মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

সহনশীলতা একটি মহৎ গুণ

এম এস শহিদ : সহনশীলতা একটি মহৎ গুণ। কিন্তু আজকের সমাজে সহনশীলতার বড়ই অভাব। মানুষ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অসহনশীল আচরণ করছে। অত্যাচার করছে। এমনকি হত্যাকাণ্ডের মতো নির্মমঘটনা ঘটাতেও দ্বিধা করছে না। এমন অসহনশীল আচরণ ইসলাম কখনো শিক্ষা দেয় না। আমাদের মহানবী (সাঃ) মোমের মতোই নরম আর কোমল হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন। মহানবী (সাঃ)-এর অন্তরটা আল্লাহ্কে ভুলে যাওয়া বান্দাদের জন্য প্রচণ্ডভাবে ব্যথিত ছিল। ব্যক্তিজীবনেও তিনি নরম কোমল স্বভাবের চমৎকার একজন মানুষ ছিলেন। মহান আল্লাহ্তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, ‘তারাই প্রকৃত রহমানের বান্দা, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেলা করে এবং অজ্ঞ ব্যক্তিরা যখন তাদেরকে সম্বোধন করে, তখন তারা বলে ‘সালাম’ অর্থাৎ শান্তি কামনা করে, তর্কে জড়িয়ে পড়ে না। (সূরা ফুরকান: ৬৩) মানুষের জীবনে বিপদ-আপদ আসতে পারে। তা ধৈর্যসহকারে মোকাবেলা করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়। অভাব-অনটন, ক্ষুধা, ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে মহান আল্লাহ্তায়ালা তার বান্দাদের পরীক্ষা করে থাকেন। আর এসব পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়ার মূল অস্ত্রই হলো সহনশীলতা। এ কারণেই মহান আল্লাহ্ বলছেন, ‘তুমি সুসংবাদ দাও সহনশীলদের’। (সূরা বাকারা: ১৫৫) যে ব্যক্তি সহনশীলতার আলোকে জীবন গড়ে তুলতে পারে তার জন্যই মহান আল্লাহ্তায়ালার এ সুসংবাদ। আমাদের মহানবী (সাঃ) তো ছিলেন সহনশীলতার পৃথিকৃৎ।
এক হাদিসে মহানবী (সাঃ) বলেছেন, মুমিনের বিষয়টি কি চমৎকার। প্রতিটি কাজই তার জন্য কল্যাণকর। এ সৌভাগ্য মুমিন ব্যক্তি ছাড়া আর কারও পক্ষে সম্ভব নয়। তার কোনো বিপদ হলে সে ধৈর্যধারণ করে, এটাও তার জন্য মঙ্গলজনক। সুখ শান্তি লাভ করলে তার আপাদমস্তক কৃতজ্ঞ হয়। এটাও তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। (মুসলিম শরীফ) নবীজি এক ইহুদির কাছে কিছু ঋণী ছিলেন। ইহুদি তার পাওনা আদায়ের নির্দিষ্ট সময়ের আগেই মহানবী (সাঃ)-এর দরকারে হাজির হয়ে তাকে গালিগালাজ করতে লাগল এবং এক পর্যায়ে সে মহানবী (সাঃ)-এর চাদর টেনে ধরল। পাশে থাকা হযরত উমর (রাঃ) আর চুপ থাকতে পারলেন না। তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আদেশ দিন, লোকটার গর্দান উড়িয়ে দিই। নরম ও কোমল স্বভাবের অধিকারী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) উমরকে হাতের ইশারায় থামালেন এবং বললেন, উমর তোমার কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ আমি আশা করেনি। তোমার তো উচিত ছিল আমাকে তার হক আদায়ের উপদেশ দেয়ার। আর তাকে বোঝাতে ভদ্রভাবে পাওনা চাওয়ার কথা। অতঃপর মহানবী (সাঃ) বললেন, ওমর একে সাথে নিয়ে চলো। তোমার এ ধরনের আচরণের দরুন তার নির্দিষ্ট পাওনার চেয়ে আরও ২০শ’ খেজুর বেশি দিয়ে দাও। এটা মহানবী (সা.)-এর বাস্তব জীবনের একটি খণ্ডচিত্র। সাধারণ মানুষের সাথে তিনি যে ব্যবহার করেছেন তা বিশ্বের মধ্যে তুলনাহীন। মদিনার রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি সাধারণ মানুষদের সাথে যে সহনশীল আচরণ করেছেন এবং তাদেরকে স্নেহ ও ভালোবাসার পরশে মুগ্ধ করেছেন- তা বিশ্বের অন্য কোনো মাহ মানবের পক্ষে সম্ভব হয়নি। মহানবী (সাঃ)-এর উম্মত হিসেবে আমাদেরকেও এ ধরনের সহনশীলতার হৃদয় গড়ে তোলা আবশ্যক। বর্তমানে আমাদেরকে সমাজে অনেকে সামান্য কারণে একে অন্যের সাথে অসহনশীল আচরণ করছে। তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ঝগড়া-বিবাদ, অশান্তি এমনকি হত্যাকাণ্ডের মতো নারকীয় ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। ইসলাম কখনো এমন অসহনশীল আচরণের শিক্ষা দেয় না। বস্তুত একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের উচিত ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সমাজ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সহনশীলতার গুণে নিজেদেরকে গুণান্বিত করা। আর এ গুণ অর্জিত হবে অন্যকে ক্ষমা করার অভ্যাস গড়ার মাধ্যমে। স্মরণ রাখবেন, যে মানুষকে ক্ষমা করে, কেয়ামতের সেই কঠিন বিচারের দিন আল্লাহ্তায়ালাও তাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ