শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ওয়েজবোর্ড ও মনিটরিং কমিটি গঠনে দলীয়করণ বরদাশত করা হবে না

সাংবাদিক ও সংবাদপত্রসেবীদের জন্য নবম ওয়েজবোর্ড গঠন ও ওয়েজবোর্ড মনিটরিং কমিটি পুনর্গঠনে তথ্য মন্ত্রণালয়ের একচোখা নীতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে’র নেতৃবৃন্দ। গতকাল সোমবার এক যুক্ত বিবৃতিতে বিএফইউজে’র সভাপতি শওকত মাহমুদ ও মহাসচিব এম আবদুল্লাহ এবং ডিইউজে সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান বলেন, বিধি-বিধান ও প্রচলিত রীতি-নীতি উপেক্ষা করে কেবলমাত্র সরকার সমর্থক সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে ওয়েজবোর্ড ও মনিটরিং কমিটি পুনর্গঠন করা হলে তা সাংবাদিক ও সংবাদপত্রসেবীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। 

বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, অতীতে সব সময় সাংবাদিক শ্রমিক কর্মচারি ঐক্য পরিষদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রাম এবং সকলের অংশগ্রহণে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ওয়েজবোর্ড ও মনিটরিং কমিটি গঠিত হয়েছে। কিন্তু এবার আমরা গভীর উদ্বেগ ও পরিতাপের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, সাংবাদিক ও সংবাদপত্রসেবীদের ন্যায়সংগত দাবি উপেক্ষা করে সরকার নবম ওয়েজবোর্ড গঠনে টালবাহানা করছে। সম্প্রতি তথ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত একটি সভায় ওয়েজবোর্ড গঠন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে এক সরকারি তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়েছে। তথ্য বিবরণীতে যে সভা অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে সেখানে সাংবাদিক সমাজের প্রতিনিধিত্বকারি রেজিস্ট্রার্ড দু’টি সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ( রেজি নং বি-১৯৮৭) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়-ডিইউজে ( রেজি নং বি-৮২৯) এর কোন প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি সাংবাদিক শ্রমিক কর্মচারি ঐক্য পরিষদভুক্ত অন্য দু’টি ফেডারেশন যথাক্রমে বাংলাদেশ সংবাদপত্র কর্মচারি ফেডারেশন (রেজি; নং বি-১৬২১) এবং বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব নিউজ পেপার প্রেস ওয়ার্কার (রেজি নং বি-১১৮৭) এর প্রতিনিধিত্বও ছিল না। আমরা আরও জানতে পেরেছি যে, দীর্ঘ দিন পর ওয়েজবোর্ড মনিটরিং কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেখানেও উল্লেখিত নিবন্ধিত সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিত্ব উপেক্ষা করা হচ্ছে। যুগ যুগ ধরে অনুসৃত নীতি অনুযায়ী সাংবাদিক শ্রমিক কর্মচারি ঐক্যপরিষদের কাছে প্রতিনিধিত্ব না চেয়ে অংশবিশেষের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে কমিটি পুনর্গঠনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। যা কোন মতেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রীতি-নীতি ভঙ্গ করে ওয়েজবোর্ড বা মনিটরিং কমিটি গঠন করা হলে তা সাংবাদিক সমাজ বরদাশত করবে না। অতীতের মতো ওয়েজ বোর্ড ও মনিটরিং কমিটির জন্য সাংবাদিক শ্রমিক কর্মচারি ঐক্য পরিষদের কাছে প্রতিনিধি চাইতে হবে। সংগোপনে বা একতরফাভাবে গঠিত যে কোন কমিটি আইগতভাবে বৈধ হবে না এবং সাংবাদিক ও সংবাদপত্রসেবীদের কাছে প্রত্যাখ্যাত হবে। 

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সংবাদপত্র শিল্পের প্রতিনিধিত্বশীল সকল সংগঠনের সাথে আলোচনা করে নবম ওয়েজবোর্ড গঠন ও মনিটরিং কমিটি পুনর্গঠনের জোর দাবি জানান। তা না হলে শিল্পে যে অসন্তোষ সৃষ্টি হবে তার দায়-দায়িত্ব তথ্য মন্ত্রণালয়কে বহন করতে হবে বলে উল্লেখ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ