মঙ্গলবার ০২ মার্চ ২০২১
Online Edition

ঢাকায় দৈনিক উৎপাদিত বর্জ্য থেকে বছরে ৩০০ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানী ঢাকার বর্জ্যব্যবস্থাপনার সমস্যা যেন শেষই হচ্ছে না। কিন্তু একটি আধুনিক ও উন্নত রাষ্ট্রের জন্য বর্জ্যব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটু রিসাইক্লিং পরিকল্পনা নিলেই ঢাকায় দৈনিক উৎপাদিত বর্জ্য থেকে বছরে ৩০০ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। তাই এখন যদি বর্জ্যব্যবস্থাপনার কোন পরিকল্পনা হাতে না নেয়া হয়, তাহলে এটি ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই) আয়োজিত এক সাংবািদক সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি ডিরেক্টর আমিনুল এহসান ও ডা. সালমান সালেহীন অর্ক প্রমুখ। সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে ধারণাপত্র পাঠ করেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের অষ্টম ব্যাচের রাজনৈতিক ফেলো সুলতানা জেসমিন জুঁই।

ধারণাপত্রে উল্লেখিত হিসেব অনুযায়ী শুধু ঢাকা মহানগরে বছরে যে পরিমাণ বর্জ্য সৃষ্টি হয় তা সিটি কর্পোরেশনের হিসেবে প্রায় তিন থেকে সাড়ে চার হাজার মেট্রিক টন। বিশ্বব্যাংকের হিসেব মতে, তা প্রায় সাত হাজার মেট্রিক টন। বেসরকারি হিসেব মতে, বছরে গৃহস্থালি খাত থেকে পাঁচ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন বর্জ্য আসে, আর মেডিকেল বর্জ্য প্রায় এক হাজার ৫০ মেট্রিক টন। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে শহরের ৫০-৬০ শতাংশ বর্জ্য সংগৃহীত হয়, আর ২০ শতাংশ বর্জ্য সংগ্রহ করে পেশাদার কুড়ানিরা। এরমধ্যে রয়েছে ৫০ হাজার টনের মতো পিইটি প্লাস্টিক। এছাড়াও আছে কাঁচ, কাগজ, ধাতু, হাড়ের মতো অনেক বর্জ্য যেগুলো রিসাইক্লিং করে বিদেশে রফতানি করা সম্ভব। তাছাড়া বর্জ্যের প্রায় ৭৬ শতাংশ থেকে জৈব সার উৎপাদন করা সম্ভব। মাথাপিছু বর্জ্যের যে পরিমাণ ধরা হয়েছে, সেই ৫৬০ গ্রামের মধ্যে ৪০০ গ্রাম বর্জ্য কম্পোস্ট সার উপযোগী। মাথাপিছু একজনের বর্জ্য থেকে যে পরিমাণ সার পাওয়া যাবে তার পরিমাণ ১৫০ গ্রাম, যার আর্থিক মূল্য এক দশমিক ৩০ টাকা। বছরে তা প্রায় হতে পারে ৩৬০ কোটি টাকা।

ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে ঢাকা শহরের বর্জ্যব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা সচেতনতা বিষয়ক বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ২০০ জনের একটি প্রতীকী গণস্বাক্ষরসহ কিছু স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সুপারিশ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জমা দেয়া হয়েছে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ