মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

তিন ভারতীয় সৈন্য হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার খবর নাকচ পাকিস্তানের

২৩ নবেম্বর, আল জাজিরা, এনডিটিভি, ডন: ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আততায়ীর হামলায় তিন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা সংলগ্ন মাচিলে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানী কমান্ডোরা ভারতীয় এলাকায় অনুপ্রবেশ করে এ হামলা চালিয়েছে। এসব কমান্ডোরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বর্ডার অ্যাকশন টিমের বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিন ভারতীয় সেনাকে হত্যার পর তারা পালিয়ে যায়।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ হত্যাকাণ্ডে দেশটির সংশ্লিষ্টতার খবর নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলোকেও ‘মিথ্যা’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রাজেশ কালিয়া জানান, হামলাকারীরা এক সেনার দেহ ছিন্নভিন্ন করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, কাপুরুষোচিত এই হামলার চরম প্রতিশোধ নেওয়া হবে। তবে এই হামলা পাকিস্তানী সেনারা চালিয়েছে নাকি কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী বিদ্রোহীরা চালিয়েছে তা স্পষ্ট করেননি ভারতীয় সেনা মুখপাত্র। টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর ‘কাপুরুষোচিত ও বর্বর এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন।
ভারতীয় সেনাদের প্রাণহানির আগে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে ভারতীয় সেনাদের গুলিতে চার বেসামরিক নিহত হওয়ার দাবি করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। সোমবার পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতরের এক বিবৃতিতে এমন দাবি করা হয়। পরে পাকিস্তানি বাহিনীর পাল্টা জবাবে ছয় ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেছে পাকিস্তান। সবমিলে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০-এ। এছাড়া সোমবার ওই আন্তঃসীমান্ত গোলাগুলির ঘটনায় আরও অন্তত ১৮ জন বেসামরিক আহত হয়েছে। তবে মঙ্গলবারের ঘটনায় পাকিস্তানের কোনও সংশ্লিষ্টতার না থাকার জোর দাবি করেছে ইসলামাবাদ।
উল্লেখ্য, পাঠানকোটের সেনাঘাঁটিতে জঙ্গি হামলা এবং পরবর্তীতে হিজবুল নেতা বুরহান ওয়ানিকে কথিত এনকাউন্টারে হত্যার পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা বাড়িতে থাকে। সাম্প্রতিক উরি সেনাঘাঁটিতে জঙ্গি হামলার পর আবারও জয়েশ ই মোহাম্মদের সংশ্লিষ্টতার প্রসঙ্গ তুলে পাকিস্তানকে দায়ী করতে শুরু করে ভারত।
পারস্পরিক দোষারোপ এবং এ নিয়ে আন্তর্জাতিক তৎপরতার এক পর্যায়ে ২৮ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাতে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতের সেনারা সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলোতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর দাবি করে। ঘটনার পর থেকে পাকিস্তান দাবি করে আসছে এটি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ছিল না, সীমান্ত সংঘর্ষ বা আন্তঃসীমান্ত গোলাগুলির ঘটনা ছিল। ঘটনাকে ভারতের দিক থেকে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ প্রমাণ করে তাদের সামরিক শক্তি জানান দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয় সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দাবিটি একটি ভ্রম। মিথ্যে প্রভাব তৈরির জন্য ভারতীয়রা ইচ্ছে করে এমনটা করছে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে ভারতের দাবিকৃত ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ যতোটা না জঙ্গিবিরোধী অভিযানের সাফল্য-ব্যর্থতার প্রশ্ন, তার থেকেও বেশি করে ভারত ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্ষমতা-আত্মমর্যাদা আর দম্ভের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। আর তখন থেকে কাশ্মির সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয় এবং প্রায়ই আন্তঃসীমান্ত গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে।
এদিকে জম্মু ও কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলা শুরু করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
নিহত এক সেনার অঙ্গহানিসহ তিন সেনাকে হত্যার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এ হামলা শুরু করা হয়েছে বলে দাবি ভারতীয় সেনাবাহিনীর।
এর আগে ওই তিন সেনা নিহতের ‘চরম প্রতিশোধ’ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল বাহিনীটি। বুধবারের এই হামলায় পাকিস্তানি সেনা চৌকিগুলো লক্ষ্য করে ভারতীয় বাহিনী ১২০ মিলিমিটারের ভারী মর্টারের গোলা নিক্ষেপ ও মেশিনগান থেকে গুলি করছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। 
পুঞ্চ, রাজৌরি, কেল ও মাচিলসহ জম্মু ও কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখার (ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত) পুরোটাই এখন উত্তপ্ত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। উপর্যুপরি হামলার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে জবাব দেওয়া আর যথেষ্ট নয় বলে ইঙ্গিত দিয়েছে বাহিনীটি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ