে জনমত তৈরি ও রোহিঙ্গাদের রক্ষায় সরকারকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
তিনি বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ পুরো রাখাইন রাজ্যকে বধ্যভূমিতে পরিণত করেছে। ‘সেনাবাহিনী বিভিন্ন পাড়ার বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। মুসলমানদের সহায়-সম্পদ লুন্ঠন করা হচ্ছে। লোকজনকে গুলী করে হত্যা করে লাশের সাথে পৈশাচিক আচরণ করছে। প্রতিনিয়ত পোড়া লাশের গন্ধ বাতাসে ভেসে আসছে। ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে লোকজন যখন বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে, তখন হেলিকপ্টার গানশিপ থেকে গুলীবর্ষণ করে তাদের হত্যা করা হচ্ছে।’ ‘রোহিঙ্গারা যেখানে গিয়ে লুকাচ্ছে, সেখানে রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময়ে পথেঘাটে, খালে নদীতে তাদের মেশিনগান দিয়ে গুলী করে মেরে ফেলা হচ্ছে।’ তিনি নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের রক্ষায় বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষকে সোচ্চার হওয়া এবং মানবিক সাহায্য প্রদানের জন্য আহবান জানান।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ : জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সবুর ফকির বলেছেন, রোহিঙ্গাদের আর্তনাদে রাখাইন রাজ্যের আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে ওঠেছে। গ্রামের পর গ্রাম পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। প্রতিনিয়ত স্বজনহারাদের আহাজারী শোনা যাচ্ছে। অগণিত বনি আদম আশ্রয় নিচ্ছে বনে-জঙ্গলে বা কোনো উন্মুক্ত স্থানে। জীবন বাঁচাতে কেউ কেউ সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করছে। কিন্তু সরকার তাদেরকে আশ্রয় না দিয়ে উল্টো তাদেরকে বর্মী ঘাতকদের মুখেই ঠেলে দিচ্ছে। তিনি মিয়ানমারে গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানান এবং রোহিঙ্গাদের আশ্রয়সহ রোহিঙ্গাদের বাঁচাতে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের আহবান জানান।
গতকাল রাজধানীতে কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত এক বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে তিনি একথা বলেন। বিক্ষোভ মিছিলটি গেন্ডারিয়া রেল স্টেশন থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জুরাইনে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শিবিরের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি রিয়াজ উদ্দীন, সেক্রেটারি শফিউল আলম, জামায়াতে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য ডা. খন্দকার আবু ফতেহ, নিজামুল হক নাঈম, আব্দুর রহীম ও শাহজাহান খান, জামায়াত নেতা মহীউদ্দীন, বোরহান উদ্দীন, আনোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ আলী, ছাত্রনেতা আবদুল হামিদ, কাজী মাসুম, মুজিবুর রহমান মঞ্জু, তারেক নাসরুল্লাহ ও নূরুজ্জামান প্রমুখ।
আব্দুস সবুর ফকির বলেন, ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ স্যাটেলাইটে ধারণ করা বিভিন্ন চিত্র বিশ্লেষণ করে বলেছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের একটি গ্রামের এক হাজারেরও বেশি বাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। গত ২১ নবেম্বর এক প্রতিবেদনে রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। জাতিসংঘ বলছে, সহিংসতার ঘটনায় এ পর্যন্ত সেখানকার ত্রিশ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। সেনাবাহিনী ৬৯ জন রাখাইনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তবে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, নিহতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি। এ পর্যন্ত সহ¯্রাধিক নাগরিককে তারা আটক করেছে বলে রাষ্ট্রীয় মাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। মূলত বর্মী বর্গীরা মুসলমানদের উপর নির্মম গণহত্যা চালিয়ে মাতম প্রকাশ করলে বিশ্ববিবেক রহস্যজনকভাবে নিরব। তিনি রোহিঙ্গাদের রক্ষায় জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ওআইসিসহ বিশ্বসংস্থাগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহবান জানান।
তিনি বলেন, রাখাইন প্রদেশের মংডু জেলার উত্তরে ঘটনার ভয়াবহতা অতীতের সকল রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় সাত দশক আগে থেকে রাখাইন প্রদেশে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের সূত্রপাত। নানান অজুহাতে ছলচাতুরিতে সে দেশের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষীরা বার বার নিপীড়ন চালিয়েছে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর। বর্বর অমানবিকতার সকল রেকর্ড ছাড়ানোর কথা বিশ্বজুড়ে পৌঁছে গেছে। উদ্বেগ উৎকণ্ঠা প্রকাশ করা হয়েছে। অনুরোধও জানানো হয়েছে জাতিসংঘসহ বিশ্বের শক্তিশালী সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু মিয়ানমার সরকার উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ও অনুরোধকে উপেক্ষাই করে চলেছে। উপরন্তু রোহিঙ্গা নিধন অভিযানের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।
 খুলনা অফিস : মিয়ানমার সরকার কর্তৃক পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে খুলনায় বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ বলেন, কোন রাষ্ট্র তার নাগরিকদের উপর এমন পরিকল্পিত গণহত্যা চালাতে পারে মিয়ানমারের এই ঘটনাই তার উল্লেখযোগ্য নজির। শান্তিতে নোবেল পাওয়া একজন নেত্রীর দেশে এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ বিশ্ববাসীকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে। শুধু মুসলিম পরিচয়ের কারণে রোহিঙ্গাদের উপর বার বার গণহত্যা চালানো হচ্ছে। তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। নিপীড়নের শিকার হয়ে রোহিঙ্গা মুসলীমরা বছরের পর বছর মানবেতর জীবন যাপন করছে। তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। মানবাধিকার সংগঠনের রিপোর্ট অনুযায়ী সরকারের চলমান হামলায় প্রায় পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয়েছে। আর বাড়িঘর হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা। কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনা মহানগরী জামায়াতে উদ্যোগে বুধবার সকালে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ নেতৃবৃন্দ এ সব কথা বলেন।
বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যাপক মাহ্ফুজুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন মো. আবু নাঈম, মো. এ রহমান, মো. সাইফুল্লাহ, আবু ইমরান, মো. মোশাররফ হোসেন, মো. খালিদ হোসেন প্রমূখ।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, অন্য সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে পশ্চিমা দেশ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো তড়িৎ গতিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে তারা দায়িত্বহীন ভূমিকা পালন করছে। একই সাথে জাতিসংঘসহ বিশ্ব সংস্থাগুলো কার্যকর ভূমিকা পালন করছে না। অন্যদিকে লজ্জাজনকভাবে ওআইসি, আরবলীগসহ মুসলীম সংস্থাগুলোও কার্যকরভাবে এগিয়ে আসছে না। যা রোহিঙ্গাদের উপর নৃশংসতা চালাতে মদদ যোগাচ্ছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে মিয়ানমারের নিরীহ রোহিঙ্গাদের উপর হত্যাযজ্ঞ বন্ধ এবং তাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
বরিশাল অফিস : মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর সেদেশের সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে বরিশাল নগর জামায়াতের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকালে নগরীর নথুল্লাবাদে এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন নগর জামায়াতের অন্যতম নেতা মীর মাবুবুর রহমান ও মোঃ শাহিন আলম।
মিছিল শেষে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের মুসলমানদের উপর সেদেশের সরকারী বাহিনী বিনা কারণে হামলা নির্যাতন ও ব্যাপক গণহত্যা চালিয়ে মানবতার বিরুদ্ধে আপরাধ করছে। তারা বর্তমানে রোহিঙ্গা অঙ্গরাজ্যে  নিরাপরাধ মুসলমানদের উপর হত্যাযজ্ঞ এবং তাদের বাড়িঘরে নির্বিচারে অগ্নিসংযোগ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ ব্যাপক লুটপাট চালাচ্ছে। সরকারী বাহিনীর নির্যাতনে হাজার হাজার মানুষ উদ্ভাস্তু হয়ে সিমান্তে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে কিন্ত সেখানেও পার্শবর্তী রাষ্ট্র তাদের সাথে মানবিক আচরণ করছে না। রোহিঙ্গা মুসলমানরা বর্তমান সময়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী বর্বর নির্যাতনের শিকার। বার্মার সরকারের মদেেদ এই হত্যাযজ্ঞ ও মানবিক বিপর্যয়ের কারণে যারা আজ ভিটামাটি ছাড়া আমরা তাদের রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ দাবী করছি। আপরদিকে অবিলম্বে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর নির্যতন বন্ধ করে তাদের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে সে দেশের সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। তা না হলে বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ঝড় উঠবে। বক্তারা এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারকে রাষ্ট্রিয়ভাবে এর কড়া প্রতিবাদ এবং সীমান্তে অসহায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয়সহ তাদের পাশে দাঁড়ানোর জোর আহবান জানান।
গাজীপুর সংবাদদাতা : মিয়ানমারে মুসলিম গণহত্যার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের  উদ্যোগে বুধবার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর ইবনে ফয়েজের নেতৃত্বে মহানগরের ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা সংলগ্ন বাইপাস এলাকায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন গাজীপুর মহানগর সেক্রেটারি মোঃ খায়রুল হাসান, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ হোসেন আলী, সাংগঠিনক সেক্রেটারি আফজাল হোসাইন, জামায়াত নেতা এখলাসউদ্দীন, মোশাররফ হোসাইন, আ স ম মামুন, আশরাফ আলী কাজল, জিয়াউর রহমান, গোলাম মোস্তফা, ছাত্রশিবির মহানগর সভাপতি ইমতিয়াজ আহমদ, শিবির নেত মিজানুর রহমান, অলিউল্লাহ প্রমুখ।
মিছিলটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে বাসন সড়ক এলাকায় এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় মহানগর আমীর ইবনে ফয়েজর বলেন, মিয়ানমারে আজ ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা চলছে। এমনকি নারী ও শিশুরা পর্যন্ত নির্যাতন থেকে রেহাই পাচ্ছেনা। জীবন্ত মানুষকে জলন্ত আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হচ্ছে, নিজেদের ঘর-বাড়ি থেকে বিতাড়িত করা হচ্ছে। এমন নৃশংস হত্যাযজ্ঞ বন্ধে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে তিনি বিশ্বসম্প্রদাযায়ের কাছে আহবান জানান। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারকে বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানাতে এবং সীমান্তে আশ্রয় গ্রহণের জন্য আসা অসহায় মানুষগুলোর প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানান। এছাড়া একই দাবীতে জেলার কালিয়াকৈর জামায়াতের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পাবনা সংবাদদাতা : মিয়ানমারে মুসলমানদের ওপর গণহত্যা বন্ধের দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে  বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী পাবনা জেলা শাখা। মিছিলটি গতকাল বুধরার সকাল ১০ টার সময় শহরের চাঁপা মসজিদ থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে দই বাজার মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ করা হয়। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে মিয়ানমারের গৃহহারা ও বিতাড়িত মুসলমানদের জীবন বাঁচাতে, মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়ার আহ্বান জনিয়েছেন। মিছিলে জেলা, সদর উপজেলা, পৌর জামায়াত ও শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ময়মনসিংহ সংবাদদাতা : রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ময়মনসিংহ শহর শাখা।
মিছিলটি শহরের ফুলবাড়ীয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলের নেতৃত্ব দেন ময়মনসিংহ শহর আমীর কামরুল আহসান ইমরুল।
মিছিল পরবর্তী সমাবেশে তিনি নিরীহ রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর বর্বর নির্যাতন ও গণহত্যার তীব্রনিন্দা জানান। অবিলম্বে মিয়ানমারে মুসলিমদের উপর গণহত্যা বন্ধ করে তাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
একই সাথে জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংস্থা ও বিশ্ববাসীকে এই বর্বরতার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। আর মুসলিম বিশ্বকে দ্রুত মিয়ানমারের মুসলিমদের রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এসময় মহানগর ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ফেনী সংবাদদাতা : রোহিঙ্গা মুসলমাদের গণহত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে গতকাল বুধবার ফেনীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে ফেনী শহর জামায়াতে ইসলামী। সকালে শহরের ট্রাংক রোড থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়। মিছিলে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা : মিয়ানমারে মুসলিম সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী সিরাজগঞ্জ শহর শাখা। বুধবার দুপুর তিনটার দিকে শহর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য এস আলমের নেতৃত্বে মিছিল শহরের কালিবাড়ি বাজার হতে শুরু হয়ে স্থানীয় গৌড়ি আরবান উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলে আরো উপস্থিত ছিলেন শহর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আব্দুল কাদেরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। মিছিল থেকে মিয়ানমারে মুসলিম গণহত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
শাহরাস্তি (চাঁদপুর) সংবাদদাতা : মিয়ানমারে সেনাবাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শাহরাস্তি উপজেলা শাখা। গতকাল বুধবার উপজেলার শাহরাস্তি গেইট থেকে শুরু হয়ে ঢাকা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্যদিয়ে সমাপ্ত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত কয়েক দিন ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপরে যে বর্বরতা চলছে তা ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্টতম মানবাধিকার লংঘন। সেখানে শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে শত শত বাড়িঘর। এছাড়াও সাগরে ভাসছে শতশত নারী পুরুষ রোহিঙ্গা মুসলিম। তিনি বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করে বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য সীমান্ত খুলে দিন।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মমতাজুল ইসলাম বিএসসি, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি শেখ মিজানুর রহমান, পৌর জামায়াত সভাপতি মাওলানা মো. জাহাঙ্গীর আলম, টামটা দক্ষিণ ইউপি জামায়াত সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম পাটোয়ারী, শাহরাস্তি উপজেলা উত্তর শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোঃ শুক্কুর আলম, শহর সভাপতি মোঃ খোরশেদ আলমসহ স্থানীয় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা।
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা : কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উদ্যোগে বাদ আসর প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. রুহুল আমিন। সভায় চুয়াডাঙ্গা জেলা ও শহর শাখার নেতৃবৃন্দ অংশ গ্রহণ করেন। সভা থেকে মিয়ানমারের মুসলমানদের রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারসহ বিশ্বনেতৃবৃন্দের সোচ্চার হবার আহ্বান জানানো হয়।
পলাশ (নরসিংদী) সংবাদদাতা : নরসিংদীর পলাশে প্রাণ কোম্পানী সংলগ্ন রাস্তায় গতকাল সকালে জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামপ্রিয় তৌহিদী জনতার উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও অঙ্গ সংগঠনসহ ইসলামপ্রিয় তৌহিদী জনতা অংশ নেয়। মিছিলটি ভূইয়ার ঘাট থেকে আরম্ভ হয়ে প্রাণ গেইট হয়ে জামালপুর ঘাটে এসে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয়। সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় বক্তারা বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারের কাছে অবিলম্বে মুসলমানদের গণহত্যাসহ বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে তা বন্ধ করার জন্যও আহ্বান জানান। তৌহিদী জনতা আরো বলেন, সারা বিশে^র মুসলমানদের শরীর এক, তাই মিয়ানমারের মুসলমানদের শরীরে আগুন তথা সারা বিশে^র মুসলমানদের শরীরে আগুন লেগেছে। পরিশেষে মিয়ানমারের নাখাইন রাজ্যের শহীদী মুসলমানদের জন্য দোয়ার মাধ্যমে মিছিলের সমাপ্তি হয়।
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা : মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর ও হত্যার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নোয়াপুর এলাকায় এশিয়ান হাইওয়ে রোডে এক বিশাল বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা।
এসময় বিপুলসংখ্যক জামায়াত শিবির নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত নেতৃবৃন্দরা এক  বক্তব্যে বলেন, রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর নির্মম  চালানো মানবসভ্যতার জন্য এক কলংকজনক । আমরা অনতিবিলম্বে এই হত্যাকা- বন্ধের জন্য পৃথিবীর সকল দেশ, (ওআইসি) ও জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এসময় বক্তারা অং সাং সূচির নোবেল পুরস্কার ফিরিয়ে নেয়ার জন্য আহ্বান জানান। পরে রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য এক  দোয়ার মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ