বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

উ. কোরিয়ার পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টার অঙ্গীকার

১৯ নভেম্বর, ইয়োনহাপ : যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন জানিয়েছেন, নতুন প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকবে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক হুমকি মোকাবেলা করা। গতকাল শনিবার তার সঙ্গে সাক্ষাতের পর দক্ষিণ কোরিয়ার এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার ডেপুটি প্রেসিডেন্সিয়াল নিরাপত্তা উপদেষ্টা চো তায়ে-ইয়ংকে উদ্বৃত করে ইয়োনহাপ বার্তা সংস্থা এ খবর জানিয়েছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এ নিরাপত্তা উপদেষ্টা জানিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে তিনি কাজ করছেন। উভয় দেশের সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। নবনির্বাচিত ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন চো। ওয়াশিংটনে ফ্লিনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চো।
সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া চলতি বছর তাদের চতুর্থ পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে। দেশটির নেতা কিম জং উন পারমাণবিক অস্ত্র ও দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে বদ্ধ পরিকর।
৯ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পর জাতিসংঘ উত্তর কোরিয়ার ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। ট্রাম্পকে উদ্বৃত করে গত সপ্তাহে ইয়োনহাপ জানিয়েছিল, দক্ষিণ কোরিয়াকে রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন-হাই-এর সঙ্গে ফোনালাপে এ প্রতিশ্রুত দেন।
অবশ্য নির্বাচনি প্রচারণার সময় ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মার্কিন সেনাদের ফিরিয়ে নেওয়ার পক্ষে। যদি না সিউল খরচের একটা বিরাট অংশ বহন করেন। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।
ডিফেন্স ইনটেলিজেন্স এজেন্সির সাবেক প্রধান মাইকেল ফ্লিন নির্বাচনি প্রচারণার সময় নিরাপত্তা ইস্যুতে ট্রাম্পের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। যখন অন্য জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের প্রার্থিতার সমালোচনা করে যাচ্ছিলেন তখন তাকে সঙ্গ দিয়েছেন ৫৭ বছর বয়সী ফ্লিন। দুঃসময়ে পাশে থাকার পাশাপাশি ট্রাম্পের পররাষ্ট্র নীতি ইস্যুতেও তাকে বেশ সাহায্য করেছেন ফ্লিন। রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, মুসলিমবিদ্বেষসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি বিতর্কিতও। মাকিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পররাষ্ট্রনীতির প্রকাশ্য বিরোধিতা করতে দেখা গেছে ফ্লিনকে। ২০১৬ সালে ‘দ্য ফিল্ড অব ফাইট: হাউ উই ক্যান উইন দ্য গ্লোবাল ওয়্যার এগেইন্সট র্যাডিকেল ইসলাম অ্যান্ড ইটস অ্যালিজ’ নামের বইটি লেখেন ফ্লিন। তার সহলেখক ছিলেন রিগ্যান প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা মাইকেল লিডিন। বইয়ে ফ্লিন বলেছিলেন, ‘তথাকথিত রাজনৈতিক শুদ্ধতার পূজারী’ নন তিনি। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরটিতে নিয়মিত হাজির হওয়ার কারণেও ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে ফ্লিনের বিরুদ্ধে।
একবার চ্যানেলটির একটি অনুষ্ঠানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দুই সিট পড়েই বসে থাকতে দেখা গেছে তাকে। পরে অবশ্য ফ্লিন বলেছিলেন, তিনি সিএনএন কিংবা অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর থেকে আরটিকে আলাদা করে দেখেন না।
ফেব্রুয়ারিতে মুসলিমবিদ্বেষী টুইট করেন ফ্লিন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘মুসলিমদের নিয়ে আতঙ্কিত হওয়াটা যৌক্তিক’। তার সে টুইট কখনও প্রত্যাহার করা হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ