সোমবার ১২ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

এবিসি-ওয়াশিংটন পোস্টের সর্বশেষ জরিপ প্রত্যাখ্যান হিলারি শিবিরের

৮ নবেম্বরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে এবিসি-ওয়াশিংটন পোস্টের চালানো সর্বশেষ জরিপ প্রত্যাখ্যান করেছে হিলারি ক্লিনটনের প্রচারণা দলের কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার প্রকাশিত এ জরিপে দেখা গেছে, জনপ্রিয়তায় হিলারি ক্লিনটনকে এক পয়েন্ট পেছনে ফেলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ধারণা করা হচ্ছে, ই-মেইল কেলেঙ্কারিতে নতুন করে হিলারির বিরুদ্ধে মার্কিন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর তদন্ত শুরুর ঘোষণার পর হিলারির জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। তবে জরিপের ফল প্রত্যাখ্যান করে হিলারি শিবির থেকে একে ‘বাজে ভোটিং’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। তারা বলছেন, এফবিআই-এর ওই ঘোষণায় হিলারির ওপর ভোটারদের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। এএফপি, সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান। 

এবিসি টেলিভিশন এবং ওয়াশিংটন পোস্ট পরিচালিত এ জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৪৬ শতাংশ ভোটার বলেছেন, তারা নির্বাচনে ট্রাম্পকে সমর্থন দেবেন। অন্যদিকে, শতকরা ৪৫ ভাগ ভোটার বলছেন, তারা হিলারি ক্লিনটনকে সমর্থন করবেন। 

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে এ জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশিত হয়। গত ২৭ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত এ জরিপ কাজ পরিচালনা করা হয়। এতে টেলিফোন ও মোবাইল ফোনে প্রাপ্তবয়স্ক ১ হাজার ৭৭৩ জন মার্কিন নাগরিকের মতামত নেয়া হয়। 

হিলারির নির্বাচনী প্রচারণা দলের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য অবশ্য স্বীকার করেছেন যে, দুই প্রার্থীই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্যে রয়েছেন। এবিসি টেলিভিশন এবং ওয়াশিংটন পোস্টের চালানো সর্বশেষ জরিপের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি একে ‘বাজে ভোটিং’ বলে মন্তব্য করেন। 

তিনি বলেন, আমরা সবাই যা দেখছি, এখানে তার প্রতিফলন নেই। কঠিন লড়াই হচ্ছে কিন্তু এই জরিপের ফলকে সঠিক বলার মতো কিছু আমরা দেখছি না। 

উল্লেখ্য, মার্কিন নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি থাকতেই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে এফবিআই-এর নতুন করে তদন্ত শুরু করার খবরটি সামনে আসে। হিলারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে ২০০৯-২০১৩ সাল পর্যন্ত ব্যক্তিগত সার্ভার থেকে ই-মেইল আদান-প্রদান করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে আদান-প্রদান করা ই-মেইলগুলোতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়েরও উল্লেখ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের নিয়ন্ত্রিত চ্যানেল ছাড়া ক্লাসিফায়েড তথ্য আদান-প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ধরনের অনিরাপদ চ্যানেলের মাধ্যমে অতি গোপনীয় ই-মেইল ফাঁস হওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করে মার্কিন সরকার। তবে ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও হিলারির দাবি, তিনি ভুল কিছু করেননি। 

আগামী ৮ নবেম্বর অনুষ্ঠিত হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এ নির্বাচনে ২০০ মিলিয়ন রেজিস্টার্ড ভোটার রয়েছেন। এরই মধ্যে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আগাম ভোট দিয়েছেন ২০ মিলিয়ন ভোটার। 

নারীদের সঙ্গে ষাঁড়ের মতো আচরণ করেছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার একে অপরকে আক্রমণ করে বক্তব্য রেখেছেন। এদিকে নতুন জনমত জরিপে দেখা গেছে, শেষ সপ্তাহে দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান একেবারেই কমে গেছে। উইসকনসিনে ট্রাম্প হিলারির ই-মেইল নিয়ে এফবিআইয়ের নতুন তদন্তের বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন। ট্রাম্প তার বক্তৃতায় হিলারির ব্যক্তিগত ই-মেইল সার্ভার ব্যবহারের ব্যাপক সমালোচনা করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে ফ্লোরিডায় হিলারি নারীদের প্রতি ট্রাম্পের অশোভন আচরণ নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বলেছেন, ট্রাম্প নারীদের সঙ্গে ষাঁড়ের মতো আচরণ করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের নারীদেরকে অবনমন, খাটো করে উপস্থাপন, অপমান ও আঘাত করার ৩০ বছরের ইতিহাস রয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প হিলারিকে ‘দুর্নীতিবাজ’ আখ্যায়িত করে বলেন, তিনি আমেরিকার স্বাস্থ্য সেবা চিরদিনের জন্য ধ্বংস করে দেবেন। ফ্লোরিডায় বক্তৃতাকালে হিলারি বলেন, মানুষকে আক্রমণ করে কথা বলা যে সঠিক নয়, তা তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই শিখেছেন। ফ্লোরিডায় বক্তৃতাকালে মঞ্চে হিলারির সঙ্গে সাবেক মিস ইউনিভার্স অ্যালিসিয়া মাচাদো ছিলেন। মাচাদো এর আগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তার সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ করেছিলেন। মাচাদো তার বক্তৃতার সময় ট্রাম্পকে নিষ্ঠুর ব্যক্তি উল্লেখ করে বলেন, তার কথা শুনে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ওহাইতো এক সমাবেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও হিলারির সুরে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প সারাজীবন নারীদের শুকর ছানা, কুকুর ও বোকা মনে করে এসেছেন। ২০০৫ সালে ধারণ করা নারীদের সঙ্গে ট্রাম্পের অশোভন আচরণের একটি ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি বেকায়দায় পড়ে যান। এরপর একের পর এক তার বিরুদ্ধে নারীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। ওয়াশিংটন পোস্টে প্রচারিত ওই ভিডিও টেপে দেখা গেছে ট্রাম্প সগর্বে এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টার বর্ণনা দিচ্ছেন। সুন্দরী নারী দেখলেই তিনি চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেন বলেও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তারকা হলে পুরুষ নারীর সঙ্গে যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারে।’ ট্রাম্প অবশ্য নারীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের কথা অস্বীকার করেন। এমনকি নির্বাচনের পর এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করারও হুমকি দেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার তার বক্তৃতায় হিলারিকে অ্যাফরডেবল কেয়ার অ্যাক্ট নিয়ে আক্রমণ করেন। তিনি একে ওবামাকেয়ার হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে দিন দিন এটা অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং তারা তাকে ভোট দেবেন। উইসকনসিনে বক্তৃতা দেয়ার সময় মঞ্চে তার সঙ্গে রানিং মেট মাইক পেন্স ও গভর্নর স্কট ওয়াকার উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্প ওবামাকেয়ারকে একটা ‘বিপর্যয়’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হলে এটা সংশোধন ও বাদ দিতে তিনি কংগ্রেসের বিশেষ অধিবেশন ডাকবেন। তিনি আগাম ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা যারা হিলারিকে ভোট দিয়ে ভুল করেছেন তারা বৃহস্পতিবার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করুন। 

এবার বিল ক্লিনটনের ক্ষমা-মামলার নথি প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের ব্যক্তিগত ই-মেইল নিয়ে নতুন করে তদন্তের ঘোষণা দেয়ার পর এফবিআই এবার আকস্মিকভাবে তার স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের ক্ষমা করা একটি মামলার নথি প্রকাশ করেছে। 

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ডেমোক্রেটিক দলের এক দাতার স্বামীকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের ক্ষমা করা সংক্রান্ত একটি নথি প্রকাশ করেছে এফবিআই। নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এ নথি প্রকাশ সবাইকে বিস্মিত করেছে। 

ব্যবসায়ি মার্ক রিচকে ক্ষমা করা সংক্রান্ত ১২৯ পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ ডেমোক্রেটদের মনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এতে হিলারি ই-মেইল তদন্তের ঘোষণায় আগে থেকে ক্ষুব্ধ ডেমোক্রেটদের ক্ষোভ আরো বেড়েছে। ২০০৫ সালে কোনো চার্জ ছাড়াই রিচকে ক্ষমা করার ঘটনা নিয়ে এফবিআইয়ের তদন্ত শেষ হয়। 

রিচের নথি সোমবার অনলাইনে প্রকাশিত হলেও মঙ্গলবার এফবিআই এটি তাদের টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করে। 

এফবিআই জানায়, তথ্য স্বাধীনতা আইন (এফওআইএ)’র আওতায় তিন বা তার বেশি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এ নথি প্রকাশ করা হয়েছে। 

হিলারির মুখপাত্র ব্রিয়ান ফালন বলেন, ‘এফওআইএতে মামলার তারিখ এখানে অনুপস্থিত যা উদ্ভট।’

তিনি বলেন, এফবিআই কি এখন ৭০ এর দশকে ট্রাম্পের গৃহায়ন নিয়ে বৈষম্যের নথি প্রকাশ করবে? এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী হলেন রিয়েল স্টেট ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

এফবিআই এক বিবৃতিতে জানায়, আইন মেনে মামলার নথি প্রকাশ করা হয়েছে। এফবিআই ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সামনে আরো তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে। 

যুক্তরাষ্ট্রে কর ফাঁকির জন্য রিচ অভিযুক্ত হন। এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় তার নাম ছিল। এ সময় তিনি পালিয়ে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের সময় তিনি সুইজারল্যান্ডে নির্বাসিত জীবনযাপন করছিলেন এবং ২০১৩ সালে তিনি সেখানেই মারা যান। 

২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি ক্ষমতার শেষ দিনে বিল ক্লিনটন ব্যবসায়ী রিচকে ক্ষমা করে দেন। এফবিআই ওই বছর তাকে ক্ষমা করার বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। 

রিচের সাবেক স্ত্রী ডেনিস আইজেনবার্গ রিচ ডেমোক্রেটিক দলের একজন বড় দাতা ছিলেন। 

আইএসের জন্য হিলারির অর্থ সংগ্রহের প্রমাণ ফাঁস

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আইএসের প্রতিষ্ঠাতা। আইএসের জন্য যাদের কাছ থেকে হিলারি অর্থ সংগ্রহ করেছেন, সেসব দেশের নামসহ পুরো তালিকা প্রকাশ করেছে উইকিলিকস, এমনটাই জানিয়েছে উইকিলিকস। এসব তথ্য প্রকাশের পর হিলারির জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছেন। কনজারভেটিভ ডেইলি পোস্ট জানিয়েছে, উইকিলিকস হিলারির যেসব ই-মেইল ফাঁস করেছে, তাতে আইএস প্রতিষ্ঠায় হিলারি এবং ওবামার সম্পৃক্ততার শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে। অথচ বেশ কিছু প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম এসব খবর প্রকাশ করছে না। 

ডেইলি পোস্ট বলেছে, ‘হিলারি বর্তমান সময়ে কী কী করছে- তার চেয়ে ট্রাম্পের অতীত ইতিহাস নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতেই বেশি পছন্দ করছে গণমাধ্যমগুলো। কিন্তু আমরা তাদের মতো নই। আইএসের সঙ্গে হিলারির যে সম্পৃক্ততা রয়েছে সাহসী এবং দেশপ্রেমিক জুলিয়ান অ্যাসেঞ্জের মতো আমরাও সেগুলোর প্রমাণ দেবো। কেননা আমরা যতোটুকু ধারণা করেছি আইএসের সঙ্গে হিলারির তার চেয়ে অনেক বেশি সম্পৃক্ততা রয়েছে।’

হিলারির ফাঁস হওয়া ই-মেইলে আইএস এবং অন্যান্য সুন্নি সংগঠনকে অর্থ সহায়তায় কাতার এবং সৌদি আরবের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সৌদি আরব এবং কাতারের কাছ থেকে বড় ধরনের অর্থ সহায়তা পাওয়ার কথা বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন হিলারি। কিন্তু এই দুটি দেশ থেকেই তিনি সবচেয়ে বেশি অর্থ সহায়তা পেয়েছেন। 

হিলারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি করেছিলেন। ওইসব দেশ হিলারিকে তার সংগঠনের জন্য বড় ধরনের অর্থ সহায়তা দিয়েছিল। হিলারির কারণেই এসব অস্ত্র সৌদি, কাতার এবং লিবিয়া হয়ে জঙ্গিদের হাতে পৌঁছেছে। আর এভাবেই জন্ম হয়েছে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের। 

‘নির্বাচিত হলে উচ্চাভিলাষের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ হবেন হিলারি’

আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য এ মুহূর্তে চলছে শেষ সময়ের প্রচারণা। জনমত জরিপগুলোতে মোটা দাগে হিলারি এগিয়ে থাকলেও নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক মনে করেন, হিলারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে নিজের উচ্চাভিলাষের জন্য তিনি প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারেন। সোমবার টিবিএস টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন আশঙ্কার কথা জানান ওবামা। 

ওবামার পূর্বপুরুষরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন না। সে বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করে উপস্থাপক সামান্থা বি তাকে প্রশ্ন করেন, একজন নারী হিসেবে হিলারি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তার অভিজ্ঞতাও কি একই রকমের হবে?

উত্তরে ওবামা বলেন, এটা একটা মজার প্রশ্ন। আমার মনে হয়, আমাদের দুজনের মধ্যে যে সাদৃশ্য পাওয়া যাবে তা হচ্ছে হিলারি ‘ক্লান্ত, ভাবগম্ভীর ও আবেগপ্রবণ’ হয়ে পড়বেন। 

এ পর্যায়ে উপস্থাপক সামান্থা বি বলেন, ব্যাস এটুকুই?

এ প্রশ্নের জবাবে ওবামা বলেন, তার ব্যাপারে কিছু বিষয় আছে। একজন পুরুষ যখন উচ্চাভিলাষী হন, তখন বিষয়টাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা হয়। ভালো অবশ্যই তাদের উচ্চাভিলাষী হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু যখন নারীরা উচ্চাভিলাষী হন; তখন প্রশ্ন উঠে। কেন? আমার মনে হয়, হিলারি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পেলেও সমাজে এমন চিন্তাধারা অব্যাহত থাকবে। 

এ সময় হিলারি ক্লিনটনকে ট্রাম্পের ‘নোংরা নারী’ বলার কথা মনে করিয়ে দেন সামান্থা বি। 

সাক্ষাৎকারে তরুণদের ভোটদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ওবামা। এ সময় তিনি বলেন, এই প্রথমবারের মতো তার কন্যা মালিয়া একটি নির্বাচনে ভোট দিয়েছে। 

উপস্থাপক সামান্থা বি বলেন, মানুষ যদি ভোট না দেন তাহলে কি হবে এটা নিয়ে একটা ভৌতিক গল্প বলুন। উত্তরে ওবামা বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হতে পারেন। ’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ