বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সীমান্ত লড়াইয়ে পাকিস্তানের দ্বিগুণ ভারতীয় সৈন্য নিহত

১৯ নবেম্বর, পার্স টুডে : গত কয়েক দিন ধরে সীমান্তে যে সংঘর্ষ চলছে তাতে ভারতীয় সেনা সদস্যরাই অনেক বেশি নিহত হয়েছে। পাকিস্তানের থেকে ভারতীয় বেশি সৈনিকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের শীর্ষ মিলিটারি কমান্ডার লেফট্যানেন্ট জেনারেল মালিক জাফর ইকবাল।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে কমান্ডার ইকবাল জানান, পাকিস্তানে মাত্র ২০ জন সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। আর ভারতের এই সংখ্যা অন্তত ৪০। এদিন গিলগিট-বালতিস্তান এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন ইকবাল। সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন সম্পর্কেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তার দাবি, ভারত যদি দিনের বেলায় গুলী চালায় তাহলে সন্ধ্যা নামার আগেই জবাব দেয় পাকিস্তান। আর রাতের বেলা গুলী চালালে, ভোরের আলো ফোটার আগেই গুলীতে জবাব দেয় পাকিস্তান সেনাবাহিনী।
ভারত নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ঢাকা দিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেই ভারতীয় সেনার গুলীতে মৃত্যু হয়েছে ৭ পাকিস্তান সেনা। আর সেকথা নিজেরাই স্বীকার করে নিয়েছে পাকিস্তান। ওইদিন ভারতের নিহত হয়েছিল ১৪ জন। কিন্তু ভারত তা স্বীকার করেনি।
সম্প্রতি মার্কিন পরমাণু বিজ্ঞানী হ্যানস ক্রিসটেনসেন এবং রবার্ট নরিস পাকিস্তানকে বিক্রি করা মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ববিমান সম্পর্কে বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছে তাদের বইয়ে। গুগুলের উপগ্রহ চিত্রে ধরা ছবি ও বিভিন্ন গুপ্তচর সংস্থার থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, পাকিস্তানকে বিক্রি করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, মার্কিন জেট এবং পাকিস্তান বিমানবাহিনীর ফ্রেঞ্চ মাইরেজ এখন পরমাণু অস্ত্রবহনে সক্ষম।
মার্কিন বিজ্ঞানী হ্যানস ক্রিসটেনসেন যিনি ‘নিউক্লিয়ার নোটবুক অন পাকিস্তান নিউক্লিয়ার ফোর্সেস’-এর সহ লেখক, জানিয়েছেন, এই তথ্য জানার পরও কৌশলগত কারণেই পাকিস্তানকে অস্ত্র বিক্রি করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। নিউক্লিয়ার ইনফরমেশন প্রজেক্টের ডিরেক্টর জানিয়েছেন, মার্কিন প্রশাসন চাইলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এর জন্যে জরুরি পদক্ষেপ নিতে পারে, কিন্তু এখন এরকম কোনো পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবছে না সেখানকার প্রশাসন।
বিজ্ঞানীদের দাবি, মনে করা হচ্ছে এফ-১৬ হলো পাকিস্তানের অস্ত্রভা-ারে প্রথম যুদ্ধবিমান যেটা পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম হয়েছে।
তাহলে কী বলা যেতে পারে পাকিস্তানের ওপর এখন কোনো দেশ যদি পারমাণবিক হামলা চালায়, তাহলে কী পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রত্যাঘাত করতে প্রস্তুত? এর উত্তরে বিজ্ঞানী ক্রিসটেনসেন জানিয়েছেন, এখনো পাকিস্তান সম্পূর্ণভাবে পরমাণু অস্ত্রে সজ্জিত না হলেও, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে। পাকিস্তান শুধু প্রত্যাঘাত আনতেই সক্ষম হবে না, চাইলে ছোট পরিসরের মিসাইল হানা চালাতেও সক্ষম হবে।

সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে ব্যয় ১১,৮৩০ কোটি ডলার
পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে ১১,৮৩০ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে। ২০০২ সাল থেকে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে দেশটির এ ব্যাপক অর্থ ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছে স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান বা এসবিপি।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ২০১৫-১৬ নামের প্রতিবেদনে এ তথ্য দিয়েছে এসবিপি। এতে পাকিস্তানের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অর্থনৈতিক খাত মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে দেয়া হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তানের মোট জিডিপির এক তৃতীয়াংশের বেশি অর্থ সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে ব্যয় হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে মার্কিন সরকার অনুমোদিত কোয়ালিশন সাপোর্ট ফান্ড বা সিএসএফ থেকে পাকিস্তান এ পর্যন্ত ১৪০০ কোটি ডলার পেয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়। সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে পাকিস্তানের মানুষ চড়া মূল্য দিয়ে চলেছে। অনেকে হতাহত হচ্ছে এবং বাস্তুভিটা হারিয়েছে অনেক পরিবার। সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াই পাকিস্তানে বিদেশি পুঁজি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করেছে। দেশীয় পুঁজি বিনিয়োগ এবং রফতানির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ