শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ট্রাম্পের আমেরিকায় কি আমার সন্তানের স্থান রয়েছে -খিজির খান

৭ নবেম্বর, সিএনএন/দ্য নিউইয়র্ক টাইমস : দু’সপ্তাহ আগে ডেমোক্র্যাটরা খিজির খানকে নিয়ে একটি দারুণ বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছেন। বিজ্ঞাপনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে খিজির খান প্রশ্ন রাখেন, আপনার আমেরিকায় আমার সন্তানের কি কোনো স্থান আছে? ইরাক যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন হুমায়ুন খানের (২৭) বাবা খিজির খান। পাকিস্তানি মুসলিম খিজির খান কয়েক মাস আগে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় কনভেনশনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তার ছেলের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে মুসলিমবিদ্বেষী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তুলোধোনা করেছিলেন। বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর খিজির খান মার্কিন রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। দক্ষিণ এশিয়ান মার্কিনিদের কাছে তিনি এখন অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘খিজির আঙ্কেল’।
 ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘বাজে প্রার্থী’ আখ্যা দিয়ে খিজির খান জানান, ডেমোক্র্যাটিক কনভেনশনে বক্তৃতা ও তার সূত্রধরে ট্রাম্পের সমালোচনার শিকার হওয়ার পর সারা দেশ থেকে মানুষ তাকে উৎসাহিত করেছে। সাধুবাদ জানিয়ে তিনি ও তার স্ত্রীকে ‘উদার আমেরিকার প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন অনেকে। অথচ ২০০৮ সালের নির্বাচনেও খিজির খানের এতখানি গুরুত্ব পাওয়া সম্ভব হত না। সেই বছর বারাক ওবামার একটি সমাবেশে হিজাব পরা দুই মহিলাকে মঞ্চের কাছে বসতে বাধা দেয় এই ডেমোক্র্যাট স্বেচ্ছাসেবকরাই। বারাক ওবামার বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরে চলা ‘মুসলিম গুজব’ ঠেকাতেই এমনটা করা হয়েছিল। বেশ কয়েক বছর ধরেই ওবামাকে এটি সহ্য করতে হয়েছে।
২০০৩ সালে বুশ ও ২০০৮ সালে ম্যাককেইনের প্রচারের জন্য বড় অঙ্কের তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন মুসলিম ফর আমেরিকা সংস্থার কর্তারা। এবার অধিকাংশই হিলারির পক্ষে। কারণ একটাই, ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মুসলিম ভোটের শতকরা ৭০ ভাগ পাবেন হিলারি। ক্রমবর্ধমান ইসলামভীতি মার্কিন মুসলিমদের আরও বেশি করে রাজনীতিতে সক্রিয় হতে উদ্বুদ্ধ করেছে। যদিও মুসলিমরা মোট জনসংখ্যার মাত্র এক শতাংশ, তবু ভোটের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই বিবেচিত। মার্কিন মুসলিমদের বেশির ভাগের বাস মিশিগান, ওহাইয়ো, ভার্জিনিয়া কিংবা ফ্লোরিডার মত দোদুল্যমান ভোটের রাজ্যগুলিতে। একটি মুসলিম পর্যবেক্ষক সংস্থার রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ২০১২ সালের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা শতকরা ৩০ ভাগ বেড়েছে। এই মুসলিম ভোট ব্যাংক সহজেই এই অঙ্গরাজ্যগুলিতে নির্বাচনী লড়াইয়ের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে বলে মনে করছে ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল। নির্বাচনে মুসলিম ভোটাররা ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন বলে মনে করছেন ভোট বিশেষজ্ঞরাও। এবারই প্রথম মুসলমানরা একটি গ্রুপ হিসেবে স্বতন্ত্রভাবে আমেরিকার রাজনৈতিক ইতিহাসে আবির্ভূত হয়েছেন বলে মনে করেন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল ইকোনমি বিভাগের অধ্যাপক শারিন হেলোরান। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের পর মুসলিম ভোটাররা আগের চেয়ে অধিক সচেতন হয়েছেন। বিশেষ করে এবারই প্রথম আমেরিকার মসজিদগুলি ভোটারদের উদ্ধুদ্ধ করতে ভূমিকা পালন করছে। শুধু তাই নয় ভোটার রেজিষ্ট্রেশন করেই মুসলিম কমিউনিটির নেতারা ক্ষান্ত হননি। ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যেতে ভূমিকা রাখছেন মুসলিম কমিউনিটির নেতারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ