সোমবার ১২ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ঋণের অর্থে বাজেটের ঘাটতি মেটাচ্ছে সরকার

স্টাফ রিপোর্টার : বাজেটের ঘাটতি মেটাতে সরকারের ঋণের বোঝা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে অন্যান্য খাতের পাশাপাশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে সেই অর্থ থেকেও ঋণ নিচ্ছে সরকার। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই সঞ্চয়পত্র বিক্রি ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে। টাকার অংকে গত তিন মাসে ১৫ হাজার ১১৩ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার চলতি অর্থবছরে যে পরিমাণ সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্য ধরেছিল, তার ৬০ শতাংশ বিক্রি হয়ে গেছে তিন মাসেই। এই প্রেক্ষিতে দেশের অর্থনীতির একজন গবেষক বলছেন, ব্যাংকে আমানতের সুদের হার ক্রমাগত কমতে থাকায় সাধারণ মানুষ তাদের সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগের জন্য সঞ্চয়পত্র ছাড়া আর কোনো লাভজনক বিকল্প পাচ্ছে না।

ফলে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাচ্ছে, বাড়ছে সরকারের ঋণের বোঝা, বাড়ছে সুদ। এতে সরকারের রাজস্ব বাজেটের ওপর চাপ পড়ছে। যে করেই হোক এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তা না হলে বাজেট ব্যবস্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। 

জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের দেয়া তথ্যমতে সঞ্চয়পত্র বিক্রির এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সব মিলিয়ে বিক্রি হয়েছে ১৫ হাজার ১১৩ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল বাবদ শোধ করা হয়েছে ৩ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা। এ হিসাবে নিট বিক্রির পরিমাণ ১১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। এই অংক বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৬০ শতাংশ।

এদিকে সূত্র জানায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ১৯ হাজার ৬১০ কোটি টাকা ‘ধার’ করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। উল্লেখ্য আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল শোধের পর যা অবশিষ্ট থাকে তাকে বলা হয় নিট বিক্রি।

অবশ্য সঞ্চয়পত্র বিক্রির অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। সেজন্য সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের প্রতি মাসে সুদ দিতে হয়। এ কারণে অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তথ্য বিশ্লেষণে আরো দেখা যায়, গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ের তুলনায় এবার সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ৬ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল।

সূত্র জানায়, ব্যাংকগুলোতে আমানতের সুদ হার কমায় মানুষ সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকেছে। তুলনামূলভাবে বেশি সুদ হওয়ায় যার যা সঞ্চয় আছে, তা দিয়ে তারা এখন সঞ্চয়পত্র কিনছে। 

বিনিয়োগে মন্দার কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই ব্যাংকগুলোতে বিপুল অংকের অর্থ পড়ে আছে, যাকে ‘অলস অর্থ’ বলা হচ্ছে। এই অলস অর্থের কারণে আমানতের সুদ হার কমিয়েই চলেছে ব্যাংকগুলো।

স্থায়ী আমানতের বিপরীতে বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গড়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশ হারে সুদ দিচ্ছে, যা সঞ্চয়পত্রের সুদের তুলনায় অনেক কম। ২০১৫ সালের মে মাসে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদ গড়ে ২ শতাংশ হারে কমানোর পরও ১১ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পাওয়া যায়।

 লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল ১৫ হাজার কোটি টাকা। সুদের হার কমানোর পরও বিক্রি না কমায় সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ২৮ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়। অর্থবছর শেষে দেখা যায়, সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ৩৩ হাজার ৬৮৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা ধার করেছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ