শুক্রবার ০৫ জুন ২০২০
Online Edition

নাসিরের চেয়ে শুভাগত হোম ভালো স্পিনার -প্রধান নির্বাচক

স্পোর্টস রিপোর্টার : নিউজিল্যান্ড সফরের আগে অস্ট্রেলিয়ায় প্রস্তুতি ক্যাম্পের দলে জায়গা হয়নি অলরাউন্ডার নাসির হোসেনের। নির্বাচকদের কাছে এখন অনেকটাই পেছনে পড়ে গেছেন এই অলরাউন্ডার। অনেক দিন ধরে বাংলাদেশের সীমিত ওভারের স্কোয়াডে থাকলেও একাদশে জায়গা পাচ্ছিলেন না নাসির। নানা সময়ে প্রশ্ন উঠেছে সেটি নিয়ে। এবার তিনি জায়গা হারিয়েছেন স্কোয়াডেই। নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য তাকে রাখা হয়েছে স্ট্যান্ড বাই তালিকায়। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু মনে করেন, বড় দৈর্ঘ্যরে ম্যাচে নাসিরের চেয়ে ভালো স্পিনার শুভাগত হোম। নাসিরকে নিয়ে প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘একই পজিশনের জন্য বেশ কজন ক্রিকেটার আছে। ছয়-সাত নম্বর জায়গাটায় ওয়ানডেতে এখন আমাদের মোসাদ্দেক এসে গেছে। টেস্টে সাব্বির ভালো শুরু করেছে। তার পর শুভাগতও আছে, নাসিরের চেয়ে ওর স্পিন ভালো। তাহলে দেখুন, নাসির এখানে চার নম্বরে চলে গেছে। এর বাইরেও সৌম্য সরকার আছে। নিউজিল্যান্ডের জন্য ওকে আমরা অলরাউন্ডার হিসেবে ভাবছি। হয়ত নীচে ব্যাট করাতে পারি। সব মিলিয়ে নাসিরকে রাখা যায়নি। একই জায়গার জন্য এতজনকে রাখতে চাইনি আমরা।’ নাসিরকে বাইরে রেখে শুভাগতকে রাখার ব্যাপারটি অনেকের কাছেই খটকা লেগেছে। ৮ টেস্ট খেলে ফেললেও এখনও কার্যকর কিছু করতে পারেননি শুভাগত। ৬৩.২৫ গড়ে উইকেট মাত্র ৮টি। একটি অর্ধশতকে ২৪৪ রান করেছেন ২২.১৮ গড়ে। এব্যাপারে নির্বাচক বলেন, ‘বড় দৈর্ঘ্যরে ম্যাচে বোলিং বিবেচনায় এগিয়ে আছেন শুভাগত। আমরা শুভাগতকে অফ স্পিনার হিসেবেই বিবেচনা করছি। বড় দৈর্ঘ্যওে ম্যাচে নাসিরের চেয়ে শুভাগতর বোলিং আরও কার্যকর। তাছাড়া এটা শুধু ক্যাম্পেরই দল। চূড়ান্ত দলে শুভাগত থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে। আপাতত বোলিংয়ে নাসিরের চেয়ে শুভাগত আমাদের কাছে এগিয়ে।’ দেশের মাটিতে টেস্টে চার স্পিনার নিয়ে খেললেও নিউজিল্যান্ডে সেই সম্ভাবনা সামান্যই। সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে স্কোয়াডে বড়জোর তৃতীয় স্পিনার হিসেবে থাকতে পারেন হয়ত তাইজুল ইসলাম। শুধু বোলিংয়ে পিছিয়ে থাকা নয়, নিউজিল্যান্ডে নাসিরের ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়েও সংশয় আছে নির্বাচকদের। তিনি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে নাসির ব্যাট হাতে কতটা ভালো করতে পারবে, আমরা ঠিক নিশ্চিত নই। আমরা দেখেছি বাউন্সি উইকেটে পেস বোলিংয়ে একটু দুর্বলতা আছে ওর। সৌম্য আবার এই ধরনের উইকেটে ভালো ব্যাট করে।’ ক্যাম্পের দলে পেসার হিসেবে ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার পাশাপাশি আছেন অস্ত্রোপচারের পর পুনর্বাসনে থাকা মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শফিউল ইসলাম, শুভাশীষ রায়, মোহাম্মদ শহীদ। আর এবাদত হোসেনকে রাখা হয়েছে তাকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করতে। এমনিতে রুবেলের টেস্ট পারফরমান্স ভীষণ বিবর্ণ। ২৩ টেস্টে নিয়েছেন মাত্র ৩২ উইকেট। গড় ৭৫.৯০, স্ট্রাইক রেট ১১৬.৬, দুটিই ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে রেকর্ডের অন্যতম। তবে শুধু রেকর্ডই নয়, রুবেলকে দলে না রাখার আরও কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তান সিরিজে ওর বোলিং আহামরি ছিল না। স্কিল বোলিং ফিটনেসে ওর ঘাটতিটা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। মানে ছন্দে থাকা, লম্বা সময় বোলিং করা, এসবে ঘাটতি চোখে পড়েছে।’ আফগানিস্তান সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৯ ওভারে ৬২ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছিলেন রুবেল। পরের ম্যাচে ৩ ওভারে ২৪ রান দেয়ার পর আর বোলিং দেয়ার সাহস করেননি অধিনায়ক। যে জায়গায় ছিল রুবেলের বিশেষত্ব, সেই পুরোনো বলে আগের মত কার্যকর মনে হয়নি তাকে।’ প্রধান নির্বাচক আরো বলেন, ‘একটা জায়গায় রুবেলের ভাগ্য খারাপ, জাতীয় লিগে বেশি বোলিং করার সুযোগ পায়নি। দুটি ম্যাচেই বৃষ্টি হলো। লিগে ২০-২৫ ওভার বোলিং করলে হয়ত আমরা বুঝতে পারতাম যে স্কিল ফিটনেসটা পেয়েছে। তবে সব তো শেষ হয়ে যায়নি। সামনে অনেক খেলা আছে। ভালো করলে আবার ফিরবে।’ রুবেলের পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে আল আমিনের না থাকা নিয়েও। টেস্ট পারফরম্যান্স যদিও রুবেলের মতো তারও ভীষণ বিবর্ণ। ৬ টেস্টে ৬ উইকেট নিয়েছেন ৭৬.৬৬ গড় ও ১৪৬.৬ স্ট্রাইক রেটে। কিন্তু ইংল্যান্ড সিরিজে আহামরি কিছু করতে পারেননি শফিউল ইসলামও। আল আমিনের ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচক বললেন অন্য বিকল্পদের নাম। তিনি বলেন, ‘চোট কাটিয়ে শহীদ ফিরেছে। মাশরাফি-তাসকিন তো আছেই। মুস্তাফিজ ফিরবে আশা করি। শফিউল তো খুব ভালো করছে আমাদের মতে। রিদমে আছে বেশ। শুভাশীষ ওই কন্ডিশনে যথেষ্টই ভাল করতে পারে আমাদের ধারণা।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ