বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সতর্ক থাকুন

সিলেট থেকে বাসস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার সেনাবাহিনীর সদস্যদের ঐক্যবদ্ধভাবে পবিত্র সংবিধান এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অভ্যন্তরীণ কিংবা বাহ্যিক হুমকি মোকাবিলায় সদা প্রস্তুত থাকার নিন্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী সেনা সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘পবিত্র সংবিধান এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য আপনাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে অভ্যন্তরীণ কিংবা বাহ্যিক যে কোন হুমকি মোকাবিলায় সদা প্রস্তুত থাকতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার বিকেলে জালালাবাদ সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের অধিনস্থ সদর দপ্তর ১১ পদাতিক ব্রিগেডসহ ৯টি ইউনিটের পতাকা অনুষ্ঠানে ভাষণকালে এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীকে দেশের সম্পদ এবং দেশের মানুষের ভরসা ও বিশ্বাসের প্রতীক আখ্যায়িত করে বলেন, তাই পেশাদারিত্বের গুণগত মান অর্জনের জন্য আপনাদের সকলকে পেশাগতভাবে দক্ষ, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সৎ এবং মঙ্গলময় জীবনের অধিকারী হতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী সেনা সদস্যদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি আস্থা, পারস্পরিক বিশ্বাস, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, কর্তব্যপরায়ণতা, দায়িত্ববোধ এবং সর্বোপরি শৃঙ্খলা বজায় রেখে কর্তব্য সম্পাদনে একনিষ্ঠভাবে কাজ করারও পরামর্শ দেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উন্নত ও পেশাদার সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ১৯৭৪ সালেই প্রতিরক্ষা নীতিতে দিক-নিন্দেশনা দিয়ে বলেছিলেন, ‘পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নদী সমগ্র দেশকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছে। সেনাবাহিনীকেও সেই মোতাবেক সক্ষমতার দিক থেকে স্বতন্ত্র ও প্রশাসনিকভাবে সামর্থ্যবান তিনটি কমান্ডে নিয়োজিত হতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৪ সালে জাতির পিতার সুদূরপ্রসারী সেই প্রতিরক্ষা নির্দেশনার আলোকেই আমরা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি জ্ঞানভিত্তিক পেশাদার বাহিনী হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলাম।
তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে আমরা সেনাবাহিনীর অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের নৈতিক ও মানসিক শক্তি এবং পেশাগত জ্ঞান বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়েছি।
অনুুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনা বাহিনী প্রধান আবু বেলাল মুহাম্মদ শফিউল হক, সেনা বাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লে জেনারেল আনোয়ার হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ উচ্চ পর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকতাগণ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নবগঠিত সদর দপ্তর ১১ পদাতিক ব্রিগেড এর পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছলে সেনাবাহিনী প্রধান আবু বেলাল মুহাম্মদ শফিউল হক, ১৭ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের জিওসি এবং সিলেটের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল আনোয়ারুল মোমেন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজের মাধ্যমে অভিবাদন জানায়।
প্যারেড শেষে প্রধানমন্ত্রী সিলেট সেনানিবাসে বিভাগীয় সদর দপ্তরসহ ৮টি স্থায়ী প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি সেনাবাহিনী প্রধান এবং আপনাদের সকলকে সেনাবাহিনীর অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখে বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গতকাল বুধবার ১৭ পদাতিক ডিভিশনকে আরও পূর্ণতা দেয়ার জন্য ১টি পদাতিক ব্রিগেডসহ ৯টি নতুন ইউনিটের পতাকা উত্তোলিত হলো। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ১৭ পদাতিক ডিভিশনের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আরও একটি পদাতিক ব্রিগেড সদরসহ ৯টি ইউনিটের শুভযাত্রা হতে যাচ্ছে। আজকের এই দিনটি সেনাবাহিনীর জন্য একটি অত্যন্ত আনন্দের দিন, পরিপূর্ণতা অর্জনের দিন।
 শেখ হাসিনা বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই নবগঠিত ব্রিগেড ও ইউনিটসমূহের বিক্রমশালী প্রতিটি সদস্য দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সকল বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে এই ডিভিশনের শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
হযরত শাহজালাল ও হযরত শাহ পরানের মাজার জিয়ারত
আরেক খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার দুপুরে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহ পরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।
প্রধানমন্ত্রী এর আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে সদ্য গঠিত ১১ পদাতিক ব্রিগেডের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দিনব্যাপী সফরে সিলেট পৌঁছেন।
বিভাগীয় এই শহরে পৌঁছেই প্রথমে তিনি হযরত শাহজালালের (রহ) মাজার জিয়ারত করেন।
তিনি সেখানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন।
এরপর তিনি শহরের উপকণ্ঠে হযরত শাহ পরানের (রহ.) মাজারে যান এবং সেখানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ