সোমবার ২৪ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

খালেদা জিয়ার প্রস্তাব তুলে ধরতে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ চাওয়া হয়েছে -মির্জা ফখরুল

দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেয়া রূপরেখা রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে দিতে চায় বিএনপি। এ জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সময় চেয়েছে বিএনপি। গতকাল সোমবার সকালে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে নিজ কক্ষে সাংবাদিকদেরকে এ কথা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, যেহেতু সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির নির্বাচন কমিশন গঠনের দায়িত্ব, সেহেতু তার কাছেই আমরা প্রস্তাবটি তুলে ধরতে চাই। এই প্রস্তাবটি অবশ্যই তার কাছে তুলে ধরবো আমরা।

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, গতকালই আমরা সময় চেয়েছি, তবে এখনও সময় পাইনি। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ উড়িয়ে দিলেও বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রস্তাবটি রাষ্ট্রপতি বিবেচনায় নেবেন বলে আশা করছে বিএনপি। ফখরুল বলেন, বিএনপি মনে করে, বর্তমান যে সংকট চলছে, সেটি নিরসনের একমাত্র উপায় হচ্ছে একটি নিরপেক্ষ সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন। আর রাষ্ট্রপতি যেহেতু কোনো দলের নয়, তিনি সবার। তাই আমরা আশা করি এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু করতে উদ্যোগ নিবেন। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবেন।

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ফেব্রুয়ারির শুরুতে। তার আগে নির্বাচন কমিশন গঠনে যখন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তখন গত শুক্রবার নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে একটি প্রস্তাব দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি সংবিধানে থাকা সার্চ কমিটির বদলে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত অথবা স্বাধীনতার পর এখন পর্যন্ত সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি এও বলেছেন, যতদিন এই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা না হবে, ততদিন আলোচনা চালাতে হবে। বিএনপি নেত্রীর এই প্রস্তাব উত্থাপনের পর পর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই প্রস্তাবকে অন্তঃসারশূন্য ও হাস্যকর বলে জানান, সংবিধানে যেভাবে আছে, সেভাবেই গঠন হবে নির্বাচন কমিশন। তবে এরপরও বিএনপির পক্ষ থেকে একাধিকবার আলোচনার আহ্বান জানিয়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি মনে করে একটি সুষ্ঠু অবাধ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসন করার কোনো উপায় নেই। সেই কারণে রাষ্ট্রপতির যে দায়িত্ব রয়েছে, তিনি রাষ্ট্রের অভিভাবক, তিনি কোনো দলভুক্ত মানুষ নন। উনার দায়িত্ব খালেদা জিয়ার প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন এবং এ সর্ম্পকে আলাপ-আলোচনা শুরু করার ব্যবস্থা নেবেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে সারা দেশেই কথা আছে শুধু নয়, তীব্র সমালোচনা আছে। যে নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রায় ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে কীভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু করা যায় এবং কমিশনকে একটি শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করা যায় সেজন্য বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বিএনপির পক্ষে একটি নতুন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করার জন্য প্রস্তাবনা দিয়েছেন। এই প্রস্তাবনা হচ্ছে জাতির উদ্দেশ্য। 

মির্জা ফখরুল বলেন, যেহেতু সংবিধান অনুয়ায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন করার দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির। তাই খালেদা জিয়ার এই প্রস্তাবটি বিএনপি অবশ্যই (রাষ্ট্রপতির) তার কাছে পাঠাবে। উনার কাছে প্রস্তাবটি পাঠানোর জন্য ইতিমধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে সময় চাওয়া হয়েছে। যদিও আমরা এখনো সময় পাইনি। তবে আমরা আশা করছি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে খালেদা জিয়ার প্রস্তাব উপস্থাপন করবার জন্য তিনি সুযোগ করে দেবেন। সেই অপেক্ষায় আছে বিএনপি। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, খালেদা জিয়া একজন দায়িত্বশীল জাতীয় নেতার মতোই নির্বাচন কমিশন নিয়ে প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে একটি  বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রত্যাশা করি বিএনপির অবস্থান ও সিদ্ধান্ত রাতেই জানতে পারবেন।

বিএনপি অতীতে সংলাপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, পুরানো কথা বলে লাভ নেই। সামনে নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন গঠন ও গণতন্ত্রের যে সংকট চলছে কিভাবে এর উত্তরণ ঘটানো যায় সেটা নিয়ে সরকারের আলাপ আলোচনা করা উচিত।

এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ মির্জা ফখরুলের সঙ্গে ছিলেন। 

 দোয়া মাহফিল: দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আশু রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া মাহফিল করেছে বিএনপি। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় বিএনপির পক্ষ থেকে এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে যোগ দেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আব্দুস সালাম আজাদ, মো. মুনির হোসেন, আ ক ম মোজাম্মেল হক, আসাদুল করিম শাহীন, আমিরুল ইসলাম আলীম, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ