সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মিয়ানমারে ঐতিহাসিক মসজিদ আগুনে পুড়িয়ে দিল বৌদ্ধ জঙ্গিরা

১৮ নবেম্বর, সিএনএন/আরাকান নিউজ এজেন্সি : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বৌদ্ধ জঙ্গিরা সেখানকার একটি ঐতিহাসিক মসজিদে তাণ্ডব চালিয়েছে। মসজিদের অভ্যন্তরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কুরআন।
গত বুধবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উগ্রবাদী ও সাম্প্রদায়িক বৌদ্ধরা মসজিদটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
জানা গেছে, কয়েকজন সন্ত্রাসী দলবদ্ধভাবে এসে মসজিদের মধ্যে ঢুকে তা-ব চালায়। তারা সেখানে ভাংচুর করে। বিশ্রীভাবে মসজিদের ভেতর চিৎকার করতে থাকে। এরপর তারা চলে গেলে স্থানীয় মুসল্লিরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
 বৌদ্ধদের দেয়া আগুনে মসজিদের মধ্যে থাকা অনেকগুলো কুরআন ও মেম্বার (ইমাম সাহেবের বসার স্থান) পুড়ে গেছে।
এ ঘটনার পর মুসলিমরা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দাখিল করতে গেলে উল্টা তাদের দোষী করা হয়। সেখান থেকে বলা হয়, ‘মুসলিমরা নিজেদের ঘরে নিজেরাই আগুন লাগিয়েছে।’
উল্লেখ্য, মসজিদটি ১৮৯৬ সালে প্রথম স্থাপিত হয়। তারপর ১৯১২ সালে আবার সংস্কার করা হয়।
রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক তা-ব চালাচ্ছে। এমনকি হেলিকপ্টার গানশিপ থেকে গ্রামবাসীর ওপর নির্বিচারে গুলীবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতায় রাজ্যটিতে এ পর্যন্ত ১৩০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক মুসলিম। নিজ দেশের সেনাদের দ্বারা এমন বর্বতা দেখেও নির্বিকার বিশ্ব শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চি।
সু চির এমন নীরবতায় কড়া সমালোচনা করেছে বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যম সিএনএন। মিয়ানমার বরাবর দাবি করে আসছে, রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়িতে আগুন দিচ্ছে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। এসব ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। শাসনের কাছে থেকে কালেভদ্রে এমন আশ্বাস মিললেও সু চি রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে এখনো চুপ। মিয়ানমারের এই সাম্প্রদায়িক নির্যাতন নিয়ে বাংলাদেশও চিন্তায় আছে। সীমান্ত পেরিয়ে অনেক রোহিঙ্গা উপকূলীয় অঞ্চলে অনুপ্রেবেশ করছে।
সর্বশেষ অক্টোবরের দিকে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় হামলার মাত্রা বাড়তে থাকে। যা এখনো চলমান। সিএনএনের নিবন্ধে বলা হয়েছে, আরাকান, বর্তমানে যাকে রাখাইন প্রদেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বরাবরই বৌদ্ধ ও মুসলিম রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ আবাসভূমি হিসেবে পরিচিত ছিল এই অঞ্চলটি।
শত শত বছর ধরে রোহিঙ্গা মুসলিমরা এখানে বাস করছে। তাদের পূর্বপুরুষরা আরব, পার্সি ও মুরিস বণিক, যারা দশম থেকে ষোড়শ শতকের মধ্যে আরাকানে এসেছিল। তাদের অনেকে স্থানীয় নারীদের বিয়ে করে দেশটিতে থেকে গিয়েছিল।
কিন্তু ১৯৬২ সালে জেনারেল নে উইন ক্ষমতা দখল করার পর থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। দেশজুড়ে চলতে থাকে সামরিক শাসকদের   স্বৈরশাসন।
 গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো ১৯৮২ সালে গৃহীত নাগরিকত্ব আইনে রোহিঙ্গাদের দেশের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয় এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তাদের ওপর নির্যাতন করাটা নিয়মিত ব্যাপারেও পরিণত হয়।
বিশ্বনেতারা ধারণা করছিলেন, সু চির দল ক্ষমতায় গেলে এই সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু তিনি সবাইকে অবাক করে ‘নিশ্চুপ রাজার রূপকথা’ শুনিয়ে যাচ্ছেন। তবে তার এই রূপকথার ইতি টানতে উঠেপড়ে লেগেছে ইন্দোনেশিয়ার একটি সামাজিক সংগঠন। তারা সু চির নোবেল বাতিলের দাবিতে গণপিটিশনের ডাক দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ