সোমবার ১২ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

দোকান মালিকদের ধর্মঘটে ভোগান্তিতে রাজধানীবাসী

ভ্যাট অফিসারদের হয়রানি ও ভ্যাট প্যাকেজ বহাল রাখার দাবিতে গতকাল বুধবার মার্কেট বন্ধ রাখে ব্যবসায়ীরা। ছবিটি নবাবপুর এলাকা থেকে তোলা -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : প্যাকেজ ভ্যাট বহাল রাখাসহ কয়েকটি দাবিতে ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরামের ডাকা ধর্মঘটে ঢাকায় দোকান ও বিপণী বিতান বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে রাজধানীবাসীকে। গতকাল বুধবার সকালে শুরু হওয়া ধর্মঘট সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে জানিয়ে ঐক্য ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবু মোতালেব বলেছেন, ২০ নবেম্বরের মধ্যে দাবি না মানলে বড় কর্মসূচিতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। 

পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলোয় সরেজমিনে দেখা গেছে, সব মার্কেট ও দোকান বন্ধ ছিল। পুরান ঢাকায় পণ্য ও মার্কেটভিত্তিক ব্যবসায়িক সংগঠন ধর্মঘটের সমর্থনে দোকানের সামনে ব্যানার ঝুলিয়ে রাখা হয়। তারা এলাকায় মাইকিংও করছে এবং মূসক কমানোর দাবি জানিয়ে মিছিল বের করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সব মার্কেট ও দোকান বন্ধ দেখা গেছে। জরুরি প্রয়োজনে দোকানে গিয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে মানুষকে। ইস্কাটনের বাসিন্দা আজিজ হাসান জানান, সকালে জরুরি প্রয়োজনে শাহবাগের আজিজ কো-অপারেটিভ মার্কেটে গিয়ে বন্ধ পেয়েছেন তিনি। বন্ধ পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয় বলে জানান তিনি। তবে পাশেই বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ওষুধের দোকানগুলো খোলা রয়েছে বলে তিনি জানান।

পুরান ঢাকায় বিভিন্ন মার্কেটের সামনে ধর্মঘটের সমর্থনে ব্যবসায়িক বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানার ঝুলতে দেখা গেছে। ধর্মঘটের সমর্থনে মিছিলও করেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে দোকান মালিকরা প্যাকেজ ভ্যাট বা বিক্রির উপর বছরে নির্দিষ্ট অঙ্কের ভ্যাট এনবি আরকে দিয়ে থাকেন। তবে ২০১২ সালের ‘মূসক ও সম্পূরক শুল্ক আইন’-এ তা পরিবর্তন করে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায়ের নিয়ম করা হয়। চলতি বছরের জুলাই থেকে নতুন পদ্ধতিতে ভ্যাট আদায়ের কথা থাকলেও ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে অর্থমন্ত্রী তা এক বছর পিছিয়ে দেন। তবে প্যাকেজ ভ্যাটের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। ব্যবসায়ীরা এখনও প্যাকেজ ভ্যাট বহালের দাবি জানিয়ে আসছেন। সেই সঙ্গে এনবি আর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগও তাদের। দাবি আদায়ে গত ২৭ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে ২ নবেম্বর ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছিল ঐক্য ফোরাম।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবু মোতালেব দুপুরে বলেন, প্যাকেজ ভ্যাট আগের মতো পুনর্বহাল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যাট, ৩৬ লাখ টাকা থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ৩ শতাংশ টার্নওভার কর এবং ভ্যাট কর্মকর্তাদের হয়রানি বন্ধে রাজধানীর সকল মার্কেট ও দোকান আজ (বুধবার) সারাদিন বন্ধ থাকবে। তিনি আরও বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পাশাপাশি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নিজ নিজ দোকানের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন ব্যবসায়ীরা। এরপরও আমাদের দাবি মানা না হলে আমরা বৃহৎ কর্মসূচিতে যাবো।

বৃহৎ কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে আবু মোতালেব বলেন, বৃহৎ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে রাজধানীর সব মার্কেট বন্ধ রেখে প্রশাসন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি প্রেরণ, রাস্তায় লাগাতার কর্মসূচি ইত্যাদি। আমাদের দাবির সঙ্গে এফবিসিসিআইসহ সব ব্যবসায়ীদের সমর্থন রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সামনে গত রোববার এক প্রতিবাদ সমাবেশে এ কর্মসূচি দিয়েছিল ঐক্য ফোরাম। গত মঙ্গলবার সংগঠনটির নেতারা জানান, কর্মসূচি পালনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তারা সেদিন দিনভর বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দাবি না মানলে বৃহৎ কর্মসূচিতে যাওয়া হবে বলে জানায় ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরাম।

নতুন মূসক আইনে প্যাকেজ মূসকব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা, মূসকের পরিমাণ কমানো, লেনদেন সীমা তুলে নেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। চলতি বছরের বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নতুন মূসক আইনের বাস্তবায়ন এক বছর পিছিয়ে দিলেও সর্বনিম্ন প্যাকেজ মূসকের পরিমাণ ঢাকায় ১৪ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮ হাজার টাকা করেন। পাশাপাশি লেনদেন সীমা ৮০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে দেন। এসব নিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা আপত্তি করছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ