শুক্রবার ০৫ মার্চ ২০২১
Online Edition

নিরপেক্ষ ইসি গঠনের রূপরেখা তুলে ধরবেন

মিয়া হোসেন : দীর্ঘদিন পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। আজ শুক্রবার বিকেল চারটায় গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে সংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে জাতির কাছে বিএনপির বক্তব্য তুলে ধরবেন। এ সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে বিএনপির রূপরেখা তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছে বিএনপির দায়িত্বশীল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এ রূপরেখা সরকার আমলে না নিলে রাজপথে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে বিএনপি।
সূত্রমতে, নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে রূপরেখা তৈরি করেছে বিএনপি। দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা ও সমমনা দুজন বুদ্ধিজীবীর পরামর্শে এ রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে এ রূপরেখা তুলে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করে জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। আজকের সাংবাদিক সস্মেলনে ইসি গঠনের বিএনপির এ রূপরেখা বেগম জিয়া তুলে ধরবেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এ রূপরেখায় বিএনপির পক্ষ থেকে প্রস্তাব রয়েছে, নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি সকল দলের সাথে আলোচনা করবেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। আর এসব ব্যক্তি নির্বাচন করতে হবে সাবেক বিচারপতি, সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসিদের মধ্য থেকে। এর বাইরেও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়া যাবে। তবে রাষ্ট্রপতি যেন এক ব্যক্তির ইচ্ছার উপর নির্ভর করে ইসি গঠন না করেন এ বিষয়ে বিএনপির প্রস্তাবে থাকবে দৃঢ় অবস্থান।
দলীয় সূত্র জানায়, ইসি নিয়ে বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করা এবং তা নিয়ে সরকারের মনোভাব বোঝার জন্যই মূলত এই রূপরেখা তৈরি করেছে। সরকার আমলে নেবে না জেনেও এই রূপরেখা করেছে বিএনপি। সরকার তাতেও যদি পাত্তা না দেয় তাহলে ইসি ইস্যুতে রাজপথে আন্দোলনে নামারও চিন্তা করছে দলটি। এই রূপরেখার একটি কপি রাষ্ট্রপতির কাছেও দেয়া হতে পারে।
সূত্রমতে, বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে একটি রূপরেখা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ছাড়াও আরও তিনজন যারা সরাসরি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন তারাও রূপরেখা নিয়ে কাজ করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, নতুন ইসি গঠনের মাধ্যমেই আগামী সংসদ নির্বাচন কেমন হতে পারে তা অনেকটা পরিষ্কার হবে। এ জন্য তারা নির্বাচন কমিশন গঠনকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। ইসিতে সরকার নিজেদের পছন্দমতো লোক নিয়োগ না দিয়ে সবার মতামতের ভিত্তিতে কাজটি করলে তা ইতিবাচকভাবে নেবে বিএনপি। তাতে আগামী নির্বাচনে দলটির অংশ নেয়াটাও প্রবল হবে। এ কারণে বিএনপির দাবি, সবার মতামতের ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে ইসি গঠন করা হোক। এক্ষেত্রে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসিদের ব্যাপারেও বিএনপির আপত্তি নেই বলে জানা গেছে।
ইসি পুনর্গঠন নিয়ে বিএনপির রূপরেখার বিষয়ে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। যারা কাজ করছি চেয়ারপারসন তাদের কথাবার্তা শুনেছেন। তবে এ রূপরেখা চূড়ান্ত করার বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।
উল্লেখ্য, আগামী বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ইসির মেয়াদ শেষ হবে। নতুন ইসি গঠন নিয়ে এখনো আলাদা  কোনো আইন নেই। সংবিধানে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। এর আগে মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান নিজ উদ্যোগে একটি ‘সার্চ কমিটির’ মাধ্যমে বর্তমান ইসি গঠন করেন। বর্তমান ইসির মেয়াদ যখন শেষ পর্যায়ে তখন আবারও ইসি পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপি বারবার সব রাজনৈতিক দল, সুশীলসমাজের প্রতিনিধিসহ সবার সঙ্গে আলোচনা করে গ্রহণযোগ্য একটি ইসি গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। আর সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে একটি গ্রুপ ইসি গঠনে আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ