সোমবার ১২ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

হতদরিদ্রদের ১০ টাকার চাল প্রদানে অনিয়ম রোধে দুদকের অভিযান শুরু

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর শিরোমণি পুলিশ ক্যাম্প এলাকা থেকে এক ট্রাক ওএমএস’র চাল জব্দ করেছে র‌্যাব-৬ এর সদস্যরা। এদিকে সরকারের মহৎ উদ্যোগ হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি কার্যক্রম লাগাতার অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সুফল নষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মঙ্গলবার থেকে বৃহত্তর খুলনায় সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছে। শুরুতেই মহানগরীর পার্শ্ববর্তী ডুমুরিয়া ও দিঘলিয়া উপজেলায় তারা এ অভিযান চালায়। 

এক ট্রাক চাল জব্দ : মহানগরীর শিরোমণি পুলিশ ক্যাম্প এলাকা থেকে এক ট্রাক ওএমএস’র চাল জব্দ করেছে র‌্যাব-৬ এর সদস্যরা। এ চাল গোপনে বিক্রির সময় জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় র‌্যাবের একটি টিম সিএসডি গোডাউনের অভ্যন্তরে অভিযান চালায় বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দৌলতপুর চালপট্টি থেকে খলিলুর রহমান নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

জানা গেছে, স্থানীয় কয়েকজন ডিলার ও বৈকালী সিএসডি গোডাউন সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সম্পৃক্তায় ওএমএস’র চাল উত্তোলন করে গোপনে বিক্রি করা হচ্ছিল। এক ট্রাক ওএমএস’র চাল ফুলতলায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় ওই ট্রাক আটক হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে এ ঘটনায় জড়িতদের নাম বেরিয়ে আসে।

এদিকে দুদক খুলনার উপ-পরিচালক মো. আব্দুল হাই জানান, দুদকের প্রধান কার্যালয়ের মহাপরিচালক প্রশাসন এর টেলিফোন নির্দেশনা পাওয়ার পর দুদক খুলনার আওতাধীন জেলাগুলোতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করার জন্য মঙ্গলবার লিখিত নির্দেশনা দিয়েছেন। ওই লিখিত নির্দেশনায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি মূল্যের চাল বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ-সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। 

সাঁড়াশি অভিযান সফল করার জন্য খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার জন্য পৃথক ৩টি অভিযানিক দল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি দলে ৩ জন করে সদস্য রয়েছেন। খুলনা জেলার অভিযান পরিচালনা দলের প্রধান করা হয়েছে দুদক খুলনার সহকারী পরিচালক মো. মাহাতাব উদ্দিন। অন্য দুজন সদস্য হচ্ছেন- সহকারী পরিদর্শক শ্যামল চন্দ্র সেন ও কনস্টেবল আলী উজ্জামান। সাতক্ষীরা অভিযানিক দলের প্রধান হচ্ছেন- সহকারী পরিচালক শামীম ইকবাল। অন্য দুজন হলেন- সহকারী পরিচালক নাজমুল হুসাইন ও এএসআই মনিরুজ্জামান। বাগেরহাটে অভিযানিক দলের প্রধান হচ্ছেন সহকারী পরিচালক আবুল হাসেম কাজী। শরণখোলায় ১০ টাকার চালে অনিয়ম বাগেরহাটের শরণখোলায় ১০ টাকা কেজির চালের তালিকা তৈরিতে চরম অনিয়মের আিভযোগ পাওয়া গেছে। তালিকায় নাম রয়েছে এক ইউপি মেম্বর ও তার স্ত্রীসহ পরিবারের ৯ সদস্যের। উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মধ্যে ২নং খোন্তাকাটা ইউনিয়নেই সবচে বেশি অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার চারটি ইউনিয়নে উপকারভোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৪৪১ জন। এর মধ্যে তালিকা থেকে অনেক হতদরিদ্র বাদ পড়লেও রয়েছে কোটিপতি ব্যবসায়ী, সরকারি চাকরিজীবী, ঠিকাদার, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকারসহ অসংখ্য ধনাঢ্য ব্যক্তির নাম। রয়েছে অবিবাহিত ও স্কুল পড়–য়ারাও। সরকার হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এ কর্মসূচি গ্রহণ করলেও প্রকৃতপক্ষে সুবিধা ভোগ করছেন বিত্তবানরাই। প্রশাসনের সঠিক নজরদারি না থাকায় পার পেয়ে যাচ্ছেন অনিয়মকারীরা।

অনুসন্ধান ও এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার ২নং খোন্তাকাটা ইউনিয়নের ৭নং রাজৈর ওয়ার্ডের মেম্বর আ. রহিম হাওলাদার তার নিজের নাম ও তার স্ত্রী আসমা বেগম, বাবা ইউসুফ আলী হাওলাদার, মা রবেজান বিবি এবং ভাই-বোন, ভাগ্নে-ভাগ্নিসহ ৯ জনের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন। একই ওয়ার্ডে সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিন্টু হাওলাদার লুৎফুল কবির মিন্টু, কোটিপতি ব্যবসায়ী আউয়াল তালুকদার, প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার নেয়ামুল ইসলামসহ অসংখ্য বিত্তবানের নাম রয়েছে তালিকায়। ৪নং পূর্ব খোন্তাকাটা ওয়ার্ডে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি হারুন অর রশিদের নামও রয়েছে তালিকায়। চাকরির সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেও তিনি ভাতা উত্তোলন করছেন। ২নং নলবুনিয়া ওয়ার্ডের তালিকায় রয়েছে এলাকার বিত্তবান ও সাবেক ইউপি সদস্য মোশারেফ হাওলাদারসহ অসংখ্য সচ্ছল ব্যক্তির নাম।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) ও তালিকা যাচাই কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ অতুল মণ্ডল বলেন, ইউপি সদস্যসহ তার পরিবারের ৯ জনের নাম থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এভাবে বিভিন্ন এলাকা থেকে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তালিকা যাচাই-বাছাই করে দ্রুত এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ