মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

নাসিরনগরে দলীয় কোন্দল দেখছেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলার পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের বিষয়টি পুলিশের তদন্তে ধরা পড়লেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলছেন অন্য কথা। গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেছেন, “দলীয় কোন্দলের আভাস পেলে আমি মাননীয় প্রাইম মিনিস্টারকে বলতাম। “আমি যেটা দেখেছি- হয়তো কেউ ষড়যন্ত্র বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে করেছে বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। যেটাই হোক, রিপোর্ট পেলে আমরা স্পষ্ট হব।”

ফেইসবুকে ‘ইসলাম অবমাননার’ অভিযোগ তুলে গত ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরে ১৫টি মন্দির ও হিন্দুদের শতাধিক বাড়িঘরে ভাংচুর-লুটপাট চালানো হয়। একাধিক গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই হামলার নেপথ্যে ছিল নাসিরনগরের এমপি ছায়েদুল হকের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদ র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর দ্বন্দ্ব।

হামলা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাফিলতির অভিযোগ ওঠায় একটি তদন্ত কমিটি করেছিল পুলিশ প্রশাসন। তাদের প্রতিবেদনে হামলার পেছনের কারণ হিসেবে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দ্বন্দ্বের বিষয়টিও এসেছে বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. শওকত হোসেন। সোমবার পুলিশ সদর দপ্তরে প্রতিবেদন দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এলাকায় একটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। দ্বন্দ্বের কোনো সুযোগ নিয়ে হামলার এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে কমিটি মনে করেছে। তবে আরও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।”

ওই হামলার ঘটনার পর পুলিশ আসামীদের ধরতে নিয়মিত অভিযান চালালেও ৪ ও ১৩ নবেম্বর একই এলাকায় কয়েকটি হিন্দু বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই নাসিরনগরের ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সমাবেশ-মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি চলছে।

গৃহহীন সাঁওতালদের ঘর দেবে সরকার : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চিনিকলের জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর খোলা আকাশের নিচে দিন পার করা সাঁওতাল পরিবারগুলোর জন্য সরকারিভাবে ঘর বানিয়ে দেয়ার নির্দেশনার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। গতকাল বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণায়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কোনো সাঁওতাল পরিবার যদি ‘হোমলেস’ থাকে, তাহলে তিনি আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিবেন। নির্দিষ্ট ডিপার্টমেন্ট এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।”

উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতাল পল্লীর বাসিন্দারা তাদের ‘বাপ-দাদার জমিতে’ থাকার অধিকার চান। খাবারের অভাবে একবেলা খেয়ে দিন কাটাতে হলেও সরকারি সহায়তা নিতে রাজি নন তারা। দেড়শতাধিক পরিবার গত দশদিন ধরে মাদারপুর চার্চের খোলা প্রাঙ্গণ ও চার্চের পরিত্যক্ত স্কুলভবনে বসবাস করছে। পল্লীর ছয়শ পরিবারেই দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। অর্থ-যোগানের ব্যবস্থা না থাকায় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারছেন না তারা। কাজের সুযোগও নেই। অধিকাংশ পরিবারের লোকজনই শুধু রাতে খেয়ে দিন পার করছেন।

তাদের জন্য সরকার কোথায় আশ্রয়ণ প্রকল্প করবে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগই সে ঘোষণা দেবে। তবে সাঁওতালদের দাবি অনুযায়ী চিনিকলের জমিতে তাদের থাকতে দেয়া সম্ভব নয় বলে দুদিন আগে জানিয়ে দিয়েছেন শিল্পসচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। মিলের জমির বাইরে ১০ একর খাসজমিতে ভূমিহীন সাঁওতালদের পুনর্বাসনের প্রস্তাব দেয়া হলেও তাতে সাড়া মিলছে না জানিয়ে সোমবার এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “এখনও তারা বলছে, মিলের জমিতে তাদের জায়গা দিতে হবে। এটা সরকার দিতে পারে না।”

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সাতদিন আগে জানাতে হবে : আসন্ন ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে হলে সাতদিন আগে পুলিশকে জানাতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যারা আয়োজন করবেন তাদের ৭ দিন আগে ডিএমপি বা জেলা পুলিশকে জানাতে হবে। কোথায় কিভাবে তারা অনুষ্ঠান করবেন, সেভাবে ডিএমপি বা জেলা পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। আসন্ন ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের নিরাপত্তা নিয়ে সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে নিজ কক্ষে গতকাল সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিজয় দিবসে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীপরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং দূতাবাসের কর্তা ব্যক্তিরা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাতে সড়কপথে গিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারেন এবং প্যারেড ময়দানে যাতে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিতে পারে ও আমন্ত্রিত অতিথিরা যাতে নিরাপদে প্যারেড দেখতে পারেন-তার ব্যবস্থা নিতে মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ফায়ার সার্ভিস, এ্যাম্বুলেন্স ও মেডিকেল টিম স্মৃতি সৌধ ও প্যারেড স্কোয়ারে থাকবে। যাতে কোনো ধরনের প্রতিকূল অবস্থা হলে সামাল দিতে পারে। সমস্ত জেলায় ডিসি ও এসপির নেতৃত্বে বিজয় দিবসের উৎসব পালিত হবে। রাস্তার উপর তোরণ নির্মাণ করা যাবে না। রাস্তার পাশে তোরণ নির্মাণ করা যাবে। বৈঠকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ