বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

পূর্ব আলেপ্পোয় অব্যাহত সরকারি বিমান হামলায় আরো ২৫ জন নিহত

১৮ নবেম্বর, রয়টার্স : সিরিয়ার আলেপ্পো শহরের বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত পূর্বাংশে তিন দিন ধরে টানা বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে আরো অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন।
সরকারি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলার তৃতীয় দিনে, গম বৃহস্পতিবার এরা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠী ব্রিটিশ-ভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস।
অপরদিকে শহরটির বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত অংশের মেয়র জানিয়েছেন, শীত চলে আসার মুখে সেখানে জ্বালানি ও খাদ্যের তীব্র অভাব দেখা দিচ্ছে।
বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিতে চার সপ্তাহ পূর্ব আলেপ্পোতে বোমা হামলা বন্ধ রেখেছিল সিরীয় সরকার ও রাশিয়াসহ তার মিত্র বাহিনীগুলো। মঙ্গলবার থেকে ফের তীব্র বিমান হামলা ও গোলার্বষণ শুরু করা হয়।
পাঁচ বছর ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে আলেপ্পোর লড়াইকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশটির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহরটির পূর্ণ দখল নিতে পারলে দেশের ওপর ফের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ অনেকটা এগিয়ে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সিরীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলেপ্পোতে তারা ‘সন্ত্রাসীদের শক্তিকেন্দ্রের’ ওপর আঘাত হানছেন।
আলেপ্পোর পূর্বাংশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমান হামলায় বুধবার পর্যন্ত ৪৫ জন নিহত এবং ৩৬৩ জন আহত হয়েছেন।
রাশিয়া জানিয়েছে, তারা সেখানে বোমাবর্ষণ করছে না, কিন্তু সিরিয়ার বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালাতে তাদের একটি বিমানবাহী রণতরী ব্যবহার করা হচ্ছে, পাশাপাশি অন্য একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হচ্ছে।
 বেশ কয়েক মাস ধরে আলেপ্পো পূর্বাংশ অবরোধ করে রেখেছে সরকারি বাহিনী। এখন তীব্র বোমা হামলার মুখে শহরের অবরুদ্ধ ওই অংশে তীব্র মানবিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বিমান হামলায় হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শহরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত ও দূষিত হয়ে পড়েছে। ওষুধ, জ্বালানি ও খাবারের তীব্র সঙ্কট তৈরি হয়েছে।
আসাদের পক্ষ হয়ে লড়াই করা মিত্র সামরিক বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গত সপ্তাহে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা গ্রহণের আগেই তারা শহরটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পরিকল্পনা করেছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত বিজয়ে পরিস্থিতিতে কিছুটা ভিন্ন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ‘যুক্তরাষ্ট্র তাদের সিরিয়া নীতি থেকে সরে আসতে পারে’ এমন আশা দামেস্ক ও মস্কোর ক্ষমতাসীন মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ