শুক্রবার ০৫ মার্চ ২০২১
Online Edition

মওলানা ভাসানীর প্রদর্শিত পথে গণতন্ত্র পূনরুদ্ধার করতে হবে ------নজরুল ইসলাম খান

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আজীবন লড়াকু মওলানা ভাসানীর প্রদর্শিত পথে গণতন্ত্র পূনরুদ্ধার করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে হিন্দু ও সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হয়েছে। কিন্তু মূল অপরাধীদের আড়াল করতে তারা বিএনপিকে জড়িয়ে নাটক করছে।
 গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশন মিলনায়তনে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ আয়োজিত শ্রদ্ধা নিবেদন ও স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি’র সভাপতিত্বে আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন কল্যাণ পাটির্র চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, এনডিপি চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ন্যাপ মহাসচিব এম.গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, ছড়াকার আবু সালেহ, এনপিপি মহাসচিব ফিরোজ মোঃ লিটন, সাবেক ছাত্রনেতা কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।
আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে জাতির আলোকবর্তিকা আখ্যা দিয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, আজ না হোক কাল ভাসানীর জন্ম ও মৃত্যুদিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হবে। দাবি আদায়ে অনড় থেকে তিনি আজীবন লড়াই করেছেন, একটি বারের জন্যও তিনি ক্ষমতার মোহ চাননি। ১৯৪৭ পূর্বে বৃটিশ বিরোধী আজাদী আন্দোলন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা, ’৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলন, ভারতীয় পানি আগ্রাসনের বিরোধী লংমার্চে কোথায় নেই ভাসানী?  তিনি প্রশ্ন করেন কেন মওলানা ভাসানীর প্রতি এতো অবহেলা? ভাসানীকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে, দেশের স্বার্থে-মানুষের স্বার্থে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন গণতন্ত্রহীন, ভোটবিহীন সংসদ। মওলানা ভাসানীর প্রদর্শিত পথে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
নির্বাচনের নামে প্রহসন করে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসতে চায় পুনর্মন্তব্য করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের সকলেই অবগত পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ, সিটি মেয়র নির্বাচন কিভাবে হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ায় নির্বাচিতদের দ্বারা জেলা প্রশাসক নির্বাচিত করা হচ্ছে। এমনও দেখা যেতে পারে এই জেলা প্রশাসকরা জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন। বিএনপি স্পষ্ট করে বলতে চায়, জনগণ এসব কথা কৌশল মানে না। জনগণ চায় তাদের প্রত্যক্ষ ভোটে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হবে। তারাই রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।
নজরুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি নাসিরনগর ও গোবিন্দগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায় ও সাওতালদের ওপর হামলাকে কেন্দ্র করে সবাই বলছে, দলীয় কোন্দল এবং একজন মন্ত্রীর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ রয়েছে। কিন্তু জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য এবং ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার জন্য এর পেছনে নানান ষড়যন্ত্র আবিষ্কার করা হচ্ছে। নাসিরনগরে একজন বিএনপি নেতাকে আসামী করে বিপুল প্রচার দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা চলছে যে এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপি জড়িত আছে। সেভাবেই হয়তো গোবিন্দগঞ্জে কোনো সাঁওতালকে বিএনপি বানিয়ে দেয়া হবে। এ ধরনের ঘটনা অমার্জনীয় অপরাধ এর সুষ্ঠু বিচার হওয়া দরকার। তাই এটা নিয়ে রাজনীতিকরণ কিংবা বিরোধী দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য এটা ভিন্নভাবে প্রভাবিত করার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করার যে চেষ্টা তা শুভ হবে না।
তিনি বলেন, আজকে জনগণ বিপদাপন্ন। একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছাড়া দেশে যে দুর্নীতি, খুন, গুম, অপহরণ, নারী নির্যাতন চলছে তা থেকে মুক্তি নাই। তাই বিএনপি চেয়ারপারসন আগামীকাল (আজ) শুক্রবার নির্বাচনের ব্যাপারে কিছু বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। বিএনপি জনগণের পাশে আছে। মজলুম জনগণের পক্ষে কাজ করছে।
সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম বলেন, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর আপোষহীন রাজনীতি ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলো অত্যাচারী শাসকশ্রেণির, স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও সাহসী করে তুলেছিলো সাধারণ মানুষকে। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকল মানুষকেই অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ করার সংগ্রাম করেছেন আজীবন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে জেবেল রহমান গাণি বলেন, রাজনীতি আর সংগ্রামের মাধ্যমে একটি জাতিকে জাগিয়ে তোলেন যিনি, তিনিই ভাসানী। ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে এক প্রবলপ্রাণ বিদ্রোহী ও মানবতার তূর্যবাদক এক সেনানির নাম মওলানা ভাসানী। তিনি বলেন, মজলুম জননেতা ৯৬ বছর বয়সে ১৯৭৬ সালের ১৬মে ফারাক্কা লংমার্চের মাধ্যমে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের বীজ বপন করেছিলেন। যা এখন ধারণ করছে। ১৯৭০ সালের ২৩ নবেম্বর মওলানা ভাসানীই প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই ইতিহাস মুছে ফেলা যাবে না।
আলোচনা অনুষ্ঠানের আগে একই মিলনায়তনে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অন্যান্যের মধ্যে চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া নেতৃত্বে বাংলাদেশ ন্যাপ; চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা ও প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা‘র নেতৃত্বে এনডিপি; চেয়ারম্যান এডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদার নেতৃত্বে জাতীয় দল; এস.আল মামুনের নেতৃত্বে গণ সংস্কৃতি দল; ফিরোজ মোঃ লিটনের নেতৃত্বে পিএনপি; মোঃ শহীদুন্নবী ডাবলু, প্রিন্সিপাল নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগর; মতিয়ারা চৌধুরী মিনু, মুক্তা আক্তার, তাছলিমা আক্তারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ মহিলা ন্যাপ ও ভাসানী সাহিত্য-সাংস্কৃতিক পরিষদ; মোঃ কামাল ভুইয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ কৃষক ন্যাপ; জিল্লুর রহমান পলাশ ও আবদুল্লাহ আল-কাউছারীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ যুব ন্যাপ এবং সোলায়মান সোহেল ও আলী নূর নাদিমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয় ছাত্র কেন্দ্র।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ