শুক্রবার ০৫ মার্চ ২০২১
Online Edition

ট্রাম্প-পেন্স মুসলিমসহ ২৯ বিশ্ব নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন

সংগ্রাম ডেস্ক : মার্কিন নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মাইক পেন্স এ পর্যন্ত ২৯ দেশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ট্রাম্প ও পেন্স যাদের সঙ্গে কথা বলেন তাদের মধ্যে আমিরাতসহ মুসলিম বিশ্বের নেতাও রয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, নবনির্বাচিত রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স প্রায় দুই ডজনের অধিক দেশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার মধ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন, তুরষ্কের প্রেসিডিন্ট রিসেফ তাইয়্যেফ এরদোগান ও প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অন্যতম যাদের সঙ্গে ট্রাম্প ও পেন্স ফোনে কথা বলেন। যাদের সঙ্গে কথা বলেন তারা সবাই ট্রাম্প ও পেন্সকে নির্বাচনে জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। খালিজ টাইমস, নিউইয়র্ক টাইমস।
বিশ্ব নেতৃবৃন্দ কেউ ট্রাম্পের সঙ্গে, কেউ পেন্সের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।  ট্রাম্প টাওয়ার থেকে ফোনে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন।
ট্রাম্প ও পেন্স জয়ের পর যাদের সঙ্গে কথা বলেন তার মধ্যে মুসলিম দেশের একাধিক নেতা রয়েছে। আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। সৌদি আরবের বাদশা সালমান। কাতারের প্রেসিডেন্ট শেখ তামিম বিন হামাদ বিন খলিফা। জর্ডানের প্রেসিডেন্ট আল থানি আব্দুল্লাহ। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদাহ হারিরি, মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি। অন্যতম।
এছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মাউরিসিও ম্যাক্রি, অষ্ট্রলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাষ্টিন  ট্রডো। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং,কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জান ম্যানুয়েল সান্তোষ, ডেনমার্কের প্রেসিডেন্ট লার্স লোকি রাসমুসেন, জার্মান চান্সেলর এ্যাঞ্জেলা মার্কেল। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাদের সঙ্গে কথা বলেছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প আইয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইন্দা কিনি, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু, ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাতিও রেনজো, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে, মেক্সিকোর প্রধানমন্ত্রী এন্ড্রিক পেন নিতি, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জন কে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক হিয়ন হাই এর সঙ্গে কথা বলেছেন।
নাটের গুরু ট্রাম্পের জামাতা
নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার গঠনের উদ্যোগে যে স্থবিরতা নেমে এসেছে, তার নেপথ্যে ক্রীড়নকের ভূমিকা পালন করেছেন তার মেয়ে-জামাই জ্যারেড কুশনার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন, পলিটিকো এবং নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ বেশকিছু সংবাদমাধ্যম খবরটি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, জামাতার ‘রাজনৈতিক প্রজ্ঞা’র প্রতি ট্রাম্পের অগাধ আস্থা। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের সেই আস্থার সুযোগ নিয়েই ব্যক্তিগত প্রতিশোধস্পৃহা থেকে তিনি অন্তর্বর্তী দলটির নেতৃত্ব থাকা নিউ জার্সির গবর্নর ক্রিস ক্রিস্টিসহ তার অনুসারীদের ক্ষমতা খর্ব করেছেন। আর এতেই সরকার পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা নেমে এসেছে।
ট্রাম্প আনুষ্ঠানিক শপথ নেবেন আসছে বছরের ২০ জানুয়ারি। মার্কিন রীতি মেনে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ের দিন থেকে শুরু করে ট্রাম্পের শপথের আগ পর্যন্ত কাজ করছে ক্ষমতা হস্তান্তরে গঠিত এক অন্তর্র্র্র্র্র্বর্তী দল। প্রেসিডেন্সিয়াল ট্রানজিশন অ্যাক্ট নামের আইনের অধীনে এই দল অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সরকার গঠন ও অন্যান্য পদে নিয়োগ দেওয়াসহ পরামর্শ দিয়ে থাকে।
ট্রাম্পের ১৬ সদস্যের অন্তর্বর্তী দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন নিউ জার্সির গবর্নর ক্রিস ক্রিস্টি। নির্বাচনী প্রচারে যে কযজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিককে ট্রাম্প নিজের পাশে পেয়েছিলেন, ক্রিস্টি তাঁদের অন্যতম। কিন্তু নির্বাচিত হওযার অব্যবহিত পরেই ক্রিস্টিকে সরিয়ে দিয়ে তাঁর স্থানে নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে দায়ত্বি দেওযা হয। সান্ত¦না হিসেবে ক্রিস্টিকে এই কমিটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওযা হয। ক্রিস্টির পদাবনতির পর মঙ্গলবার সকালে তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্সও এই কমিটি থেকে সরে গেছেন। পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অন্যতম উপদেষ্টা বলে বিবেচিত হতেন তিনি। বলা হচ্ছে, ট্রানজিশন টিমের সাবেক প্রধান ক্রিস ক্রিস্টির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণেই নাকি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন তিনি। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন বলা হয়, এছাড়া এই টিমের আরেক সদস্য ম্যাথিউ ফ্রিডম্যানকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তার সঙ্গেও ক্রিস্টির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানাচ্ছে, যে ক্রিস্টির নেতৃত্বে ওই অন্তর্বর্তী দল কাজ করছিলো তিনি চলে যাওয়্য়া এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। মন্থর হয়েছে কাজের গতি। সবমিলে স্থবিরতা নেমে এসেছে রিপাবলিকান শিবিরে। সিএনএন, নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং পলিটিকোর খবর বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই স্থবিরতার নেপথ্যে রয়েছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
২০০৫ সালে নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্রিস্টি জ্যারেড কুশনারের ব্যবসায়ী পিতা চার্লসকে ‘লোভ, আর্থিক অনিযম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের’ অভিযোগে দুই বছরের জন্য জেলে পাঠাতে সক্ষম হযিেছলেন। সে কারণে ক্রিস্টিকে এই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হযেেছ বলে জানা গেছে। এদিকে ট্রাম্প টাওয়ারের অভ্যন্তরীণ দুই সূত্রকে উদ্ধৃত করে পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে নাকি বেননকেই চিফ অব স্টাফ করতে চাইছিলেন। তবে কুশনারের হস্তক্ষেপে নাকি মতামত পাল্টেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত জামাতার কথাই শুনেছেন ট্রাম্প।কুশনারের কথা মেনেই রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি আরএনসির চেয়ারম্যান রেইন্স প্রিয়েবাসকে চিপ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন তিনি।
কুশনারের বয়স ৩৫। শ্বশুরের মতো তারও আবাসন ব্যবসা রয়েছে। প্রচারণার দিনগুলোতেই ক্রমশ ট্রাম্প শিবিরের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে সামনে আসতে থাকেন তিনি। রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পাওয়া থেকে শুরু করে ট্রাম্পকে নির্বাচনী বৈতরণী পার করা পর্যন্ত বহুমুখী দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, ২০০৯ সালে ইভাঙ্কাকে বিয়ে করার পর থেকেই ব্যবসা ও রাজনীতিতে শ্বশুরকে ছায়ার মত সঙ্গ দেন কুশনার। তার ‘রাজনৈতিক প্রজ্ঞা’র ওপর ট্রাম্পের অগাধ আস্থা। গত মে মাসে ইন্ডিয়ানা প্রাইমারির সময় কুশনারকে পাশে রেখে পরিচয় করে দেন ট্রাম্প। বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি, জ্যারেড আবাসন ব্যবসায় বেশ সফল। যদিও আমার মনে হয়, আবাসন ব্যবসার চেয়ে রাজনীতি সে অনেক বেশি পছন্দ করে। সে রাজনীতিতেও বেশ ভালো।’ উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট তার নিকটাত্মীয়দের প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিতে পারেন না। কুশনারকে কোনো পদে দেখা না গেলেও ঘরে-বাইরে ট্রাম্প-জামাতার প্রভাব কমবে না।
এদিকে সিএনএন তাদের এক প্রতিবেদনে বলছে, স্ত্রী ইভানকা ট্রাম্প যতোটা পরিচিত, ততোটা পরিচিত নন তার স্বামী জ্যারেড কুশনার। তবে লোকচক্ষুর অন্তরালে বিশাল ক্ষমতার অধিকারী তিনি। সিএনএন-এর খবরে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসে ওবামা-ট্রাম্পের সাক্ষাতের প্রসঙ্গ। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ওইদিন পুরো পৃথিবী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে উত্তরসূরী ট্রাম্পের প্রথম সাক্ষাৎ নিয়ে। তবে সেদিন হোয়াইট হাউসেন ক্যামেরার ফ্রেমে বিশেষভাবে ধরা পড়েন ধীরস্থির এক তরুণ। সাউথ লনে প্রেসিডেন্ট ওবামার চিফ অব স্টাফের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। ইনিই সেই জ্যারেড কুশনার।
সিএনএন লিখেছে, ট্রাম্পের শপথের দিন এই কুশনারকে কোন ভূমিকায় দেখা যাবে তা পরিষ্কার নয়। কেননা বিধিমোতাবেক ট্রাম্পের আত্মীয় হওয়ার কারণে তিনি প্রশাসনিক কোনও পদ পাবেন না। তা সত্তে¦ও নির্বাচনের দুদিন পর গত ১০ নবেম্বর ওই ছবি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ