শুক্রবার ০৫ মার্চ ২০২১
Online Edition

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাবার বন্ধ দুয়ার খুলেছে

স্টাফ রিপোর্টার : মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর বন্ধ দুয়ার খুললেও নতুন করে জটিলতা দেখা দিয়েছে।  শ্রমিক পাঠাতে রিক্রুটিং এসেন্সিগুলোকে অনুমোদন দেয়া হলেও সরকার ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে পাঁচশ’ এজেন্সিকে কালো তালিকাভুক্ত করে সেগুলোর নাম বাদ দিয়েছে। ফলে স্বল্প খরচে শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে সঠিক কোন সুরাহাও আপাদত হচ্ছে না। স্বল্প ব্যয়ের কথা বলা হলেও সেই পরিমাণ আসলে কত টাকা হবে তাও নির্ধারণ হয়নি।
এদিকে সম্প্রতি মালয়েশিয়ার সাথে মন্ত্রী পর্যায়ে কয়েক দফা বৈঠকের পর শিগগিরই সেদেশে শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে সমস্যার সমাধান হয়েছে বলে সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি অবশ্য আগেই জানিয়েছেন এখন থেকে মালয়েশিয়াতে শ্রমিক পাঠানোর পথ খুলে গেছে। তিনি আরো জানিয়েছেন,বাংলাদেশ থেকে শিগগিরই মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে নির্মাণ, প্লান্টেশন ও ম্যানুফ্যাকচার খাতে কর্মী নেবে দেশটি। গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত দু’দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।
সূত্র জানায়,রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী রিচার্ড রায়ট আনাক জায়েমের সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। ঐ বৈঠকে শ্রমিক পাঠানো সম্পর্কিত সার্বিক আলোচনা হয় এবং শিগগিরই বাংলাদেশ থেকে নির্মাণ, প্লান্টেশন ও ম্যানুফ্যাকচার খাতে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দেয়া ৭৪৫টি (পরে আরো একটি এজেন্সি যোগ হয়েছে) রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানো নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী জানিয়েছেন, মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়ার ব্যাপারে খুব আগ্রহী। সরকার নির্ধারিত ব্যয়ে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে দুই মন্ত্রী একমত হন।
দু’দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার পরে এজেন্সিগুলোর তালিকা নিয়ে ইতোমধ্যে জটিলতা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সভাপতি বেনজীর আহমেদ দৈনিক সংগ্রামকে জানান, আমাদের এসোসিয়েশনের সদস্য এখন ৯৫৭। আমাদের এসোসিয়েশনের বাইরেও আরো অনেক রিক্রুটিং এজেন্সি আছে। তবে সরকার মোট ৭৪৬ টি এজেন্সির নাম মালয়েশিয়া সরকারের কাছে দিয়েছে যারা শ্রমিক পাঠানোর কাজে নিয়োজিত থাকবে।
বায়রা’র দেয়া তথ্য থেকে জানা যায়, বায়রা’র সদস্য এবং সদস্য নয় এমন মোট এজেন্সি প্রায় ১৩শ’ কাছাকাছি। কিন্তু মালয়েশিয়াতে শ্রমিক পাঠাতে পারবে মাত্র ৭৪৬ টি এজেন্সি। বাকি ৫৫০ এজেন্সি শ্রমিক পাঠানোর কাজ পাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে স্বল্প খরচে শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে। অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যারা কালো তালিকাভুক্ত তারা শ্রমিক পাঠাতে পারবে না।   
কালো তালিকাভুক্ত এজেন্সির বিষয়ে অবশ্য ঐ দিনের বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেছেন, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রফতানিতে দালাল চক্র নির্মূল করার জন্য আমরা বদ্ধপরিকর। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মী পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত। ইতিমধ্যে কর্মী প্রেরণের কৌশল নিয়ে উভয়পক্ষ একাধিকবার বৈঠক করেছি। তিনি আরও বলেন, জনশক্তি রফতানিতে গুটিকয়েক রিক্রুটিং এজেন্সিকে সুযোগ না দিয়ে তালিকায় দেয়া ৭৪৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি থেকে অভিজ্ঞ ও স্বনামধন্য রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী  প্রেরণ নিশ্চিত করা হবে। এতে করে অভিবাসন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং সরকার নির্ধারিত ব্যয়ে কর্মী পাঠানো যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ