সোমবার ১২ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

এমপি বদির ৩ বছর কারাদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার : দুর্নীতির মামলায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেছিল। গতকাল বুধবার ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার এ রায় দেন।

কারাদণ্ড ছাড়াও তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় এমপি বদি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষে ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য নিয়েছেন আদালত। কক্সবাজার-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বদি যুক্তিতর্কের দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি মামলার শুরু থেকেই অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

এদিকে সংসদ সদস্য হলেও কারাগারে ডিভিশনের কোনও সুবিধা নিতে পারবেন না আব্দুর রহমান বদি। তাকে সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গেই থাকতে হবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির জানিয়েছেন, ‘বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বদি কারাগারে পৌঁছেন। তবে তিনি এমপি হলেও ডিভিশন পাবেন না। কারণ, তিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। সাজা পাওয়ার আগে পর্যন্ত আসামিকে কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্রে ডিভিশন দেওয়া হয়। যেখানে তিনি বাড়তি কিছু সুবিধা উপভোগ করতে পারতেন এবং সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে থাকতে হতো না।

রায়ের পর দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন বলেন, সংসদ সদস্য বদির বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাই তাকে জেল-জরিমানার দণ্ড দিয়েছেন আদালত। বদির আইনজীবী নাসরিন সিদ্দিকা বলেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, রায় ঘোষণার ধার্য দিনে সকাল ১০টার পর আদালতের এজলাস কক্ষে আসেন বদি। এরপর তাকে ঘিরে মোবাইলে ছবি তোলা শুরু হয়। 

এর আগে ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর ঢাকার সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর বদিকে কিছু দিন কারাগারে কাটাতে হয়েছিল। পরে তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে ছাড়া পান। গত বছরের ৭ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মঞ্জিল মোর্শেদ ঢাকার সিএমএম আদালতে আওয়ামী লীগ এমপি বদির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগপত্রে বদির ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৯৪২ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য তুলে ধরা হয়।

এজাহারে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আবদুর রহমান বদি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৯ টাকা মূল্যমানের সম্পদের তথ্য গোপন করে বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য দেন। দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের বৈধতা দেখানোর জন্য কম মূল্যে সম্পদ ক্রয় দেখিয়ে ১ কোটি ৯৮ লাখ ৩ হাজার ৩৭৫ টাকা বেশি মূল্যে বিক্রি দেখানো হয়েছে।

এদিকে অনেকটা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকা বদি বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছেন। কখনও মাদকের নেটওয়ার্ক চালানোর অভিযোগে, কখনও-বা সাংবাদিক পেটানোর দায়ে। গাছে বাসা বানিয়েও আলোচনায় এসেছিলেন এই বদি।

বদির বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসারও অভিযোগ রয়েছে। শুধু বদি-ই নন, তার ভাই-বেয়াই, মামা-ভাগ্নেসহ পরিবারের অন্তত ১০ জন ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বদির কাজকর্মে অনেকেই চমকে ওঠেন, তার পরিবারের উত্থান তার চেয়েও কম চমকপ্রদ নয়। কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয় বদিকে ‘হীরক রাজা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ক’দিন আগে নিজ ফেসবুক পাতায় বদিকে নিয়ে ‘হীরক রাজার গল্প’ শিরোনামে বিশাল এক স্ট্যাটাস দেন এই ছাত্রলীগ নেতা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ