মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২০
Online Edition

অস্ত্রধারী ছাত্রলীগের সেই দুই নেতাকে বহিষ্কার

স্টাফ রিপোর্টার: ছাত্রলীগের নেতা হওয়ায় প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে হকারদের ধাওয়া করলেও আইনগত ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ ওঠছে। হাতের কাছে পেয়েও পুলিশ তাদের আটক করেনি। এমনকি ঘটনার পর পাঁচদিনেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত দায়ের করা হয়নি। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে ও পত্রিকায় অস্ত্রধারী দুই ছাত্রলীগ নেতার ফুটেজ ও ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর গতকাল সোমবার তাদের বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। 

এরা হলেন- ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেন ও ওয়ারী থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান। গতকাল ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শাহাজাদা এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছাত্রলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে এভাবে বহিষ্কারের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী মতের নেতা-কর্মীদের ক্ষেত্রে এর উল্টোচিত্র দেখা যায়। নিরীহ-নিরপরাধ ব্যক্তিদেরও পুলিশ বিনা মামলায় গ্রেফতার করছে। 

ছাত্রলীগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, মো. সাব্বির হোসেন (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ) ও মো. আশিকুর রহমানকে (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ওয়ারী থানা শাখা) দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলিস্তানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের হকার উচ্ছেদ অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেন এই দুই ছাত্রলীগ নেতা। পরদিন গণমাধ্যমে তাদের ছবি প্রকাশ পায়। এরপর তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় ছাত্রলীগ। 

এদিকে রাজধানীর গুলিস্তানে অবৈধ দোকান উচ্ছেদের সময় মহানগর ছাত্রলীগের দুই নেতা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন। তাদের গ্রেফতারের ব্যাপারে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ বিষয়ে কোনো মামলা বা জিডিও হয়নি। শুধু হকার উচ্ছেদের বিষয়ে জিডি করেছে পুলিশ। শুক্রবার পুলিশ জানায়, ছাত্রলীগের নেতা সাব্বির হোসেন ও আশিকুর রহমান কোথায় ওই অস্ত্র পেয়েছিলেন, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত এই উচ্ছেদ অভিযান চালান। এ সময় ছাত্রলীগের নেতা সাব্বির ও আশিকুর পিস্তল ও রিভলবার দিয়ে পুলিশ-র‌্যাবের সামনেই হকারদের ধাওয়া করেন এবং ফাঁকা গুলী ছোঁড়েন। সাব্বির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও আশিকুর ওয়ারী থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। উচ্ছেদ অভিযানের সময় হকারদের সঙ্গে ডিএসসিসির কর্মচারী ও একদল যুবকের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনার সময় সাব্বির হোসেন ও আশিকুর রহমানকে পিস্তল ও রিভলবার হাতে দেখা যায়। তাদের একজনকে ফাঁকা গুলী ছুঁড়তেও দেখা যায়। তবে পরে সাব্বির হোসেন দাবি করেন, তিনি সেখানে গেলেও তার সঙ্গে কোনো অস্ত্র ছিল না।

পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনারের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত উপকমিশনার তারেক বিন রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, সাব্বির ও আশিকুরের ব্যাপারে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের একাধিক দল এই অস্ত্র ব্যবহারের ব্যাপারে অনুসন্ধান করছে। আগ্নেয়াস্ত্র অবৈধ হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অস্ত্র বৈধ হলেও অবৈধভাবে ব্যবহারের জন্য তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। 

 খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরান ঢাকার সিদ্দিকবাজারে সাব্বিরের বাসা। তিনি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ধানমন্ডি ক্যাম্পাসের আইন বিভাগের ছাত্র। আর আশিকুর ওয়ারীর র‌্যাঙ্কিন স্ট্রিটে থাকেন। তিনি ওয়ারীর একটি কলেজ থেকে এবার উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন। সিদ্দিকবাজার ও র‌্যাঙ্কিন স্ট্রিটে গেলে এলাকাবাসী এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা-কর্মী বলেন, সাব্বির ও আশিকুরের রিভলবার ও পিস্তলের লাইসেন্স নেই। তাদের আগ্নেয়াস্ত্র অবৈধ। ছাত্রলীগের নেতা হওয়ার পর তাদের হাতে এই অবৈধ অস্ত্র এসেছে। তারা প্রকাশ্যে এসব আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেন। তাই এলাকাবাসী ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ