বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা পাচ্ছেন মুশফিকরা

স্পোর্টস রিপোর্টার : ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় আর টেস্ট সিরিজ ড্র করার পুরস্কার পাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। এই প্রথম কোন শক্তিশালী টেস্ট দলকে হারালো বাংলাদেশ। তাও আবার মাত্র তিনদিনে। এমন একটি জয়ের পর যখন আনন্দে ভাসছে পুরো বাংলাদেশ, তখন মুশফিক-সাকিব-মিরাজদের সংবর্ধনা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইংল্যান্ডকে ১০৮ রানে হারানোর পর রাতেই বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনের মোবাইলে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন টিম বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল এবং মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে। এ তথ্য জানান বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী এবং টিম ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন। তারা জানান, অসাধারণ এক জয় উপহার দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী দলীয় অধিনায়কসহ সাকিব-তামিম এবং মিরাজকে অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে পুরো দল নিয়ে একদিন তার বাসভবন, গণভবনে চায়ের আমন্ত্রণ জানান। টিম ম্যানেজার জানান, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের মুহূর্তে উপস্থিত থাকতে পারেননি বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন। ব্যবসায়িক কাজে ছিলেন সিঙ্গাপুর। তবে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের কারণে সফর সংক্ষিপ্ত করে রাতেই তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং রাত ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে সোজা চলে যান টিম হোটেল র‌্যাডিসন ব্লুতে। সেখানে গিয়েই বিসিবি প্রেসিডেন্ট ফোন করেন প্রধানমন্ত্রীকে। ওই সময়ই প্রধানমন্ত্রী বিসিবি প্রেসিডেন্টের মোবাইলে কথা বলেন ক্রিকেটারদের সঙ্গে। তখনই তিনি তার বাসভবনে ক্রিকেটারদের আমন্ত্রণ জানান। অর্থাৎ ক্রিকেটারদের আমন্ত্রণ জানিয়ে গণভবনে সংবর্ধনাই দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তবে কবে সেই সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে, সে ব্যাপারে এখনও কিছু জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দু-একদিনের মধ্যেই এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হতে পারে। কারণ, ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হবে বিপিএলের চতুর্থ আসর। ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন জানান, বিসিবি প্রেসিডেন্ট টিম হোটেলে পৌঁছার পর ক্রিকেটারদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। একইসঙ্গে তাদের নিয়ে হোটেলেই বিজয় উদযাপন করেন। বিশেষ খাওয়া-দাওয়ারও আয়োজন করেন। এ সময় শুধু ক্রিকেটাররাই নন, বিসিবির প্রায় সব পরিচালক, টিম ম্যানেজমেন্টের সব সদস্য, নির্বাচক কমিটির সদস্য, সব কোচিং স্টাফ উপস্থিত ছিলেন। তবে এরই মধ্যে জানা গেছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা দেবে ক্রিকেট বোর্ড বিসিবিও। গত দু-তিন বছর বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যে সাফল্য অর্জন করেছে, সেজন্য তাদের বিসিবির পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী ৭ নভেম্বর আয়োজন করা হতে পারে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। শুধু টেস্ট সাফল্য নয়, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সাফল্য অর্জনের জন্যও ক্রিকেটারদের আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা দেবে বিসিবি। অর্থাৎ গত দুই বছর যত ক্রিকেটার খেলেছেন বাংলাদেশ দলের হয়ে, সবাই থাকবেন এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। গতকাল ইংল্যান্ডকে হারানোর পর পুরো দল উৎসব করে কাটিয়েছে। রুটিন ভেঙে সব কাজই হয়েছে নির্ধারিত সময়ের পর। রাতভর পার্টি হয়নি কিন্তু এক রুমে ‘আড্ডা’ হয়েছে দীর্ঘক্ষণ। আর আড্ডা কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ১৯ বছর বয়সী মিরাজ। ‘বয়সের সমান দুই টেস্টের উইকেট’-এমন তথ্য নিয়ে হাসাহাসি হয়েছে দীর্ঘক্ষণ। রাতের আড্ডা গভীর রাতে শেষ হলেও সকাল-সকাল ঘুম ভেঙেছে ঠিকই। মিরাজও উঠেছিলেন সকাল ১০টার আগেই। বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন দুপুর ১২টায় ক্রিকেটারদের সঙ্গে দেখা করেন। ফুল তুলে দেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের হাতে। ক্রিকেটারদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে দেন বক্তব্য। এরপর ক্রিকেটাররা একে একে হোটেল ছাড়েন। বিসিবির গাড়িতে একাডেমিতে যান মিরাজ। হোটেল থেকে বের হওয়ার পথে গণমাধ্যমের সামনে আরেকবার মিরাজ, ‘আমার এখনও দীর্ঘ পথ যেতে হবে। আমি যতই খেলব ততই আমার সামনে চ্যালেঞ্জ আসতে থাকবে। ঘরের মাঠে আমি টার্ন পাচ্ছি কিন্তু বাংলাদেশের বাইরে টার্ন পাব না। এজন্য আমাকে সব পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে হবে। নতুন নতুন জিনিস শিখতে হবে। আমি এখনও আগের মিরাজই থাকব। কোনো পরিবর্তন হবে না’।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ