সোমবার ২৪ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

সুন্দরবনে কাঠ পাচারকারীদের আবারও তৎপরতা বেড়েছে

খুলনা অফিস : পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের কিছু কিছু স্টেশন অফিস ও টহল ফাঁড়ির কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহয়তায় পাচার হচ্ছে সুন্দরবনের মূল্যবান সুন্দরী কাঠ। পাচার হয়ে আসা এ সকল কাঠগুলো এখন বিভিন্ন হাটবাজারে প্রকাশ্যে বিক্রয় ও বিভিন্ন স্-মিলে  চেরাই করা হচ্ছে। পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে, আইলার পরবর্তী সময় কয়েক বছর ধরে সুন্দরবনের সকল প্রকার কাঠ কর্তন, মধু সংগ্রহ এবং সুন্দরবন গহীনে সকল প্রকার মৎস্য আহরণের পাশপারমিট বন্ধ ছিলো। কিন্তু আবারও জেলেদের মৎস্য আহরণের পাশপারমিট দেয়া শুরু করায় সুন্দরবনের কাঠ পাচারকারীরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শীত মওসুম শুরু হওয়ায় এ কাঠ পাচারকারীর সদস্যরা রাতের আঁধারে বনের ভিতর প্রবেশ করে বিভিন্ন মূল্যবান কাঠ কর্তন ও পাচারে সক্ষম হন। নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক শর্তে নলিয়ার রেঞ্জের আওতাধীন সুন্দরবন সংলগ্ন বেশ কয়েকজন জানান, সম্প্রতি সময়ে সুন্দরবনের কাঠ পাচারকারীরা কাঠ পাচারে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।  তারা জানান, কাঠ পাচারকারী সদস্যরা সুতারখালী স্টেশন অফিসের কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেনসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে শতশত সিএফটি মূল্যবান কাঠ কেটে পাচার করছে। বন মামলা দেয়ার ভয়ে ওই সব অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।  সূত্র জানায়, দাকোপ উপজেলার কালিনগর বাজার, চালনা বাজার, বাজুয়া বাজার, বানিশান্তা বাজারগুলোতে দেশীয় কাঠের পাশাপাশি সুন্দরবনের সুন্দরী, কাঁকড়া, বাইন, কেওড়া, পশুরসহ নানা ধরনের কাঠ এখন বিক্রি হচ্ছে নানান দামে। এসব  বাজারের মধ্যে কিছু কিছু বাজারের স্-মিলে রাতের আঁধারে চেরাই করা হচ্ছে সুন্দরবনের নানা ধরনের মূল্যবান কাঠ। 

সুতারখালী স্টেশন কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি সত্য নয়, আমি এ স্টেশনে যোগদানের পর অনেকে তাদের স্বার্থ সিদ্ধি আদায় করতে না পারায় হয়তো তারাই এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার চালাতে পারে। পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকতা আবু সাঈদ আলী বলেন, অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মংলায় সিবিএ নেতার বাড়িতে ডাকাতি ঃ মংলার পশ্চিম শেলাবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা ও মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের এক সিবিএ নেতার বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দেশীয় অস্ত্রের মুখে ঘরের লোকজনকে জিম্মি করে ডাকাতরা নগদ টাকা, স্বর্নালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নিয়ে গেছে। 

সোমবার গভীর রাতে বাড়ির বসত ঘরের জানালার গ্রীল কেটে ভিতরে প্রবেশ করে ৬/৭ জনের মুখোশধারী ডাকাত। ডাকাতরা ঘরে ঢুকে সকলকে ধারালোর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ প্রায় অর্ধ লাখ টাকা, ৪ ভরি সোনার গহনাসহ অন্যান্য মালামাল লুটে নেয়। একই সাথে এ ঘটনা পুলিশকে না জানাতে বাড়ির গৃহকর্তা ও সিবিএ নেতা শওকতকে শাসিয়ে যায় ডাকাত দল।  এ ব্যাপারে মংলা থানার সেকেন্ড অফিসার মানজুর এলাহী জানান, ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত ও আটকে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে।  এর আগেও একইভাবে জানালার গ্রীল কেটে শেলাবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা পৌরসভার কর্মকর্তা মোঃ বাহাদুরের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। 

খুলনায়  অস্ত্র  মামলায় দুই বনদস্যুর ৩০বছর কারাদণ্ড : খুলনায় আগ্নেয়াস্ত্র বিস্ফোরকের পৃথক দু’টি ধারায় দুই বনদস্যুকে ৩০বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। অবৈধভাবে অস্ত্র রাখার অভিযোগে প্রত্যেককে ২০বছর ও গুলো রাখার অভিযোগে ১০বছর করে সর্বমোট ৩০বছল কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত। রোববার খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম এ রায় প্রদান করেন।  দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো, খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার আলাইপুর গ্রামের মো. শফিউদ্দিন শিকদারের ছেলে আমীর হোসেন শিকদার ওরফে রাংগা (৩২) ও নগরীর জিন্নাহপাড়ার সুবজ নেভীর বাড়ির ভাড়াটিয়া মৃত মন্তাজ উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে আবু তাহের হাওলাদার (৩৫)। রায় ঘোষণাকালে আবু তাহের হাওলাদার আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলো। অপর দণ্ডপ্রাপ্ত আমীর হোসেন শিকদার ওরফে রাংগা পলাতক রয়েছে। মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২২জুন খুলনার পূর্ব রূপসায় মডার্ন সী ফুড নামক একটি হিমায়িত মৎস্য প্রক্রিয়াজাত কারখানার পেছনে জনৈক শাহজাহান শেখের বাড়ির ভাড়াটিয়া ঘরে বনদস্যুরা আবস্থান করছেন এমন তথ জানতে পারে জেলা গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) প্রাপ্ত তথ্যের ভিতিত্তে ডিবির একটি বিশেষ টিম ওই দিন গভীর রাতে সেখানে অভিযান চালায়। একপর্যায়ে সেখান থেকে কিছু গুলোসহ রাংগা ও তাহেরকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা স্বীকার করে তাদের কাছে আরও অস্ত্র ও গুলী আছে। গ্রেফতারদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ডিবি সদস্যরা রাংগা ও তাহেরকে নিয়ে কয়র উপজেলার সুন্দরবনের শাকবাড়ীয়া জোড়া খাল এলাকায় যায়। সেখানে মাটির নিচ থেকে খুঁড়ে রাংগা ও তাহের কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র ও বেশ কিছু গুলী উদ্ধার করে।  উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে দশমিক টুটু বোরের রাইফেল একটি, দু’টি বিদেশী বন্দুক, ১৬টি বন্দুকের কার্তুজ, দশমিক টুটু বোরের  ৬৯ রাউন্ড গুলী ও তিনটি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ডিবির উপ-পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম বাদি হয়ে কয়রা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কয়রা থানার এসআই মো. নুরুল ইসলাম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট জেসমিন পারভীন জলি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ