সোমবার ২৪ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

রাজধানীসহ সারাদেশে বিএনপির বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার : দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রতিবাদে গতকাল সোমবার রাজধানীসহ সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিক্ষোভকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের আহত করেছে। গত ১৭ নবেম্বর  বৃহস্পতিবার সন্ধায় বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিক্ষোভ কর্মসূচীর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চেয়ারপার্সনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব মির্জ ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন আদালত। গত ১৭ নবেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম মাজহারুল ইসলাম এ পরোয়ানা জারি করেন। গ্রেফতার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২০১৭ সালের ২ মার্চ দিন ধার্য করেছেন এ আদালত।

বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত এ কর্মসূচির আলোকে গতকাল সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন থানায় থানায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা কর্মীরা। পান্থপথের লেক সার্কাস রোড এলাকায় দুপুর ২ টায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে কলাবাগান থানা বিএনপি। বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান সাঈদ, সাদেকুর রহমান টুটুল, মো. কুদ্দুস, আব্দুল মান্নান, শিপন খান, মো. শফিক ও আরিফ হোসেন মিছিলের নেতৃত্ব দেন। গাওয়াইর কাঁচা বাজার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে মাঝিবাড়ী রোড পর্যন্ত এলাকায় বিকেল ৪ টায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে দক্ষিণখান থানা বিএনপি। থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর আলীর নেতৃত্বে মিছিলে বিএনপি নেতা মো. শাহজালাল, রকিব উদ্দিন, আমিনুল ইসলাম বাবলু, আমান উল্লাহ আমান, মো. খোকনসহ নেতা কর্মীরা অংশ নেন।

ডেমারা থানা বিএনপি’র বিক্ষোভ মিছিল ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার সংলগ্ন ডেমরা-রামপুরা সড়কে সকাল ১০ টায় অনুষ্ঠিত হয়। থানা বিএনপি’র সহ সভাপতি, ডেমরা ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন রতনের নেতৃত্বে মিছিলে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়। বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন ও মিজানুর রহমান ভান্ডারীর নেতৃত্বে শহীদ ফারুক রোডে দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপি। মিছিলের স্থানীয় অঙ্গ সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

জুরাইন নতুন রাস্তায় দুপুর ২ টায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে শ্যামপুর থানা বিএনপি। থানা বিএনপি’র সভাপতি মজিবুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক আনম সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুব মাওলা হিমেল এ মিছিলের নেতৃত্ব দেন। থানা বিএনপি’র সভাপতি ইউনুস মৃধা ও সাধারণ এডভোকেট ফারুকুল ইসলামের নেতৃত্বে দুপুর ৩টায় স্থানীয় পল্লিমা সংসদ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। সকাল ১০ টায় শাহাবাগ থানা বিএনপি’র বিজয় নগর এলাকায় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম স্বপন, তৌহিদুল ইসলাম বাবু ও হযরত আলী এর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। একই থানায় সেগুনবাগিচা এলাকায় সকাল ১১টায় আরেকটি মিছিলের নেতৃত্ব দেন বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন নোয়াব, গোলাম সারওয়ার অপু, মোরশেদ আলম, মাহমুদ আহমেদ, হারুনর রশিদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। দয়াগঞ্জ নয়া রাস্তা এলাকায় মো. ফরিদ উদ্দিনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সূত্রাপুর থানা বিএনপি। মৌচাক সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় রমনা থানা, ওয়াসা রোড এলাকায় মুগদা থানা এবং সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বে বনানীর ওয়ারলেস গেইট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে লাথি ও লাঠিচার্জ করে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। এ সময় পুলিশ তাদের লাথি মারে, লাঠিচার্জ করে। এরপর তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দলসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নিয়ে পার্টি অফিস থেকে রাস্তায় যাওয়ার সময় পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে দলীয় ১০ নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আতোয়ার হোসেন বাবুল, কোষাধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান হাবিব চেয়ারম্যান, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হাসান সোহাগসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছাত্রদল নেতা মাহবুব হাসান সোহাগকে বেধড়ক লাঠিপেটা করে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

বিএনপির নেতারা জানান, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে বিভিন্ন স্থান থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা পার্টি অফিসে এসে জড়ো হয়েছিলেন। আহতদের সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মো. মফিজুর রহমান বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো লাঠিচার্জ করা হয়নি। দলীয় কার্যালয়ে তাদের সমাগম বেশি থাকায় আমরা অবস্থান করি। পরে আমাদের উপস্থিতি দেখে তারা বিভিন্ন স্থানে চলে যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ