সোমবার ১২ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

বাংলাদেশী নাবালিকা পাচারে জড়িত মহিলা চক্র

রাজ্যশ্রী বকসী,কলকাতা :পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বাংলাদেশ বর্ডার এলাকাগুলিতে আবারও বড়সড় সাফল্য পেল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মাদক পাচার ও বাংলাদেশী মহিলা ও নাবালিকা পাচার চক্রের এক পান্ডা সহ চারজন মহিলাকে গ্রেপ্তার করল ভাঙড় থানার পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে বাসন্তী হাইওয়ের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

ধৃতদের কাছ থেকে ৩০০ গ্রাম হেরোইন ও নগদ ৬৫ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া হেরোইনের বাজার মূল্য ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাত লাখ টাকা। একই সাথে এদের জেরা করে সন্ধান পাওয়া যায় ভারতে পাচার হয়ে আসা বাংলাদেশী অসহায় মেয়েদের বিক্রির বেশ কয়েকটি ‘ ঠেক’-এর হদিস। দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঘুটিয়ারি শরিফ সহ ভাঙড়ের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় ছিল এই মহিলা ও মাদক পাচার চক্র। এমনটাই পুলিশের কাছে খবর ছিল। সেই মতই গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ এবিষয়ে বিভিন্ন এলাকায় সাদা পোশাকে তল্লাশি অভিযানও চালাচ্ছিল। সেই সূত্র থেকে মঙ্গলবার বিকেলে ধরা পড়ে এই মহিলা মাদক পাচার চক্র। ভাঙড় থানায় এবিষয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে ডিএসপি(ক্রাইম) এম হাসান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই একটি মাদক পাচার চক্র জেলাজুড়ে কাজ করছিল। আমরা গোপন অভিযান চালিয়ে চারজনকে ধরতে সমর্থ হয়েছি। বাকিদের সন্ধান চলছে।”তিনি আরও জানান, নদীয়ার কালিগঞ্জের বাসিন্দা নাসরিন লস্কর এই চক্রের মূল পান্ডা। বিকেল ৪টা নাগাদ সাদা পোশাকের পুলিশ ঘটকপুকুর বাজার থেকে নাসরিনকে ৩০০ গ্রাম হেরোয়িন সহ গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকেই বাকি তিনজনের হদিশ পায় পুলিশ। বাসন্তী হাইওয়ের পাগলারহাট, বালিগাদা বাজার থেকে সাইমা লস্কর, রজিনা বিবি ও নুরনাহার গাজি নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। সাইমা ও রেজিনার বাড়ি ঘুঁটিয়ার শরিফ এলাকায়। নুরনাহারের বাড়ি বাসন্তীতে। সে স্থানীয় সুকান্ত কলেজের কলা বিভাগের ছাত্রী। ধৃতের কাছ থেকে কলেজের পরিচয় পত্রও উদ্ধার হয়েছে। জেরায় পুলিশ জানতে পেরেছে, কালিগঞ্জের রফিক মোল্লার কাছ থেকে সাধারণত হাত বদল হয়ে বাংলাদেশী মেয়েদের এরা মূলত কোলকাতার সোনাগাছী ও খিদিরপুর অঞ্চলের নিষিদ্ধপল্লীতেই সরবরাহ করত। এদেরকে কোলকাতায় কাজের লোভ দেখিয়ে ভুলিয়ে নিয়ে আসা হয়। ধৃতদের বুধবার আলিপুর আদালতে তোলা হয়।

এমন খবর অবশ্য নতুন নয় বহুবারই খবরের কাগজের পাতায় দেখা যায়। তবে সব থেকে চমক হল, আগে বাড়ির গৃহবধূরা এই পাচারের পেশায় আসত। এখন সেখানে কলেজের ছাত্রিরাও সামিল। তবে কি আদোও এ রাজ্যে শিক্ষিতের সংখ্যা বাড়ছে নাকি খাতা কলমেই শিক্ষিত হচ্ছে বাংলা?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ