শুক্রবার ০৫ মার্চ ২০২১
Online Edition

সাঁওতালদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা ॥ গ্রেফতার ৫

গাইবান্ধা সংবাদদাতা : গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ওপর হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা হয়েছে।  বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সাঁওতাল নেতাদের দাবি এ মামলা ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে করা হয়নি।
তিনি বলেন, বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতালদের পক্ষে স্বপন মরমু বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে আসামী করে মামলা করে । পরে অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমার ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ গ্রামের আব্দুল রশিদ, শাহনেওয়াজ, বাদশা, চয়ন মিয়া ও সাগর মিয়া।
গত ৬ নবেম্বর গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ আখ খামারের জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সেখানে বসবাসরত প্রায় আড়াই হাজার সাঁওতাল বসতি পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় বাঙালি-পুলিশ ও সাঁওতালদের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন সাঁওতাল আহত হন। মামলা করা হয় শতাধিক সাঁওতালের নামে। এ ঘটনায় আহত ৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, ‘মূল ঘটনা আড়াল করতে এবং দোষীদের বাঁচাতে পুলিশ অতি উৎসাহী হয়ে অন্য গ্রামের এক সাঁওতালকে দিয়ে মামলাটি করিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী রোববার ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতালদের পক্ষ থেকে আমাদের মামলা দায়ের করার কথা রয়েছে।’
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার জানান, ‘উপজেলা মুয়ালীপাড়া গ্রামের সমেস মরমুর ছেলে স্বপন মরমু বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। মামলায় অজ্ঞাত ৫/৬শ’ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলা নম্বর-২৩, তারিখ: ১৬ নবেম্বর’ ২০১৬। এ মামলায় কাউকে এজাহার নামীয় আসামী করা হয়নি।’
তিনি আরও জানান, ‘এই মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে উপজেলা চক রহিমপুর গ্রামের মনির উদ্দিনের ছেলে মানিক মিয়া (২৬), হোসেন আলীর ছেলে বাদশা মিয়া (৫০), তরফ কামাল গ্রামের ওয়াহেদ বাবুর ছেলে চয়ন মিয়া (২৫), সাহেবগঞ্জ গ্রামের আব্দুল জোব্বারের ছেলে আব্দুর রশিদ (৬০) ও আসাদুজ্জামানের ছেলে শাহ নেওয়াজকে (৩৮) আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদেরকে গোবিন্দগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়।’
গত ৬ নবেম্বর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তীরবিদ্ধ হয়েছেন ৯ জন পুলিশ সদস্য এবং গুলীবিদ্ধ হন চারজন সাঁওতাল। এ ঘটনায় তিনজন সাঁওতাল মারা গেছেন। পরবর্তীতে পুলিশ-র‌্যাব ওই দিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এক অভিযান চালিয়ে মিলের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে। এ সময় তাদের ঘরবাড়িতে আগুন দিয়ে মালামাল লুটপাট করে দুর্বৃত্তরা।
ওই সংঘর্ষের ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক কল্যাণ চক্রবর্তী বাদী হয়ে ঘটনার দিন রাতে ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৩/৪শ’ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী দেখিয়ে মামলা দায়ের করেন। এ পর্যন্ত পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে।
জানা গেছে, চিনিকল কর্তৃপক্ষ চুক্তি ভঙ্গ করায় অধিগ্রহণের চুক্তি অনুযায়ী বাপ-দাদার ওই জায়গা ফিরে পেতে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে সাঁওতালরা সেখানে ঘর তুলে বসবাস শুরু করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ