শুক্রবার ০৫ মার্চ ২০২১
Online Edition

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা সরকারের কূটকৌশলের অংশ - মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারের নির্দেশেই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি শুধু হাস্যকরই নয়, সরকারের কূটকৌশলের অংশ। নাসিরনগরের ঘটনা থেকে দৃষ্টি ভিন্ন খাতে ফেরাতে এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির প্রতিক্রিয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর আদালত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে জন্মদিন পালনের ঘটনায় করা নালিশি মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
পরোয়ানা জারির নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এদেশে বর্তমানে যেমন মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা ও কোন গণতান্ত্রিক অধিকার নেই, তেমনি দেশের নাগরিকদের ব্যক্তিগত কোন আচার-অনুষ্ঠান পালনেরও কোন অধিকার নেই। দেশে যেন একচ্ছত্র আওয়ামী আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ এবং তাদের ভোটারবিহীন সরকারের জন্য সবকিছুই জায়েজ, কিন্তু দেশের সকল বিরোধী দল এবং সাধারণ মানুষের কোন নাগরিক অধিকার নেই। আওয়ামী লীগ সরকার নিশ্চিতভাবেই বোঝে যে, তাদের ভয়াবহ দুঃশাসনে দেশের মানুষ চরম ক্ষুব্ধ, সেহেতু নিজেদের ব্যর্থতাকে ঢেকে দেয়ার জন্য বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে নানামুখী চক্রান্তের ডালপালা বিস্তার করেছে।
তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্মূল করার জন্য যে নীলনকশা দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে সেখানে সরকার কোন সফলতা না পেয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রধান প্রতিনিধি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার হিড়িক অব্যাহত আছে। আজও বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি শুধু হাস্যকরই নয় বরং এটা যে সরকারের কূটকৌশলের অংশ সেটি দেশবাসীর অজানা নয়। বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা সরকারের নির্দেশেই করা হয়েছে। এটা শাসকগোষ্ঠীর প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির আরেকটি পদক্ষেপ। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রকে গভীর খাদের মধ্যে নিক্ষেপ করার জন্য বেগম জিয়াকে বিপর্যস্ত করা তাদের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। বিএনপিকে ধ্বংস এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনকে বিপর্যস্ত করার জন্য সরকারের সর্বাত্মক অপচেষ্টা ব্যর্থ হওয়াতেই তারা এখন বেপরোয়া ও কা-জ্ঞানহীন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী কোনভাবেই উপলব্ধি করতে পারছে না যে, ব্যাপক জনসমর্থিত একজন নেত্রীকে অবৈধ ক্ষমতার জোরে কখনোই ধ্বংস করা সম্ভব নয়। বিএনপি এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন যেহেতু সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং যাদের রাজনৈতিক শক্তির উৎস একমাত্র জনগণ, সেহেতু সেই জনসমর্থিত নেত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে দেশের জনগণের হারানো অধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তাঁর অবিচল কর্তব্যকর্ম থেকে বিরত রাখা যাবে না।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, সম্প্রতি গোবিন্দগঞ্জ, নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়িঘরে যে তা-ব চালানো হয়েছে তাতে শাসকদলের সুস্পষ্ট জড়িত থাকার ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে যেভাবে ধিক্কার উঠেছে সেটিকে ধামাচাপা দিতেই জনগণের দৃষ্টিকে ঘুরিয়ে দেয়ার জন্য আজকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে যেটি সরকারের একটি নোংরা কৌশল।
বিএনপি মহাসচিব অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জারিকৃত গ্রেফতারি পরোয়ানা ও রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।
ঠাকুরগাঁও : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ শুধু মুখেই গণতন্ত্রের কথা বলে কিন্তু তারা কোনো দিনই গণতন্ত্রের চর্চা করে না। ১৯৭২ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রে দায়িত্বে আসার পরে ক্রমান্বয়ে একে একে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে।
“বিএনপিতে গণতন্ত্রের চর্চা নেই” বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অভিযোগের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে দলীয় নেতা কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দখল করে তখনই দেশে অশান্তি, অরাজকতা, খুন এগুলো বাড়তে থাকে। কারণটা হচ্ছে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাস-ত্রাস সৃষ্টি করার মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনা করে। এর মাধ্যমে তারা গোটা জাতিকে ত্রাসের মধ্য ফেলে দিয়ে দাবিয়ে রাখতে চায়।
মির্জা ফখরুল বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির হিটলারও একই কাজ করেছে। ঠিক একইভাবে আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়েছে। দাঙ্গা হয়েছে, হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘর লুটপাট হয়েছে, মন্দির ভাঙ্গা হয়েছে। অতি সম্প্রতি যে ঘটনাগুলো ঘটেছে সেগুলোতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই জড়িত।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৈমুর রহমান, বিএনপি নেতা ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, শরিফুল ইসলাম শরিফ, তারিক আদনান প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ