সোমবার ১২ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

ঐতিহাসিক জেল হত্যা দিবস আজ

স্টাফ রিপোর্টার : আজ ৩ নবেম্বর। ঐতিহাসিক জেল হত্যা দিবস। জাতীয় চার নেতাকে, মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে ১৯৭৫ সালের এদিনে ঢাকা কেন্দ্রিয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। এছাড়া ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ দিবসটিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। 

সূত্র জানায়, কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় এ ধরনের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এর আগে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর তার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী চার জাতীয় নেতাকে গ্রেফতার করে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে পাঠানো হয়। 

জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যার এ ঘটনায় তখনই লালবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ২১ বছর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার জেলহত্যা মামলার প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করে। এরপর দীর্ঘ ৮ বছরেরও বেশি সময় বিচার কাজ চলার পর গত জোট সরকারের সময়ে ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২০ আসামীর মধ্যে ১৫ সাবেক সেনা কর্মকর্তার শাস্তি এবং অপর ৫ জনকে খালাস দেয়া হয়। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে পলাতক তিন আসামীর মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। 

বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে ২০০৮ সালে হাইকোর্ট মোসলেমের মৃত্যুদণ্ডবহাল রাখলেও মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই আসামী মারফত আলী ও হাশেম মৃধাকে খালাস দেন। এ ছাড়া যাবজ্জীবন কারদণ্ড পাওয়া ফারুক, শাহরিয়ার রশিদ, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহমেদকেও খালাস দেন হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করলে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেয়া রায় বাতিল করে বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন। 

প্রায় পৌনে তিন বছর পর জেলখানায় জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলায় দুই আসামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল বহিষ্কৃত দুই সেনা সদস্য দফাদার আবুল হাশেম মৃধা ও দফাদার মারফত আলী শাহকে নিম্ন আদালতে দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখে রায় দেন আপিল বিভাগ। সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দিয়েছিলেন। ওই বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি মো.আবদুল ওয়াহাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি মো. ইমান আলী। 

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো:আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেছেন, শোককে শক্তিতে পরিণত করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন তথা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বাস্তবায়নে সবাই নিজ নিজ অবস্থানে থেকে অবদান রাখবেন-এটাই হোক জেলহত্যা দিবসের অঙ্গীকার। 

রাষ্ট্রপতি বলেন, ৩ নবেম্বর, জেলহত্যা দিবস। আমাদের জাতীয় জীবনে এক শোকাবহ দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামান বন্দী অবস্থায় ঢাকা কেন্দ্রিয় কারাগারে স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্রের হাতে নির্মমভাবে শাহাদত বরণ করেন। তিনি এই দিবসে জাতীয় চার নেতাকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। সাথে সাথে তিনি জাতীয় চার নেতার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত ও উন্নয়ন বিঘিœত করতে প্রতিক্রিয়াশীল চক্র সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তিনি এই সংঘবদ্ধ অপশক্তির দেশবিরোধী চক্রান্ত নস্যাৎ করতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতীয় চার নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। 

শেখ হাসিনা দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, চক্রান্তকারী এবং গণতন্ত্র ও স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি হাত-পা গুটিয়ে বসে নেই। তারা দেশের গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে বারবার হামলা চালিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছে। 

তিনি বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে কারাগারের অভ্যন্তরে এ ধরনের বর্বর হত্যাকাণ্ড নজিরবিহীন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ড ছিল বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ধারাবাহিকতা। এর মাধ্যমে ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলার মাটি থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নাম চিরতরে মুছে ফেলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস এবং বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : ভোরে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সব শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন এবং কালো ব্যাজ ধারণ। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল সাড়ে সাতটায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদ ও জাতীয় নেতাদের কবরে পুস্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত। চার নেতার মধ্যে এ এইচ এম কামরুজ্জামানের কবর রাজশাহীতে হওয়ায় রাজশাহীতেও কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ। এছাড়া আজ বিকেল ৩টায় ঢাকার কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে (কেআইবি) জাতীয় চার নেতার স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভার সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ৩ নবেম্বর জেল হত্যা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে পালনের জন্য আওয়ামী লীগের সকল শাখা এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী-সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ