শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

নির্বাচনের ফলাফল যে ভোটারদের হাতে

৭ নভেম্বর, বিবিসি : আমেরিকাতে ক্রিকেট জনপ্রিয় না হলেও এ দেশে নির্বাচনের খেলায় সুইং করার ইতিহাস দীর্ঘদিনের।
মোটামুটিভাবে ১১টি সুইং স্টেট রয়েছে যেখানে ভোটের হিসাব ঝুলে আছে সূক্ষ্ণ সুতোয়। অর্থাৎ এসব রাজ্যে রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতি সমর্থন প্রায় সমান সমান। তাই ভোটের ফলাফল যে কোন সময় যে কোন দিকে যেতে পারে।
এবার নির্বাচনের খবর জোগাড় করতে গিয়ে যেখানেই গিয়েছি, মানুষজনের সাথে কথা বলা পর মোটামুটিভাবে আন্দাজ করতে পেরেছি ভোটের হাওযা কোন্ দিকে বইছে। কিন্তু ক্লিভল্যান্ডে এসে সব গুলিয়ে গিয়েছে।
এখানে ভোটারদের সাথে কথা বলার পর মনে হয়েছে এরা হয় হিলারি ক্লিনটন এবং  ডোনাল্ড ট্রাম্প দুজনকেই ভালবাসেন, নয়তো দুজনকেই অপছন্দ করেন।
ওহাইও এমন প্রার্থীকে বেছে নেয় যে নির্বাচনে বিজয়ী হয়। এর পেছনে কারণ হলো আমরা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে একেবারে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিই যে ভোটটি কাকে দেব - ব্যাখ্যা করছিলেন ক্লিভল্যান্ডের প্রতিবেশী শহর অরোরার বাসিন্দা জ্যানেট।
তিনি জানালেন, বেশিরভাগ ওহাইওয়ান বাস্তববাদী। প্রার্থীদের মিষ্টি মিষ্টি কথায় তারা ভোলেন না। নির্বাচনের আগে ঝলমলে প্রতিশ্রুতিকে তারা পাত্তা দেন না। জনপ্রিয় টিভি টকশো হোস্ট জেরি স্প্রিংগার একবার এখান থেকে সিনেট নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন এবং তুমুল জনপ্রিয় হলেও ওহাইওয়ানরা তাকে ভোট দেননি। সুইং স্টেটগুলোর মধ্যে ওহাইওর রয়েছে চমকপ্রদ ইতিহাস।
গত ৩০ জন প্রেসিডেন্টের মধ্যে ২৮ জনই ওহাইও অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। ১৯৬০ সাল থেকে ওহাইও এমন সব প্রার্থীকে বেছে নিয়েছে, যারা শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। সে কারণেই রাজনৈতিক পন্ডিতরা ওহাইওকে রাষ্ট্রপতিদের সূতিকাগার বলে বর্ণনা করেন।
কিন্তু প্রার্থী বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে ওহাইওয়ানরা প্রার্থীর কোন্ কোন্ গুণাবলীর দিকে নজর রাখেন?
কথা হচ্ছিল ছোট্ট এক শহর পেরিসবার্গের বাসিন্দা লোরির সঙ্গে। তিনি বললেন, এমন একজনকে তিনি বেছে নিতে চান যিনি সৎ ও গণতান্ত্রিক। ওহাইওতে বহু খেটে খাওয়া মানুষ রয়েছেন। বহু মানুষ আছেন যারা সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা চান তাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হোক। সেটা বিবেচনা করেই তারা ভোট দেবেন।
নির্বাচনের প্রচারকার্য চালানো যাদের দাযত্বি তারা সুইং স্টেট হিসেবে ওহাইওকে বেশি পছন্দ করেন। তার পেছনে রয়েছে বেশ কযকেটি কারণ। এই অঙ্গরাজ্যকে বলা যায সারা দেশের একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ।
এই স্টেটে শহর-গ্রাম, ধনী-গরিবের মধ্যে একটা সূক্ষ্ণ ভারসাম্য রযেেছ। এখানে শ্বেতাঙ্গ ভোটার বেশি। হিসপ্যানিক ভোটার অন্যান্য স্টেটের তুলনায় কম।
এছাড়া ন্যাশনাল পালস্ বা জাতীর হৃৎস্পন্দনকে ওহাইওয়ানরা খুব ভালভাবে বুঝতে পারেন।
অ্যানা নরডিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্লিভল্যান্ডে আছেন। এই শহরের পরিবর্তনগুলো তার চোখের সামনেই ঘটেছে। তিনি বলছিলেন, আগে নিরাপত্তার ইস্যুটা খুব বড় প্রশ্ন ছিল, কিন্তু এখন মানুষের প্রধান চিন্তা তার চাকরি-বাকরি।
তারা ভাবেন তাদের চাকরি থাকবে কিনা, বাড়ির মর্টগেজ তারা ধরে রাখতে পারবেন কিনা, কিংবা পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব তারা ঠিকমত পালন করতে পারবেন কিনা ইত্যাদি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থীরা ঝাঁপিয়ে পড়েছেন ওহাইওর ওপর। প্রতিদিনই কোন না কোন প্রার্থী কিংবা তার পক্ষে কেউ না কেউ আসছেন ভোট চাইতে।
প্রচারের কাজে ব্যয় করছেন লক্ষ লক্ষ ডলার। গত শুক্রবারেই ক্লিভল্যান্ডে হিলারি ক্লিনটনকে সমর্থন করে এক অনুষ্ঠানে গান গেয়েছেন পপতারকা জে-য়ি এবং তার স্ত্রী বিয়েন্স। তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়। ওহাইওর ভোটাররা কাকে বাতিল করবেন? হিলারি না ট্রাম্পকে?
ট্রাম্প এখানে জিতলে সারা দেশেও তিনি জিততে পারবেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। অন্যদিকে, অতীতে ওহাইওতে না জিতেও ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। ১৯৬০ সালের সেই নির্বাচনের নাযক ছিলেন জন এফ কেনেডি।
ওহাইওর মন জয় করতে হলে হিলারি ক্লিনটনকে হয়তো কেনেডি হতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ