সোমবার ১২ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

তারা একদলীয় দৃষ্টিতেই রাজনীতি করে যাচ্ছেন

গতকাল বুধবার পল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ৭ নবেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সরকার বিএনপিকে সমাবেশ করা অনুমতি দিবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জনান। এর আগে দলীয় কার্যালয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৃহত্তর ঢাকা জেলা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, মন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা অংশ নেন। এছাড়া ২০০৮ সালে যারা বিএনপি পক্ষে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তারাও সভায় যোগ দেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ৭ নবেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংগতি দিবস উপলক্ষ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের প্রস্ততি নেওয়া হচ্ছে। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালনের এ জন্য ঢাকা মহানগর বিএনপি, অঙ্গ দলগুলো প্রস্তুতি সভা করেছে।

সমাবেশ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তেব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্য স্বৈরাচারী। তারা এখন একদলীয় দৃষ্টিতেই রাজনীতি করে যাচ্ছেন। আমরা বারবার বলেছি, সংঘাতের রাজনীতি চাই না। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চাই। সুষ্ঠু, সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই।

৭ নবেম্বর সমাবেশের অনুমতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আশা করি আমরা অবশ্যই সমাবেশ করার অনুমতি পাব। জনগণের আশা আকঙ্খার প্রতিফলণ ঘটাতে পারব। তিনি বলেন, সমাবেশের অনুমতির জন্য যাথযথ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে। সরকারের এখন পর্যন্ত নেগেটিভ কিছু বলেনি। আশা করি আমরা অবশ্যই অনুমতি পাব।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িবাড়ি তল্লাশি চালানো হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার আমাদের নেতাকর্মীদের বাদিবাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এটি কোনো গণতান্ত্রিক আচরণ হতে পারে না। ফখরুল বলেন, সরকারি দলের কয়েকজন নেতার ভাষা স্বৈরাচারী। একদলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে তারা রাজনীতি করছেন। আমরা বার বার বলেছি, আমরা সংঘাতের রাজনীতি চাই না। তিনি বলেন, একটা সমাবেশ করা হবে, তার জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্ট করা হচ্ছে। আমি আশা করি তারা (সরকার) এ থেকে সরে আসবে। এটা সবাই আমরা চাই। যশোরের মনিরামপুরের শ্রমিকদল নেতা আনিসুর রহমানকে সাদা পোশাকের পুলিশ গ্রেফতারের পর ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ফখরুল। এসময় তিনি ৭ নবেম্বরের আগে দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবীব উন নবী খান সোহেলসহ কারাগারে আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেন।

সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, এডভোকেট আহমদ আজম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি নেতা গৌতম চক্রবর্তী, অপর্ণা রায় প্রমুখ।

এছাড়া ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, সহসম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, গাজীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক স্যাইয়েদুল আলম বাবুল, নরায়ণগঞ্জ জেলা তৈমূর আলম খন্দকার, টাঙ্গাইলের জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুর আলম তোফা, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. দেওয়ান সালাহ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আবু আশফাক, মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ