শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১
Online Edition

দেশের প্রথম জিআই নিবন্ধন সনদ পেয়েছে জামদানি

বাসস : জামদানি বাংলাদেশের প্রথম ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধন পেয়েছে। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু গতকাল বৃহস্পতিবার বিসিক চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ ইফতিখারের হাতে এ নিবন্ধন সনদ তুলে দেন।

বিসিকের আবেদনের প্রেক্ষিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) জামদানিকে এ নিবন্ধন দিয়েছে।

এ উপলক্ষে গতকাল শিল্প মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু প্রধান অতিথি ছিলেন। পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস্ অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রার মো সানোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সিনিয়র সচিব মো মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এবং বিসিক চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ ইফতিখার বক্তব্য রাখেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার একথা বলা হয়।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে বাংলাদেশের যে কয়টি পণ্য সুপরিচিত, জামদানি এর মধ্যে অন্যতম। এটি বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পণ্য মসলিনের পঞ্চম সংস্করণ। একে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের মাধ্যমে দেশীয় ঐতিহ্যগত সুরক্ষার পথে বাংলাদেশ একধাপ এগিয়ে গেল।

তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে জাতীয় মাছ ‘ইলিশ’সহ অন্য ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যকেও নিবন্ধন দেয়া হবে। এর ফলে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি দেশিয় ঐতিহ্যগত সম্পদ সুরক্ষা করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আমির হোসেন আমু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বিদায়ী অর্থবছরে ৭ শতাংশেরও বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ শিগগিরই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। তিনি বাঙালি জাতিকে ঐতিহ্যবাহী জাতি হিসেবে উল্লেখ করে এর সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যগত সম্পদের সুরক্ষায় সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, জামদানির পর বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ‘ইলিশ’কে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধন দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য সম্প্রতি মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ডিপিডিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা হয়েছে। বর্তমানে এটি প্রক্রিয়াধীন। খুব শিগগিরই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ইলিশ মাছও জিআই নিবন্ধন লাভ করবে।

এর আগে শিল্পমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে হস্ত ও কারু শিল্পনীতিমালার ওপর এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিনিয়র শিল্প সচিব মো মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, বিসিক, নাসিব এবং হস্ত ও কারু শিল্প সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় হস্ত ও কারু শিল্পের উন্নয়নে একটি সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ