ঢাকা, মঙ্গলবার 26 January 2021, ১২ মাঘ ১৪২৭, ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

আফগানিস্তানে জার্মান দূতাবাসে গাড়ীবোমা হামলায় নিহত ২, আহত শতাধিক

অনলাইন ডেস্ক:  আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় বালখ প্রদেশের মাজার-ই-শরিফ এলাকার জার্মান দূতাবাসে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে ২ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছে। বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে তালিবান। কুন্দুজ শহরে এয়ার স্ট্রাইকের প্রতিশোধ নিতে এই আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে দাবী তালিবান গোষ্ঠির। বৃহস্পতিবার গভীররাতে ঘটনাটি ঘটেছে ।

জঙ্গিরা বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি নিয়ে দূতাবাসের  দেওয়ালে আঘাত করে। সঙ্গে চলে এলোপাথাড়ি গুলি। বিস্ফোরণের তীব্রতায় দূতাবাসের আশেপাশে দোকানের কাচের জানালা ভেঙে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দূতাবাসের চারিদিক ঘিরে ফেলে জার্মান সেনা ও ন্যাটো বাহিনী। জঙ্গিদের সঙ্গে চলে গোলাগুলি।

পুলিশ দুই জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে, তবে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ১০০ জন। এরমধ্যে ১০ জন শিশুও রয়েছে। আহতদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গুলিবষর্ণ শেষ হয়েছে। দূতাবাসটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নিরাপদে রয়েছেন সব জার্মান কর্মী। তবে কতজন আফগান কর্মকর্তা ও নিরাপত্তারক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন তা স্পষ্ট জানা যায়নি। জামার্ন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক ওয়ালটার স্টেইনমেয়ার আহত ও নিহত আফগান পরিবারের প্রতি শোকপ্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে, এক বার্তায় কুন্দুজ শহরে আমেরিকার এয়ার স্ট্রাইকের প্রতিশোধ নিতেই জার্মান দূতাবাসে আত্মঘাতী হামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তালিবান মুখপাত্র জাবিদুল্লা মুজাহিদ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনার পর কনস্যুলেট এলাকার আশপাশে হেলিকপ্টার ও অ্যাম্বুলেন্স দেখেছেন তারা। হামলায় দেয়াল ঘেরা কনস্যুলেট ভবনের ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ন্যাটোর এক মুখপাত্র।তিনি বলেন, অন্তত একটি বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি কনস্যুলেটের দেয়ালে আঘাত হানে বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। হামলায় আর কোনো গাড়ি ব্যবহৃত হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলার পর ন্যাটো বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভেতরে থাকা লোকজনকে সরিয়ে নেয়। 

কয়েকদিন আগে তালিবান হামলায় দুইজন মার্কিন সৈন্য ও তিনজন আফগান কর্মকর্তাকে হত্যা করার প্রতিশোধ নিতে গত সপ্তায় আফগানিস্তানের কুন্দুজ শহরে এয়ার স্ট্রাইক করে আমেরিকা। ওই হামলায় শিশুসহ বহু সাধারণ মানুষ প্রাণ হারায়। এরপর মৃতের পরিবার খোলা ট্রাকের মধ্যে মৃতদেহগুলো নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এয়ারস্ট্রাইক অভিযানে কী করে এত সাধারণ মানুষের মৃত্যু হল তার তদন্ত করে দেখছে আমেরিকা।

দূতাবাসে হামলার দায় স্বীকার করে তালেবান বলেছে, এটা চলতি মাসের শুরুতে উত্তরাঞ্চলীয় শহর কুন্দুজে নেটোর বিমান হামলার ‘প্রতিশোধ’।

কুন্দুজে হামলায় অন্তত ৩০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছেন। ওই হামলা নিয়ে তদন্ত করলেও ন্যাটোর দাবি, তালেবানরা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলার পর আফগান সৈন্যরা সাহায্য চাইলে সেখানে বিমান হামলা চালানো হয়। 

ন্যাটো জোটের হয়ে আফগানিস্তানে থাকা জার্মানির এক হাজার সৈন্যের অধিকাংশই ওই প্রদেশে অবস্থান করছে।-বিবিসি, টেলিগ্রাফ ও ইউরো নিউজ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ