শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১
Online Edition

বদির জামিন স্থগিতের আবেদন খালাসের বিরুদ্ধে আপিল

স্টাফ রিপোর্টার : অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপনের অভিযোগ থেকে কক্কসবাজার-৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় আলোচিত সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে বিচারিক আদালতের খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এছাড়া অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের দায়ে তিন বছরের সাজার মামলায় তাকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন স্থগিত চেয়েও আবেদন করা হয়েছে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে জামিন স্থগিতের আবেদন করে দুদক। আর সকালে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় অৗবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপনের অভিযোগ থেকে বিচারিক আদালতের খালাস প্রদানের বিরুদ্ধেও আপিল করা হয়। 

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, আবদুর রহমান বদির জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছি। আশা করি শিগগিরই শুনানি হবে। আপিলে খালাসের রায় বাতিল চাওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাকে খালাস দেয়া আইনসম্মত হয়নি।

গত বুধবার আবদুর রহমান বদিকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতে তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানার আদেশও স্থগিত করা হয়। বিচারপতি রুহুল কুদ্দুসের নেতৃত্বে হাইকোর্টের একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন। 

গত ২ নবেম্বর ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহম্মেদ জমাদার অবৈধ সম্পদ অর্জনের দুর্নীতি মামলায় আবদুর রহমান বদিকে দোষী সাব্যস্ত করে তিন বছরের কারাদন্ড এবং দশ লাখ টাকা জরিমানা করেন। তিন কোটি ৮৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪২৩ টাকার সম্পদ গোপন করার অপরাধে তাকে এই সাজা দিলেন আদালত। তবে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হয়। 

রায়ে আদালত বলেন, আসামী সম্পদের তথ্য কেন গোপন করেছেন, তা তিনিই বলতে পারেন। আব্দুর রহমান বদির উপস্থিতিতে আদালত এই রায় দেন। রায়ের পর তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। 

 ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার রমনা থানায় আবদুর রহমান বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক মো. আব্দুস সোবহান এ মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, এমপি বদি আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের বৈধতা দেখাতে কম মূল্যে সম্পদ কিনে বেশি মূল্যে বিক্রির মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। এরপর ২০১৫ সালের ৭ মে দুদকের উপ-পরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আদালতে আব্দুর রহমান বদির বিরুদ্ধে তিন কোটি ৯৯ লাখ ৫৩ হাজার ২৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের পাশাপাশি ঘোষিত আয়ের বাইরে অতিরিক্ত সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহম্মেদ জমাদার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ মামলায় ১৫ সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। 

দুদকের এ মামলায় ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর গ্রেফতার হয়ে তিন সপ্তাহ কারাগারে ছিলেন বদি। পরে ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর বিচারপতি সৈয়দ এ বি মাহমুদুল হক ও বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাবে ছয় মাসের জামিন দেন। এরপর তিনি কারামুক্ত হন।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী আওয়ামী লীগ দলীয় এই সংসদ সদস্য টেকনাফ ও উখিয়ার ইয়াবা স¤্রাট। ইয়াবা পাচারের হোতা হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকাতেও তার নাম রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ