রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

নড়াচড়া করলেই শ্বাসকষ্ট বাড়ে

অধ্যাপক ডা. ইকবাল হাসান মাহমুদ : কিছু কিছু বক্ষব্যাধি রয়েছে যেখানে প্রধান উপসর্গই থাকে একটু নড়াচড়া অথবা সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গেলে শ্বাসকষ্ট বাড়ে। আবার বিশ্রামে থাকলে শ্বাসকষ্ট এমনিতেই অথবা অল্প ওষুধেই ভালো থাকে। রোগগুলোর মধ্যে ক্রনিক ব্রংকাইটিস এবং এমফাইসিমা অন্যতম। এছাড়াও পুরনো অনেক বক্ষব্যাধির কারণে ফুসফুসের যথেষ্ট ক্ষতি হয়ে থাকলেও এ সমস্যাটি দেখা দিতে পারে। হাঁপানির শ্বাসকষ্ট আবার এমন হয় না। বসে থাকলেও শ্বাসকষ্ট চলতেই থাকে। যদিও অনেক হাঁপানি রোগী আছে যাদের ব্যায়ামে অথবা ভারি পরিশ্রমে হাঁপানি বেড়ে যায়। ক্রনিক ব্রংকাইটিস রোগটি সাধারণত পুরুষেরই বেশি হয়ে থাকে এবং মধ্য বয়সের পর থেকেই তা প্রকাশ পেতে শুরু করে। ধূমপায়ীদের মধ্যে এই রোগটির প্রকোপ বেশি ধোক যায়।
ধূমপান ছাড়াও ধূলা, গাড়ির কালো ধোয়া, কলকারখানার বিষাক্ত পরিবেশ এবং স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ এই রোগের উত্তম সহায়ক। গ্রামের সুন্দর নির্মল পরিবেশে অধূমপায়ী কোন ব্যক্তির মধ্যে এ রোগ খুব কমই দেখা যায়। কারণ পরিবেশ দূষণের হাত থেকে এখনো গ্রামগুলো মুক্ত। সাধারণত কোন ব্যক্তি বছরে অন্তত ৩ মাস ধরে কাশিতে ভুগতে থাকলে এবং এ ভাবে ২ বছরের অধিক হলে আমরা রোগীকে ক্রনিক ব্রংকাইটিসের রোগী বলে ধরে নেই। অবশ্যই এই লক্ষণের সাথে রোগীর বয়স এবং ধূমপানের ইতিহাস যোগ করে দিলে রোগ নির্ণয়টা নিখুঁত হয়।
অনেকে আবার সাধারণ হাঁপানির সাথে এই রোগকে এক করে দেখেন। হাঁপানি এবং ক্রনিক ব্রংকাইটিস সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের দু’টি রোগ, যদিও দুই রোগেই শ্বাসকষ্ট হয়ে থাকে। এই রোগটিতে আক্রান্ত রোগী প্রথমে শীতকালে বেশী শ্বাসকষ্টে ভোগেন এবং পরে সারা বছর ধরেই শ্বাসকষ্ট পেতে থাকেন। রোগী যদি সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করে এবং যদি ধূমপান বন্ধ না করে তবে ক্রমশ: এই রোগটি অবনতির দিকে যেতে থাকে।
এ কারণে আক্রান্তদের শব্দ করে কাশি হয়। সাথে প্রায়ই শ্লেষ্মা বা কফ থাকে। ব্রংকাইটিস জীবাণু দিয়ে হয়ে থাকে। এ রোগের লক্ষণ হলো কাশির সাথে এ মাস ধরে শ্লেষ্মা হয়ে থাকে। প্রতি বছরই একই রোগীর এ রোগ হতে পারে।
এ রোগীর কখনো কখনো কাশি বাড়ে আবার জ্বরও হতে পারে। প্রথম দিকে তরল কাশি থাকে কিন্তু পরে সেটা জীবাণু কর্তৃক সংক্রমিত হয়ে পাকা হলুদ কফে পরিণত হয়।
একটু নড়াচড়া করলেই শ্বাসকষ্ট বাড়া সমস্যাটি বেশি দেখা যায় এমফাইসিমা নামক বক্ষরোগে। এটা এক ভয়ানক শ্বাসকষ্টজনিত রোগ। এই রোগটি মোটামুটিভাবে প্রচলিত একটি দুরারোগ্য বক্ষব্যাধি, যেখানে সমস্যা মানেই কফ কাশি আর শ্বাসকষ্ট। যখন ফুসফুসের কাঠামোর অভ্যস্তরে বাতাস জমে ফুলে ওঠে তখন ফুসফুসের ভিতরের অংশগুলো নষ্ট ও অক্ষম হয়ে স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপ হারিয়ে অকার্যকর হয়ে দাঁড়ায়। এই রোগ একদিনে তৈরি হয় না। মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর ধরে ফুসফুসে তৈরি হয়। এমফাইসিমা অনেক ক্ষেত্রে নিজে নিজেই দেখা দিতে পারে। আবার কিছু কিছু শ্বাসকষ্টজনিত রোগ যেমন ক্রনিক ব্রংকাইটিস অথবা বহুদিনের পুরনো হাঁপানির জটিলতার কারওে এমফাইসিমা রোগটি দেখা দিতে পারে। ক্রনিক ব্রংকাইটিস এবং এমফাইসিমা একে অন্যের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
যদি এমফাইসিমা অন্য কোন রোগের সাথে সম্পৃক্ত না থাকে অর্থাৎ যদি ক্রনিক ব্রংকাইটিস এবং হাঁপানির জটিলতার কারণে না হয়ে থাকে তবে প্রথমদিক থেকেই ব্যাপক শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় এবং রোগী একটু চলাফেরা করলেই আর দম পায় না। পরের দিকে শ্বাসযন্ত্র এবং হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতার জন্য ফেইলিওর দেখা দেয় এবং শরীরের রং বেশ গোলাপী দেখায়।
অপরদিকে এমফাইসিমা যদি ক্রনিক ব্রংকাইটিসের সাথে সম্পৃক্ত থাকে তবে প্রথমদিকে তেমন শ্বাসকষ্ট থাকে না পরের দিকে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। হৃদযন্ত্রের ডান দিকের অংশ অকার্যকর হয়ে হাট ফেইলিওর দেখা দেয়। পায়ে পানি আসে এবং রোগী বেশ নীলাভ থাকে। অর্থাৎ এককথায় বললে এই রোগ দু’টির প্রাণ লক্ষণই হলো শ্বাসকষ্ট। ধূমপান যেহেতু রোগ দু’টির মুখ্য কারণ তাই ধূমপান ছাড়তে হবে। গাড়ির কালো ধোঁয়া মিলকারখানার বিষাক্ত গ্যাস থেকে দূরে থাকতে হবে।
মোবাইল : ০১৭৪৫৯১৯৬৬৪

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ