শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

নরসিংদী সদর ইউএনও’র বিরুদ্ধে সরকারি গাছ আত্মসাৎসহ বিভিন্নমুখী দুর্নীতির অভিযোগ

নরসিংদী সংবাদদাতা : নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোতাকাব্বীর আহমেদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা চেয়ারম্যান বিরোধী দলীয় হওয়ার সুযোগে তিনি নিজেই একক সিদ্ধান্তে কাজ করছেন। পরিষদের সিদ্ধান্ত ছাড়া তিনি উপজেলা পরিষদের মাঠের ১৭টি মুল্যবান মেহগনি ও জাম গাছ কেটে আত্মসাৎ করেছেন। উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে থেকে গাছগুলো কেটে রাতের আধারে গাছের গুড়া ও মূল মাটির নিচ থেকে উঠিয়ে সরিয়ে ফেলেছেন। এই ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য গাছের জায়গাগুলোর উপর তিনি সিসি ঢালাই করিয়ে নিয়েছেন। আর এ নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয়ে তিনি উপজেলা পরিষদের পুকুর পাড়ের গাছ কেটে অর্ধেক প্রায় পুকুর ভরাট করে ফেলেছেন। যে পুকুরে অতীতে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীগন মৎস সপ্তাহে মাছ ছেড়েছেন। উপজেলা পরিষদের বাতিল প্রায় মিলনায়তনে পরিষদের সিদ্ধান্ত ছাড়াই সংস্কার কাজ করিয়ে ৮টি এসি লাগিয়েছেন। এই এসিসমূহের টাকা তিনি পরিষদ থেকে নেননি। স্থানীয় দুর্নীতিবাজ ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও অসৎ ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে চাঁদা তুলে তিনি এসব এসি নিজেই ক্রয় করেছেন বলে জানা গেছে। এই এসির জন্য কত টাকা চাঁদা আদায় করেছেন এবং কত টাকা ব্যায় করেছেন তার কোন হিসেব নেই। উপজেলা পরিষদের কোন সদস্যই এর হিসেব সম্পর্কে কোন তথ্য দিতে পারেনি। 

 অত্যন্ত বিলাসপ্রিয়, দুর্নীতিবাজ এ নির্বাহী কর্মকর্তা সরকারী নিয়ম ভঙ্গ করে তার অফিস কক্ষটিকে জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এমনকি মন্ত্রীদের অফিসের চেয়েও সুসজ্জিত করেছেন। দামী কাষ্ঠাসন, দামী আলমিরা, দামী সোফা, দামী দামী চেয়ার দিয়ে সাজিয়ে এরউপর দামী এসি লাগিয়ে তার অফিস কক্ষটিকে একটি রাজকীয় অফিসে পরিণত করেছেন। প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও সরকারি নিয়ম ভঙ্গ করে তিনি তার সরকারী বাসভবনকে ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে মেরামত করে মন্ত্রীর বাড়ীর চেয়েও বিলাসবহুল বাড়ীতে পরিণত করেছেন। অথচ ২১ লাখ টাকা ব্যয় তার সরকারি বাসভবনের মত একটি নতুন দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা সম্ভব ছিল বলে জানিয়েছে অভিযোগকারীরা। তার সরকারি ভবনের মেরামত কাজটিও তিনি নিজ হাতেই করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ঠিকাদাররা জানিয়েছে তার বাসা মেরামতে ২১ লাখ টাকা ব্যায় হবার কোন জায়গা ছিলনা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশ্রয়, প্রশ্রয়ে ও রহস্যজনক নমনীয়তার কারণে কোটি কোটি টাকার নির্মাণ কাজে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পগুলোর প্রাক্কলন তৈরীতেও দুর্নীতি করা হয়েছে। অতিরিক্ত আইটেম সংযোজন করে টাকার অংক বাড়িয়ে-বাড়িয়ে সরকারী টাকার অপচয় করা হয়েছে। অধিকাংশ রাস্তা নির্মাণের পর বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে গেছে। বেশিরভাগ প্রকল্পেই নিম্নমানের ইট, নিম্নমানের লোহা ও নিম্নমানের সিমেন্ট, বালু ব্যবহার করা হয়েছে। রহস্যজনক কারণে নির্বাহী কর্মকর্তা এসব প্রকল্পসমূহের কাজ সঠিকভাবে তদারক করেননি। উপরন্তু কাজ যাচাই না করেই রহস্যজনক কারণে ঠিকাদারদেকে বিল পরিশোধ করে দিয়েছেন। একইভাবে এলজিএসপি, ওয়ানপার্সেন্ট, কাবিটা, কাবিখা, এডিপি ও টেস্ট রিলিফ কার্যক্রমে নরসিংদী সদরে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। ইতোমধ্যেই হাজীপুর ইউনিয়নে ৩৭টি ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ ওই পরিষদের মেম্বার সুজিত সুত্রধর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করেছেন। যা দুর্নীতি দমন বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের তদন্তাধীন রয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে এই দুর্নীতির তদন্তভার ইউএনও মোতাকাব্বির আহমেদের উপর অর্পণ করা হয়েছে। অথচ দীর্ঘ ৭ মাস অতিক্রান্ত হলেও তিনি এই দুর্নীতি বা সরকারি টাকা আত্মসাতের তদন্তের রিপোর্ট জেলা প্রশাসককে প্রদান করছেন না। একই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিএফ’র চাল আত্মসাতের ঘটনা, জেলা ম্যাজিস্ট্রেসির হাতে ধরা পড়ে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের লিখিত নির্দেশে পিআইও বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোতাকাব্বির আহমেদের রহস্যজনক নির্লিপ্ততার কারণে মামলাটি ধামাচাপা পরার আশংকা দেখা দিয়েছে। পরিষদের চাল আত্মসাতের ঘটনার পরও নির্বাহী কর্মকর্তা মোতাকাব্বির আহমেদ মামলটির যথাযথ তদারকি করছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ আড়াই বছর যাবত মামলাটি ঝুলে রয়েছে। একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, নরসিংদী সদর উপজেলার বেশির ভাগ ইউনিয়নেই এলজিএসপি’র ওয়ানপার্সেন্ট এডিপি, কাবিখা, কাবিটা ও টেস্টরিলিফের প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি রয়েছে। এসব প্রকল্প দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করবে বলে জানা গেছে। 

অপর একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, নির্বাহী কর্মকর্তা মোতাকাব্বির আহমেদ রাত ১০টা পর্যন্ত অবাঞ্ছিতদেরকে নিয়ে অফিসে আড্ডা জমিয়ে রাখতেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে গত মাসখানেক যাবৎ তিনি দুপুরের পর আর অফিস করছেন না। এতে উপজেলা পরিষদের কার্যক্রমে বিঘ্নের সৃষ্টি হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ