শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের শপথ

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গতকাল সোমবার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর মুনাজাত করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও নেতৃবৃন্দ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : অবৈধ সরকারকে হটিয়ে দেশকে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের শপথের মধ্যদিয়ে গতকাল সোমবার রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত সিপাহী জনতার বিপ্লবের স্মরণে এই দিবসটি পালিত হয়। গতকাল সকাল থেকে নানা আয়োজনে এই দিনটি পালন করছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী আদর্শে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনগুলো। দিবসটি উপলক্ষে সংবাদপত্রে বিশেষ ক্রোড়পত্র বের করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মিডিয়া দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করেছে।

দিবসটি উপলক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সকাল ৬টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ ছাড়া দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও তার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মুনাজাত করেন। ৭ নবেম্বর উপলক্ষে জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা জড়ো হতে খাকেন। খ- খ- মিছিল নিয়ে জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দলের নেতাকর্মীরা। বেলা বাড়ার সাথে সাথে সেটি জনস্রোতে রূপ ধারণ করে। 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ নেতা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, রুহুল আলম চৌধুরী, আবদুল মান্নান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, আমান উল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, হাবিবুর রহমান হাবিব, রুহুল কবির রিজভী, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, কাজী আসাদুজ্জামান আসাদ, নাজিমউদ্দিন আলম, কামরুজ্জামান রতন, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আফরোজা আব্বাস, সাইফুল আলম নিরবসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে হাজারো নেতা-কর্মীর পদচারণায় মুখরিত ছিল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজার প্রাঙ্গণ। গতকাল সকাল থেকেই পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শেরেবাংলা নগরের জিয়ার সমাধিতে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা হাজির হন। সকাল ৮টা থেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল ও শ্রমিক দলসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পৃথক মিছিল নিয়ে সমাধিস্থলে জড়ো হন। তারা মিছিল আর শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করে রাখে শেরেবাংলা নগরের চারপাশ। দীর্ঘদিন পর বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে ঘিরে বিএনপি বিশাল শোডাউন করেছে। 

শ্রদ্ধা জানাতে আসা লালবাগ থানা যুবদলের সভাপতি তাসাদ্দেক হোসেন বাবলু জানান, আওয়ামী লীগের দুঃশ্বাসন থেকে জনগণের যে মুক্তির আকাঙ্খা আজকের হাজারো মানুষের ঢল তারই প্রমাণ। লালবাগ থানা ছাত্রদলের সভাপতি মাহমুদুল বাপ্পি জানান, সত্যিকার গণতন্ত্র ফিরে পেতে আমরা জীবন বাজি রেখে লড়ে যাবো। বিএনপি সব সময় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী একটি দল।

জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার ৭ নবেম্বর উপলক্ষে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি। তবে আমরা আশা করি সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। সমাবেশের অনুমতি পাওয়া-না পাওয়া সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা (সরকার) গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে চালু রাখার জন্য বিএনপির যে গণতান্ত্রিক অধিকার সেই অধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ দেবে। সমাবেশের অনুমতি দেবে এবং বিএনপি একটি সমাবেশ করার সুযোগ পাবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সমাবেশকে ঘিরে সরকার ও ডিএমপি যে মিথ্যা কথা বলছে তা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে যে সম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য রয়েছে তাকে বিনষ্ট করা এবং বাংলাদেশের ভাবমর্যাদাকে খারাপভাবে দেখানোর জন্য এই ধরনের ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হচ্ছে। আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে, ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগের লোকেরাই। পত্রপিত্রকায় এসেছে কারা এর নেতৃত্ব দিয়েছে। তাতে এটাই প্রমাণিত হয়েছে, এই সরকারি দলের লোকেরাই এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে বিরোধী দলের ওপর সেই দোষ চাপায়। সেটা অত্যন্ত বিকৃত এবং হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার শামিল। এ ধরনেরর ঘটনা ঘটিয়ে বিরোধী দলকে দমনের চেষ্টা অব্যবাহত রেখেছে তারা।

অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভাজনের রাজনীতি শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই তারা এ বিভাজনের রাজনীতি শুরু করে। তারা মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা ছিল তাকে নস্যাৎ করে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল। সেখান থেকে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। মানুষের কথা বলা, লেখা ও মৌলিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ করা হয়েছিল। দুর্ভাগ্য আওয়ামী লীগ সবগুলোকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। একে একে তারা সমস্ত অধিকার হরণ করেছে। এমনকি মানুষের যে ভোটের অধিকার ছিল সেটাকে পর্যন্ত তারা কেড়ে নিয়েছে। সুতরাং আমরা একটি অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বাস করছি। এটা একটা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা। এ থেকে মুক্তি পেতে হবে। দেশের সকল মানুষ এই অবস্থা থেকে ‘মুক্তি চায়’ যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিন বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী সৈনিক ও জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাম্রাজ্যবাদ ও সকল ষড়যন্ত্রকে রুখে দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে সুসংহত করেছিল। সেই দিনেই এই দেশপ্রেমিক জনগণ বন্দী অবস্থা থেকে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে তার কাছে দায়িত্ব অর্পণ করেছিল। সেদিন থেকেই আধুনিক বাংলাদেশের নতুন একটি অধ্যায় শুরু হয়েছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার নেতৃত্বে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তিনি বলেন, এখন দেশে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্যও ক্ষমতাসীন আ’লীগ দায়ী। এর থেকে উত্তরণে বেগম জিয়া আন্দোলন করছেন। তিনি দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসার আহবান জানান। 

লেবার পার্টি : লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেছেন, বর্তমান অবৈধ শেখ হাসিনার সরকার ফ্যাসিবাদী কায়দায় স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়ার পদক কেড়ে নিতে পারলেও কোটি কোটি দেশপ্রেমিকের হৃদয় থেকে জিয়াকে মুছে ফেলা সম্ভব হবে না। কেননা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদ জিয়া একসূত্রে গাঁথা। তিনি ২৬ মার্চ পাকিস্তানী সেনাবাহীনিতে কর্মরত অবস্থায় বিদ্রোহ করে নিজেকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করে স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। জাতির ক্রান্তিকালে ৭ নবেম্বর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত ছিন্ন করে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শেরেবাংলা নগরস্থ মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের নেতৃত্বে কর্মসূচিতে অশং নেন লেবার পার্টির মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক রহমান, যুগ্ম মহাসচিব শামসুদ্দিন পারভেজ। হিন্দুরত্ম রামকৃষ্ণ সাহা, ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আনোয়ার হোসাইন, ছাত্রমিশন সভাপতি কামরুল ইসলাম সুরুজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান হোসেন, প্রচার সম্পাদক হাফিজুর রহমান রিফাত প্রমুখ।

মফস্বল সাংবাদিক এসোসিয়েশন : ৭ নবেম্বর উপলক্ষে গতকাল শহীদ জিয়ার মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মফস্বল সাংবাদিক এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাসুদ উজ জামান, মহাসচিব সরকার মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সচিব রফিকুল ইসলাম, মেজবা উদ্দিন প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ