শুক্রবার ০৫ মার্চ ২০২১
Online Edition

খুলনায় স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ দুই ধর্ষক তিন দিনের রিমান্ডে

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর রূপসা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী (১৪) জেএসসি পরীক্ষার্থী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষিতা হওয়ায় তিনি জেএসসি পরীক্ষা দিতে পারেননি। ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। টুটপাড়া মাষ্টার পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, টুটপাড়া মাষ্টারপাড়া এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. সৈয়দ হোসেনের ছেলে মো. আবির হোসেন (২৭) ও টুটপাড়া মাস্টারপাড়া বড় হুজুরের গলির বাদশা শিকদারের ছেলে মো. আবুল শিকদার (৩৮)। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার ১০দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খুলনা সদর থানার ওসি (তদন্ত) খন্দকার ফরিদুল হক।  বৃহস্পতিবার খুলনার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম সুমী আহমেদের আদালতে রিমান্ডের শুনানী শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গতকাল থেকেই তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। এদিকে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষিতা বাদি হয়ে  গ্রেফতারকৃত দুইজনের নাম উল্লেখ করে খুলনা সদর থানায় মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে ধর্ষিতা অভিযোগ করে বলেন, প্রেমের সম্পর্ক ধরে পিতা-মাতাকে না জানিয়ে চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর টুটপাড়া মাস্টার পাড়া এলাকার  বাবুল শেখের ছেলে মো. মিজান শেখকে বিয়ে করে ওই স্কুল ছাত্রী। গত সোমবার রাত ৯টার পরে স্কুল ছাত্রী টুটপাড়া তালতলা হাসপাতাল রোড এলাকায় পিতার বাসা থেকে স্বামীর বাসা টুটপাড়া মাস্টার পাড়ার বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাসার কাছাকাছি পৌঁছালে আবির বলে স্কুলছাত্রীর স্বামী তার ঘরে রয়েছে। সরল বিশ্বাসে স্কুল ছাত্রী আবির ও আবুলের সাথে আবিরের ঘরে যায়। সেখানে গেলে তারা স্কুল ছাত্রীকে বলে একটু বসেন তার স্বামী আসছে। এসময় আবির ও আবুল কোমল পানীয়ের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্কুল ছাত্রীকে পান করতে দেয়। কোমল পানীয় পান করার পর স্কুল ছাত্রীর ঘুম ঘুম ভাব আসলে আবির ও আবুল ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর আবির ও আবুল দুইজনে জোরপূর্বক পর্যায়ক্রমে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। পরের দিন সকাল ৯টায় তারা স্কুল ছাত্রীকে ছেড়ে দেয়। এরপর স্কুল ছাত্রী জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তবে গতকালকের জেএসসি পরীক্ষায় তিনি অংশ নিতে পারেননি। অন্য পরীক্ষাগুলোও তিনি দিতে পারবেন না বলে মনে করছে তার পরিবার। ধর্ষণের এ ঘটনাটি জানাজানি হলে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে এলাকাবাসী আবির ও আবুলকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খুলনা সদর থানার ওসি (তদন্ত) খন্দকার ফরিদুল হক বলেন, ে গ্রফতারকৃত আবির হোসেন ও আবুল শিকদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার ১০দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। বৃহস্পতিবার আদালতে রিমান্ডের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গতকাল থেকেই তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ