বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ বিচার বিভাগের ধীরগতির কারণ

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা বলেছেন, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ বিচার বিভাগের ধীরগতির অন্যতম কারণ। এই অনুচ্ছেদের ফলে অধস্তন আদালতের বিচারকদের পদোন্নতি, বদলি ও শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে এককভাবে গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্বৈত শাসনের ফলে বহু জেলায় শূন্য পদে সময়মতো বিচারক নিয়োগ প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিচারকার্য বিঘœ ঘটে এবং বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি বেড়ে যায়। এ কারণে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনঃপ্রবর্তন চান তিনি।

বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ৯ম বর্ষপূর্তিতে গতকাল সোমবার দেয়া এক বাণীতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এসব কথা বলেন। জরুরি অবস্থার সরকারের সময়ে ২০০৭ সালের ১ নবেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হয়েছিল। 

উল্লেখ্য যে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের কারণে প্রধান বিচারপতির পরামর্শক্রমে সরকারের আইন মন্ত্রণালয় নি¤œ আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরি করে ধাকে। ১৯৭২ সালের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনঃপ্রবর্তন হলে এই নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হবে।

বাণীতে প্রধান বিচারপতি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন সব আদালত ও ট্রাইব্যুনালের ওপর ওই বিভাগের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা রয়েছে। অপর দিকে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ বিচার বিভাগের ধীরগতির অন্যতম কারণ। এই অনুচ্ছেদের ফলে অধস্তন আদালতের বিচারকদের পদোন্নতি, বদলি ও শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে এককভাবে গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্বৈত শাসনের ফলে বহু জেলায় শূন্য পদে সময়মতো বিচারক নিয়োগ প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিচারকার্য বিঘœ ঘটে এবং বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি বেড়ে যায়। এ প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে প্রণীত ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদটি পুনঃপ্রবর্তন হওয়া সময়ের দাবি। যাতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল-নির্ধারণ, পদোন্নতি দান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলাবিধান সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত থাকবে। ওই বিধানটি পুনঃপ্রবর্তন করলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরও সমুন্নত ও সুসংহত হবে এবং বিচার বিভাগের সার্বিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

প্রধান বিচারপতি বাণীতে উল্লেখ করেন বর্তমান বছরে দেশের নি¤œ আদালত থেকে উচ্চ আদালতে মামলা নিষ্পত্তির হার বিগত বছরের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। নি¤œ আদালতের বিচারকের অনুমোদিত পদ সংখ্যা ১৬৫৫; এর মধ্যে ৩৮৭ টি পদ শূন্য রয়েছে। অবশিষ্ট ১২৬৮ জন বিচারক দ্বারা ২৭ লক্ষাধিক মামলা নিষ্পত্তি করা অসম্ভব। তাছাড়া প্রতিদিন নতুন মামলা দায়ের হচ্ছে। সংগত কারণে বর্তমানে শূন্য পদে দ্রুত বিচারক নিয়োগ দেওয়া আবশ্যক। বিদ্যমান বিচারক সংখ্যা কমপক্ষে দ্বিগুণ বৃদ্ধি করলে মামলা দায়ের এবং নিষ্পত্তির মধ্যে ব্যবধান বহুলাংশে কমে আসবে মর্মে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। 

তিনি বলেন, ২০০৭ সালের ১ নভেম্বরে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসী পৃথকীকরণের পর ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তির সংখ্যা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৭ সালে ২ মাসে মামলা নিষ্পত্তির সংখ্যা ৮৩,০৯১ টি এবং ২০০৮ সালে ৪,৪২,৭২৫ টি, ২০০৯ সালে ৪,৬২,২৩৫ টি, ২০১০ সালে ৭,০৯,১১২ টি, ২০১১ সালে ৬,৭১,৬২৮ টি, ২০১২ সালে ৭,২৫,৫২৩ টি, ২০১৩ সালে ৬,৬২,০২২ টি, ২০১৪ সালে ৭,৩৪,৩৫৯ টি, ২০১৫ সালে ৮,৪৭,৩৯৮ টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। ২০১৬ সালে এর সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত ৬,৮২,০৮৫ টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০১৬ পর্যন্ত আরো ২,৫০,০০০ টি মামলা নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করছি। তবে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসীর জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা, জনবল ও অন্যান্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে মামলা নিষ্পত্তির সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেত। এক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের কাক্সিক্ষত ইতিবাচক পদক্ষেপ আশা করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ