সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

ট্রাম্পের জয়ে আরও একটি নাইন ইলেভেন হামলা হলো যুক্তরাষ্ট্রে -হামিদ মীর

১০ নবেম্বর, দৈনিক জং : ট্রাম্পের জয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আরও একটি নাইন ইলেভেন হলো বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের বিখ্যাত সাংবাদিক হামিদ মীর। গতকাল বৃহস্পতিবার দৈনিক জং পত্রিকায় প্রকাশিত কলামে তিনি এ মন্তব্য করেন।

‘যুক্তরাষ্ট্রের গর্বাচেভ’ শিরোনামে কলামটিতে হামিদ মীর বলেন, পনের বছর আগে ১১ নবেম্বর উসামা বিন লাদেন ওয়াশিংটন ও নিউইয়র্কে হামলা করেছিলেন। যার পরিণতিতে মুসলমানদের জন্য বিশ্ব বদলে গিয়েছিল। পনের বছর পর আমেরিকায় আরও একটি ভয়ঙ্কর হামলা হলো। এবারের এ হামলা উসামা বিন লাদেন করেননি বরং পুঁজিবাদী গণতন্ত্রই ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাধ্যমে এ হামলা করেছে।

হামিদ মীর বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল বিশ্বের একটি পরাশক্তিধর দেশের মিডিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকেও এমনভাবে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে যেমনিভাবে পনের বছর আগে নাইন ইলেভেন নিউইয়র্কের সর্বোচ্চ দালানকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল এটা প্রমাণ করে দিয়েছে মিডিয়া কিং মেকার নয়। মিডিয়াকে ক্রয় করা যায় কিন্তু মিডিয়ার মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের মগজ ক্রয় করা যায় না।

হামিদ মীর বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মার্কিন সংবাদ মাধ্যমের প্রচারিত অধিকাংশ অভিযোগগুলো মিথ্যা নয়, তবে ট্রাম্প এসব অভিযোগগুলোকে মোকাবেলার জন্য ভয়ঙ্কর পথ বেছে নিয়েছেন। ট্রাম্প ভাল ভাল কথা বলার পরিবর্তে মুসলমান এবং অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ঘৃণাকে নিজের রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে নিয়েছেন। এটা ওই ঘৃণা যা অধিকাংশ মার্কিনীদের মনে চাপা ছিল কিন্তু তারা এ ঘৃণা মুখ দিয়ে প্রকাশ করতে পারছিল না।

হামিদ মীর বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয় ভাষণে বলেছেন, আজকের পর থেকে আমি সকল আমেরিকানদের প্রেসিডেন্ট। তাদেরও প্রেসিডেন্ট যারা আমাকে ভোট দেয়নি। তিনি তার বক্তৃতায় এ ভরসা দেওয়ারও চেষ্টা করেছেন যে, তিনি আমেরিকাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। কিন্তু বক্তৃতা দেওয়ার সময় তার এটাও লক্ষ্য ছিল ভোটারদের অঙ্গীকার পূরণ না করা ব্যতীত তার নেতৃত্ব ধরে রাখা সম্ভব নয়। এর জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প যা করবেন তা সাংস্কৃতিক সংঘর্ষের মাঝ দিয়ে প্রকাশ হবে। এ ছাড়া বিশ্ব তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত হয়ে যেতে পারে।

হামিদ মীর বলেন, যদি মার্কিন নারীরা হিলারি ক্লিনটনকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট বানিয়ে নিতেন তাহলে হয়তো যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের আকৃতিতে একজন নতুন গর্বাচেভ জন্ম নিত না। কিন্তু মার্কিন নারীদের অধিকাংশই হিলারি ক্লিনটনের ওপর ভরসা করতে পারেনি। আমেরিকা আমেরিকার বিরুদ্ধেই রায় দিয়ে দিল এবং পুঁজিবাদী গণতন্ত্রই আমেরিকার গর্দানের শিকারি হয়ে গেল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ