শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

দেশীয় চ্যানেলে বিদেশী অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধের দাবি 

স্টাফ রিপোর্টার : দেশীয় চ্যানেলে বিদেশী অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনালস অর্গানাইজেশন এফটিপিও’র প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠনের নেতারা। তারা বলেছেন, তাদের কাজ হবে সবাই মিলে এক প্লাটফর্মে দাঁড়ানো এবং টিভি মিডিয়ার অনিয়ম বন্ধ করে দর্শককে মানসম্পন্ন নাটক ও টিভি অনুষ্ঠান উপহার দেওয়া।

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে রোববার সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এফটিপিও’র বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরা হয়। দেশীয় চ্যানেলে বিদেশী অনুষ্ঠান প্রচার বন্ধ করার দাবি জানান এফটিপিও’র প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠনের নেতারা। একই সঙ্গে টিভি নাটকের মান বাড়াতে বাজেট বাড়ানোরও দাবি জানানো হয়।

সরকার ও টেলিভিশন চ্যানেলের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি তুলে ধরা হয় সাংবাদিক সম্মেলনে। এর মধ্যে রয়েছে- দেশের বেসরকারি চ্যানেলে বাংলায় ডাবকৃত বিদেশী সিরিয়াল/অনুষ্ঠান বন্ধ করতে হবে। টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ, ক্রয় ও প্রচারের ক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট/এজেন্সির হস্তক্ষেপ ছাড়া চ্যানেলের অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। দেশের টেলিভিশন শিল্পে বিদেশী শিল্পী ও কলাকুশলীদের অবৈধভাবে কাজ করা বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে কাজ করতে হবে, সরকারের অনুমতি এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনসমূহে নিবন্ধিত হতে হবে। অনুষ্ঠান নির্মাণের প্রয়োজনে সরঞ্জামাদি বিদেশ থেকে আনার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। টেলিভিশন শিল্পের সর্বক্ষেত্রে এ আই টি’র ন্যূনতম ও যৌক্তিক হার পুনঃনির্ধারণ করতে হবে। ডাউন লিংক চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশী চ্যানেলে দেশীয় বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করতে হবে।

ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলিক বলেন, খ- নাটকের বাজেট আড়াই লাখ টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকায় কেন নেমে এলো? ৬০ হাজার টাকার নাটক দিয়ে এখন ১০ লাখ টাকার বিদেশী সিরিয়ালের সঙ্গে আমাদের প্রতিযোগিতায় নামানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে আমাদের নাটকের মান খারাপ। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, এখন ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

নাট্যকার মাসুম রেজা বলেন, নব্বই দশকেও আমাদের দেশের নাটক বিদেশে প্রশংসা কুড়িয়েছে। কলকাতার সবাই আমাদের নাটক দেখেছে। কিছু অনিয়মের জন্য আমাদের নাটকের মান নেমে গেছে, এখন শৃঙ্খলা আনতে হবে। টিভি নাটকের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে। এর জন্য সবাই এক প্লাটফর্মে দাঁড়িয়েছি।

দীপ্ত টিভিতে তুর্কি সিরিয়াল সুলতান সুলেমানের জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় একাধিক চ্যানেলে শুরু হয়েছে বিদেশি সিরিয়াল প্রচার। এ তালিকায় রয়েছে, মাছরাঙা টিভিতে দ্য সোর্ড অব টিপু সুলতান, আরটিভির সিনড্রেলার বোন, গাজী টিভির আলিফ লায়লা, একুশে টিভির সীমান্তের সুলতান ও হাতিম।

এফটিপিও’র সদস্য সংগঠনের নেতারা সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। সদস্য সংগঠনের মধ্যে রয়েছে টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন, ডিরেক্টরস গিল্ড, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘ, অভিনয়শিল্পী সংঘ, ক্যামেরাম্যান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, শুটিং হাউজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশান, টেলিভিশন টেকনিশিয়ান অ্যাসোসিয়েশান, মেইক-আপ আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশান,টেলিভিশন লাইট হাউজ অ্যাসোসিয়েশান, টেলিভিশন লাইট ক্রু অ্যাসোসিয়েশান, সহকারী পরিচালক সমিতি, প্রযোজনা ব্যবস্থাপক সমিতি।

এফটিপিও’র আহ্বায়ক মামুনুর রশীদের সঞ্চালনায় সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সদস্য সচিব গাজী রাকায়েত। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলিক, নাট্যকার সংঘের সভাপতি মাসুম রেজা, অভিনয় সংঘের সদস্য সচিব আহসান হাবিব নাসিম, প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার পাঠান’সহ অনেকে। উপস্থিত ছিলেন শামস সুমন, মেজবাহ উদ্দীন সুমন, নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী, শহিদুল আলম সাচ্চু’সহ অনেকে।

সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, টিভি নাটকের বর্তমান সঙ্কট থেকে উত্তরণে এক প্লাটফর্মে দাঁড়িয়েছে দেশের টেলিভিশন মিডিয়ার ১২টি সংগঠন। এই সম্মিলিত প্লাটফর্মের নাম রাখা হয়েছে ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনালস অর্গানাইজেশন এফটিপিও। এই প্লাটফর্মে আছেন প্রযোজক, নির্মাতা, নাট্যকার, অভিনয়শিল্পী, ক্যামেরাম্যান, প্রোডাকশন হাউজসহ টিভি মিডিয়ার বিভিন্ন মাধ্যমের প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিরা। 

এফটিপিও’র আহবায়ক মামুনুর রশীদ জানান, ২৬ নভেম্বর এফটিপিও’র সদস্যদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে, ২৯ নভেম্বর সাংবাদিক সম্মেলন করা হবে এবং ৩০ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে টিভি চ্যানেলে বিদেশী সিরিয়াল প্রচারের প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ